জিরো ট্রেইলার: সফলতার নেপথ্যে

‘জিরো’ সিনেমার ট্রেইলার লঞ্চের কয়েকদিন কেটে গেল। ট্রেইলার এসেই তো রেকর্ড ভাঙা শুরু করলো! অবশ্য ডিজার্ভও করে। কিন্তু, এখানে আমি ট্রেইলারের রিভিউ দেবো না। শুধু ‘জিরো’ ট্রেইলারের সফলতার কারণটা বিশ্লেষণ করবো।

প্রথম কারণ হলো নিজের কাজের প্রতি বিশ্বাস। যার কারণে, শাহরুখ স্যার এইসব ঝুকি নিয়েছেন। কারণ, নিজের প্রজেক্টের প্রতি এত বিশ্বাস না থাকলে এটা সম্ভব না। আসলে এটা হলো নিজের থেকে। এই বছরের প্রথম দিনেই বের করা হলো টাইটেল এনাউন্সমেন্ট ভিডিও।

অনেকে আশা করলো যে অফফর্মে থাকা শাহরুখ এইবার বাজি জিতে নিবেন। কিন্তু, তেমনি অনেক ক্রিটিসিজম হলো। কিন্তু তারপরও মুভিটার একটা স্ট্রং বাজ ছিল। এরপর মুভিটা নিয়ে দর্শকের আশা বাড়ানোর জন্য সেট এর থেকে বিভিন্ন ছবি আসলো।

এরপর বলে দেওয়া হলো, অনেক ক্যামিও আছে। অনেকে তাদের পছন্দের স্টারদেরকে একসাথে দেখার জন্য আগ্রহী হয়ে গেল। এরপর যখন সালমান খানের ক্যামিও এর প্রশ্ন আসলো তখন বেশিরপভাগ মানুষই ‘টিউবলাইট’ মুভির কথা স্মরণ করা শুরু করলো।

এরপর মুভির ‘বাজ’টা একেবারে নরম হয়ে যায়। নরম থেকে শক্ত পজিশনে যেতে ইউটিউবে রিলিজ দেওয়া হলো, ‘জিরো ঈদ টিজার’। যেটাতে চমৎকারি ভিএফেক্স, কারান-আর্জুন আর একটা শিওর শট চার্টবাস্টার গানের ছোটো অংশ শুনে মানুষ আরো আগ্রহী হয়ে উঠে।

এক মাস পর, ক্যাটরিনা কাইফের লুক পোস্টার আসলো৷ যেটাতে তার এলকোহলিক লুক দেখে অনেকেই আশ্চার্যান্বিত হয়ে গেছিলেন। অনেকের প্রশ্ন ছিল যে ক্যাট কি তাইলে তার কমফোর্ট জোন থেকে বের হবেন৷ প্রথম থেকেই একটা রিউমার ছিল মুভি নিয়ে যে মুভিটার শুট স্পেস সেন্টারে হবে।

এটার সত্যতা জানার পর আগ্রহতো আকাশচুম্বি। অবশেষে ৩১ শে অক্টোবর আসে দুটো পোস্টার। মানুষের রেসপন্স তো পুরোই পজিটিভ। এরপর শাহরুখ খান দেখান নিজের আসল মার্কেটিং স্ট্র‍্যাটেজি। যেখানে অন্যান্য মেকাররা মুভি রিলিজের আগে স্ক্রিনিং করান সাংবাদিকদের৷ সেখানে শাহরুখ ট্রেইলারের স্ক্রিনিং করে দেন দুইদিন আগে। যেই দেখেছে সেই পজিটিভ বলেছে। অবশেষে আসলো মূল ‘তুরুপের তাস’।

ম্যাজিকটা তখনই হল যখন মিস্টার পারফেকশোনিস্ট খ্যাত আমির খান টুইট করে বসেন। তিনি লিখেন ‘অসাধারণ’। আর কিছু দরকার? বাজ তো তখন ১০০% হয়ে গেছিল। ট্রেইলার রিলিজের আগের দিন, শাহরুখ খান আমির খানের সাথে একটা ছবি দেন। ছবিটা টুইটারেই এক লাখ লাইক করে ফেলে। বাজ কি ছিলো তা আন্দাজ করতে পারছেন!

এরপর, শাহরুখ খানকে আরেকটা ক্রেডিট দিতে হবেই৷ কারণ, অন্যান্য অভিনেতারা যেখানে নিজেরর জন্মদিনে টাইটেল এনাউন্স, লুক পোস্টার সহ বিভিন্ন কিছু রিলিজ করে। আর সেখানে ট্রেইলার রিলিজ দেওয়াটা আসলে অনেক টাফ কাজ৷

কারণ, যদি নেগেটিভ রিভিউ এসে যায়, তাইলে জন্মদিন থেকে কি হয়ে যাবে সেটা সবাই জানে। এই ঝুকির জন্য শাহরুখ স্যারকে স্যালুট। এরপর, শাহরুখ স্যার চালালেন, নিজের দ্বিতীয় চাল। ট্রেইলারটা যেখানে, প্রথমে বাংলাদেশ সময় সাড়ে তিনটায় রিলিজ হওয়ার কথা ছিল।

সেখানে, শাহরুখ স্যার লেট করালেন। এতে ফ্যানরা ইউটিউবে, ধুম সার্চ করা শুরু করলো! রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট ইউটিউব চ্যানেলে ট্র‍্যাফিক বেড়ে গেল। হঠাত করে ৫ টা ১৬ মিনিটে আসে ট্রেইলার। আর ট্র‍্যাফিক এত বেশি থাকায় ৫ টা ২৭ মিনিটে এই ইউটিউব ক্র‍্যাশ হয়ে যায়। এরপর, ভিউ বাড়ছে না দেখে কেউ কেউ অবাক হয়ে যায়। যদিও বেশিরভাগ মানুষের ক্র‍্যাশ সম্পর্কে ধারণা কম।

অবশেষে, পাবলিসিটিতে ১০০-তে ১০০। এরই সাথে কনটেন্টও ১০০ তে ১০০ হওয়ায় রেকর্ড ভাঙা কেউ আটকাতে পারেনি। এটা ছিল আমার মতে, জিরো ট্রেইলারের এই সফলতার কারণ। আর সিনেমা সফল হবে কি হবে না, সেটা তো সময়ই বলে দেবে!

https://www.mega888cuci.com