জিরো থেকে ১০০ হওয়ার গল্প

আজকে আমি আপনাদের একটি গল্প শোনাবো। গল্পটা জিরো থেকে হিরো হওয়ার।

ছোট্টবেলায় ব্যর্থতা আসলে মজার একটি ব্যাপার। আমার আজো ছোটবেলার এমন কিছু মজার ব্যাপার মনে আছে, যেখানে ব্যর্থতা অনেকাংশেই আমার কাছে মজার ঠেকেছে।

তখন আমাদের চিঙফোর্ডের বাড়ির পাশের মাঠে আমি আর আমার ভাই বাবার সাথে ফুটবল খেলতে যেতাম। খুব ভালো মাঠ ছিলো তা বলব না। কিছু ঘাস আর দুটো গাছ নিয়েই ছিলো এই মাঠ। আমি তখন আর্সেনালের যুব দলের হয়ে খেলতাম। খুব একটা ভালো অবস্থান  যদিও আমার ছিলো না। কিন্তু আমি জানতাম এটি আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ।

একদিন আমি আর আমার বাবা পার্কের মধ্যে হাটছিলাম। হঠাৎ দেখলাম বাবা আমার কাঁধে হাত রেখে বলল, ‘আমার তোমাকে কিছু বলার আছে।’

আমি উত্তরে বললাম, ‘হ্যা, কি?’

তখন বাবা আমাকে বলল, ‘হ্যারি, আর্সেনাল তোমাকে তাদের দল থেকে বাদ দিয়েছে।’

সত্যি বলতে আমি সেই সময় এতোটাই ছোট ছিলাম, আমি জানতামই না এর জন্য আসলে অনুভূতিটা কেমন হওয়া উচিত। কিন্তু আমার আজো মনে আছে আমার বাবা সেই ছোট্ট বয়সে এই ব্যাপারটা কতোটা স্নেহভরে আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। যাতে করে আমার ছোট্ট মনে এই ব্যাপারটি কোন দাগ না কাটে।

তিনি শুধু আমাকে একটা কথায় বলেছিলেন, ‘চিন্তা করো না হ্যারি, আমরা আরো পরিশ্রম করব এবং আরেকটি ক্লাবের জন্য নিজেকে আরো ভালো করে তৈরি করব।’

সেই দিন গুলোর কথা চিন্তা করলে ভাবি, সেই সময়েও আমার বাবা আমাকে কতটা সাহায্য করেছিলো।

আর্সেনাল থেকে বেরিয়ে আমি আমাদের পার্শ্ববর্তী  এক স্থানীয় ক্লাবের হয়ে খেলতে শুরু করি। সেই ক্লাবের হয়ে খেলার সময় ওয়াটফোর্ড ক্লাব আমাকে নজরে নেন। এবং আমি তাদের হয়ে খেলতে শুরু করি।

মজার ব্যাপার হল ওয়াটফোর্ড আর টটেনহ্যামের ম্যাচের পরেই আমি যোগ দেই টটেনহ্যাম হটস্পারে।

পরবর্তীতে আর্সেনাল আর টটেনহ্যামের ম্যাচের সময় আমি শুধু একটি কথাই ভাবতাম, ‘ঠিক আছে,এইবার আমি দেখব কার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিলো,তোমাদের না আমার।’

যেবার আমি প্রিমিয়ার লিগে ১০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করি তখন আমি খুবই আনন্দিত ছিলাম। কারণ টটেনহ্যাম যখন আমাকে দুই বছরের জন্য ঋণ দিয়ে পাঠিয়েছিল তখন প্রিমিয়ার লিগে আমি একটি গোল করতে পারতাম কিনা সন্দেহ ছিলো। কিন্তু আমি মিলওয়ালে যখন খেলা শুরু করলাম তখন বুঝতে পারলাম সেই সময়ের শিক্ষা আমাকে কতটা পোক্ত করেছিল।

মিলওয়েলের সমর্থকদের আমি খুব পছন্দ করতাম। একবার এক ম্যাচে রেফারির একটি ভুল সিদ্ধান্তে তারা ক্ষোভে ফেটে পরে। মাঠের দিকে তাক করে তারা হাতের সামনে যা পেয়েছিল তা ছুড়ে মেরেছিল। কর্তৃপক্ষকে পাঁচ মিনিট খেলা পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হয়েছিলো। সেই দিনই আমি বুঝে গিয়েছিলাম এরা কতোটা ক্ষেপাটে।

এরপরে আমি আসলাম স্পার্সে। এই ক্লাবটিতে আমার পারফরমেন্স ভালোই ছিল। আমি ভেবেছিলাম আমার সেই পারফরমেন্স স্পার্সে টিকে থাকার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু আশায় গুড়েবালি, স্পার্স আমাকে লোনে অন্য ক্লাবে পাঠিয়ে দেয়। আর সেই থেকেই আমার খারাপ সময়ের শুরু।

তাও আমি মনে করি আমার খারাপ সময়ের শুরু আমি যখন লেস্টার সিটির হয়ে খেলতে শুরু করি। তখন ক্লাবটি চ্যাম্পিয়নসে খেলছে। কিন্তু লেস্টার সিটির হয়ে আমার পারফরমেন্স হতাশাজনক ছিলো। আমি শুধু তখন একটা কথাই ভাবতাম, ‘আমি যদি লেস্টারের হয়ে চ্যাম্পিয়নসেই খেলতে না পারি তবে আমি স্পার্সের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে কিভাবে খেলব?’

খারাপ সময় গুলো আমার জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিলো। কিন্তু আমার পরিবার আমাকে এই ক্ষেত্রে সবথেকে বেশি সাহায্য করেছিলো। সব আশা ছেড়ে দিয়ে আমি একদিন আমার বাবাকে বলেই দিয়েছিলাম, ‘আমি খেলা ছেড়ে দিতে চাই।’

কারণ একের পর এক ব্যর্থতা আমাকে বার বার হতাশ করে তুলছিলো। সেবার আমি বুঝতে পেরেছিলাম নিজের জীবন সম্পর্কে সন্দিহান থাকা কতোটা কষ্টের।

কিন্তু বরাবরের মত আমারর বাবা আমার কাঁধে সেই সহযোগীতার হাত রাখলেন আর বললেন, ‘শোনো, তুমি তোমার কাজটুকু করতে থাকো সেই সাথে লেগে থাকো।দেখবে সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে।’

হতাশা জনক এই সময়টায় আমি বুঁদ হয়ে এনএফএল (ন্যাশনাল ফুটবল  লিগ) দেখতাম। তখন আমি অনুশীলনে  না গেলেই ইউটিউবে এনএফএল-এর ম্যাচগুলো দেখতাম নইলে ‘ম্যাডেন’ অথবা ‘নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিওট’-এর ভিডিও দেখতাম।

সেই সময় আমাকে সব থেকে বেশি অনুপ্রাণিত করত টম ব্রাডির জীবনী। একদিন এই অসাধারণ মানুষটিকে নিয়ে করা এক তথ্যচিত্র আমাকে আমার জীবন সম্পর্কে এক নতুন রাস্তার সন্ধান দেয়। তাঁর উত্থান পতনের দিনগুলো আমাকে আমার জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবতে শেখায়।

কয়েকটি ম্যাচের পরে আমাদের সাতে খেলা পরে আমার পুরোনো ক্লাব মিলওয়েলের। এই ক্লাবের এক বড় ডিফেন্ডার সেই খেলায় আমাকে শাসাতে শুরু করে।

সে খেলার মাঠেই আমাকে বলতে শুরু করল, ‘তুমি কি জানো এখন পর্যন্ত আমি একটিও হলুদ কার্ড পাইনি।’

প্রতিউত্তরে বললাম, ‘তাতে কি?’

সে বলল, ‘আজকে সেই হলুদ কার্ডের সূচনা না তোমার ওপর দিয়েই হয়ে যায়!’

সত্যি কথা বলতে সেই ডিফেন্ডার আমাকে শাসাতে লাগল। আমিও তার কথায় কান না দিয়ে খেলতে লাগলাম।

হঠাৎ একটা থ্রো-ইনে  সেই ডিফেন্ডার আর আমি এগিয়ে গেলাম হেড দেওয়ার জন্যে। আচমকা আমি দেখলাম আমার কনুই লাগলো তার বুকের পাজরে। বুকে হাত দিয়ে সে বসে পরলা মাঠে।

আমি তাকে কিছুই বললাম না, শুধু হেটে চলে গেলাম তাকে পাশ কাটিয়ে। এর মাধ্যমে আমি নিজেকে বোঝালাম, বোঝালাম তাঁকেও, সেই সাথে সকলকে, আপনি অন্যের সাথে যা করবেন তা কিন্তু ফিরে আসবে আপনার কাছেই।

সেই মরসুমে আমি টটেনহ্যামের হয়েই খেলছিলাম, দেখা করেছিলাম সেই সময়কার টিম ম্যানেজার আন্ড্রে ভিলাস-বোয়াস এর সাথে। তিনি আবার আমাকে লোনে পাঠিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। বেশ কিছু ভালো ক্লাব ছিল যারা আমাকে নিতে ইচ্ছুক ছিলো কিন্তু আমার স্বপ্ন আমাকে এই ক্লাবটি ছেড়ে যেতে দিচ্ছিলো না। আমার স্বপ্ন শুধুমাত্র প্রিমিয়ার লিগ খেলাতেই সীমাবদ্ধ ছিলো না। আমার স্বপ্ন ছিলো টটেনহ্যামের হয়েই প্রিমিয়ার লিগ খেলা।

তাই আমি সরাসরি ম্যানেজারকে বললাম, ‘আমি যেতে চাই না।’ তিনি আমার দিকে একটু দিশেহারা দৃষ্টিতে তাকালেন।

আমি এইবার  তাকে আরো দ্বিধাহীনভাবে বললাম, ‘আমি শুধু আপনার কাছে একটা ব্যাপারই প্রমাণ করতে চাই, এই ম্যাচের শুরু আমারই করা উচিত। দরকার হলে প্রত্যেক শুক্রবার আপনি আমাকে ডেকে বলুন যে আমি আসলে এর যোগ্য নই এবং আমি খেলতে পারব না। তাতেও কোন সমস্যা নেই কিন্ত দয়া আমাকে ক্লাব ছেড়ে যেতে বলবেন না।’

আমার এই কথাতে তার মনে আমার জন্য কিছুটা জায়গা হল। তিনি আমাকে তার দলে ঠাই দিলেন আর প্রথম দলের সাথেই আমাকে অনুশীলন করার অনুমতি দিলেন।

এই ব্যাপারটি আমার জীবনে এক অন্যরকম দাগ কাটে। আমার জীবনে আত্মবিশ্বাস ফেরাতে এই ঘটনা অনেক বড় একটি ভূমিকা রেখেছিল। আমি শুধু এইটুকুই বুঝতে পারলাম আমার ছোট্টবেলার স্বপ্ন এখন আমার হাতের মুঠোয়।

সেই সাথে অনুভব করলাম জীবনে আপনাকে কোন কিছু নিজে থেকে এসে ধরা দেবে না, আপনাকে তা অর্জন করতে হবে, জাপটে ধরতে হবে।  আমি অনুশীলনে খুবই ভালো করতে শুরু করলাম। কিন্তু আমি তখনো দলের হয়ে খেলার সুযোগ পেলাম না।

এরপর টিম শারউড দলের দায়িত্ব নিলেন এবং আমাকে খেলার সুযোগ করে দিলেন। এরপরের ইতিহাস সবারই প্রায় জানা। আমি শুরু করলাম জ্বলন্ত আগুনের স্ফুলিঙ্গের মত। শুরুর তিনটি ম্যাচেই আমি তিন গোল করলাম।

কিন্তু সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক ছিলো প্রথম গোলটি যেটি আমি হোয়াইট হার্ট লেনে করেছিলাম। সত্যি বলতে এই ম্যাচটি আমাকে বুঝতে শেখায় আমি কে!

তবে এই কথা আমাকে অবশ্যই স্বীকার করতে হবে মাওরিসিও পচ্চেতিনো যখন দলের দায়িত্ব নেন, শুধু আমার নয়, সমগ্র দলের  উপরেই তার একটি ভালো প্রভাব পরতে শুরু করেন। তিনি এসেই দুর্দান্ত এবং প্রগতিশীল কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং দলের সকল সদস্যদের কাছে নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও অনেক সাহায্য করেছিলেন।

তিনি নিজে অসাধারণ একজন খেলোয়াড়  হওয়া সত্ত্বেও সেই ব্যাপারে মাঠে কিছুই বলতেন না। খেলোয়াড় দের সাহায্য করার একজন ভালো কোচের যে দায়িত্ব তিনি সেইটিই ভালো মত পালন করতেন।

মাওরিসিওর সব থেকে ভালো গুন ছিলো, তিনি খারাপ ভালো বিবেচনায় না এনে সব খেলোয়াড়কেই সমান ভাবে সাহায্য করতেন। আপনি যদি তার জন্য সময় বের করতে পারেন তবে সবসময় আপনি তাকে আপনার পাশে পাবেন, এটা আমি নিশ্চিত বলতে পারি।

তবে আমি বলতে পারি আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা ঘটে, কয়েক মৌসুম আগে যেদিন আমি হ্যাটট্রিক করি। মাওরিসি একদিন আমাকে তার অফিসে ডাকলেন। আমি জানতাম তার সাথে আমার একটি ভালো বোঝাপড়া ছিলো কিন্তু তা কতোটা গভীর তা জানতাম না। স্বাভাবিক ভাবেই আমি একটু অবাক হলাম কারণ জানতাম না আসলে তিনি কি চাইছেন।

সময়মত আমি তার অফিসে গেলাম। দেখালাম তিনি হাতে এক গ্লাস রেড ওয়াইন নিয়ে তার ডেস্কে বসে আছেন। আমাকে দেখেই সপ্রতিভ হয়েই বললেন, ‘আসো একটা ছবি তুলি।’

এক হাত আমার কাঁধে, আরেক হাতে ওয়াইনের গ্লাস ধরে তিনি আমার সাথে ছবি তুললেন। সেদিন আমি বুঝতে পারলাম আসলে এই মানুষটা কেনো এতোটা অসাধারণ। তাকে আমি অনেক শ্রদ্ধা করি, একজন ম্যানেজার হিসেবে, একজন বস হিসেবে। মাঠের বাইরেও তার সাথে আমার সম্পর্ক ছিলো বন্ধুর মত। আমাদের দলের প্রত্যকের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক খুব কাছের হওয়ার পিছনে তিনিই একমাত্র কারণ।

প্রত্যাখ্যান আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি ব্যপার। হোঁচট খেয়ে আবার দাড়াতে পারাটাকেই আমার সবচাইতে শ্রেষ্ঠ অর্জন মনে হত। ২০১৫ সালে দিকে আমার প্রথম সূচনা হয় নর্থ লন্ডন ডার্বিতে। আমি আমার জুতার ফিতে বাধঁতে বাঁধতে ভাবতাম আমার সেই এগারো বছর আগের ঘটনা। আর্সেনাল থেকে আমাকে বের করে দেওয়া, একের পর এক উত্থান পতন, সব কিছু আমার চোখে ভাসতো সিনেমার মত।

আমি প্রত্যেক ম্যাচে নামার আগেই নিজেকে অনেকখানি সাজিয়ে নিতাম। কিভাবে গোল করবো, কর্নার থেকে কিভাবে শট নেওয়া যায়, সব কিছু। আমি আমার প্রতিপক্ষের একটি আবছা চিত্রকল্প মাথাতে সাজিয়ে নিতাম আর চেষ্ঠা করতাম সেই ভাবেই এগিয়ে যেতে।

সেবারের ম্যাচের আগে আমার কল্পনাতে এলো আর্সেনালের লাল জার্সি পরা ডিফেন্ডারের ছবি। আমার সারা শরীরে এক অন্যরকম শিহরণ ছড়িয়ে পড়ল।

ম্যাচটিতে আমি গোল করলাম দুইটি। ছিয়াশি মিনিটের মাথায় একটি অসাধারণ হেড করি। বলটি যখন নেটে জড়িয়ে গেলো, সত্যি বলছি জীবনে এতোটা আনন্দ কখনওই পাই নি।

তখন শুধু মনে মনে একটা কথাই ভাবলাম। ১২ বছর আগে কার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিলো বুঝে নাও।

খেলা শেষ হওয়ার পরে পুরো মাঠ ফেটে পড়ল অজস্র হাততালি তে। আমি তখন মনে মনে একটা কথাই ভেবেছি, ‘আমি বলেছিলাম আমার উপর বিশ্বাস রাখো।’

আমার ঝুলিতে এখন প্রিমিয়ার লিগের ১০০ টি গোল। আমি মনে করি এটাই হল উপযুক্ত সময় তাদেরকে ধন্যবাদ জানানোর যারা আমার ওপরে বিশ্বাস রেখেছিলেন।

ধন্যবাদ আমার বাগদত্তা কেট কে। যে আমার পাশে ছিলো, আমার হাতে হাত রেখেছিলো,যখন কোনকিছুই আমার অনুকূলে ছিলো না।

ধন্যবাদ আমার বাবাকে আমার কাধে সেই আশ্বাস ভরা হাতটা রাখার জন্য,যেদিন আর্সেনাল থেকে আমাকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। সেই সাথে ধন্যবাদ আমার সকল পরিবারের সদস্যদের,  যাদেরকে আমি আমার পাশে পেয়েছিলাম আমার সেই লেস্টারের খারাপ দিনগুলোতে।

ধন্যবাদ জানাই আমার মাকে। যার কারণে আমি ছুটে চলেছি সবখানে। সব মায়েদের মত যে আমার পাশে ছিলেন আমার খারাপ সময়টাতে।

ধন্যবাদ জানাই আমার ভাইকে চার্লিকে যে হাজারো ঘণ্টা আমার ১-বনাম-১ এর সাথী হয়েছিল। ধন্যবাদ টম ব্রাডিকে, যার কারণে আমি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছিলাম, ফিরে পেয়েছিলাম নতুন জীবন।

ধন্যবাদ আমার সেই সকল দলের সদস্যদের যারা খারাপ সময়টায় আমার পাশে ছিল। আশ্বাস দিয়ে বলেছিল, ‘তোমার যোগ্যতা আছে।’ ধন্যবাদ জানাই মাওরিসিও পচ্চেটিনিওকে যার কারণে আমি আজকের স্ট্রাইকার।

এবং অবশ্যই ধন্যবাদ টটেনহ্যাম সমর্থকদের। আমার ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিলো স্পার্সের হয়ে খেলার। অনেকদিন ধরেই আমার প্রেরণার অন্যতম উৎস ছিলো আমি আর্সেনালের হয়ে গোল করছি। কিন্তু এখন তা বেশ কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। আমার এখন স্বপ্ন, প্রেরণা সবকিছুর উৎস একটাই, টটেনহ্যামের হয়ে প্রিমিয়ার লিগের ট্রফি হাতে আমাদের নতুন স্টেডিয়ামে দলের সবার সাথে ছবি তোলা।

আগের কয়েক মৌসুমে আমার ট্রফি যেতের খুব কাছেই ছিলাম। কিন্তু ট্রফি হাতে আসেনি।

উত্তরটা একঘেয়ে হতে পারে, কিন্তু বাবার সেই কথাটাই যে এর উত্তর, ‘আমাদেরকে আমাদের সাধ্যমত কাজ করে যেতে হবে,কাজ করতে হবে আর এর সাথে লেগে থাকতে হবে।’

– –  দ্য প্লেয়ার্স ট্রিবিউনে কলামটি লিখেছেন ইংল্যান্ড ও টটেনহ্যাম হটস্পারের স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন।

https://www.mega888cuci.com