ফ্ল্যাট নয়, ভরসা দিন! আফতাব নয়, কোহলি বানান!

অনূর্ধ্ব ১৯ দল বিশ্বকাপ জিতেছে, অভিনন্দন জানান। ফুল দিন, সম্মানের সাথে ওদেরকে নিজেদের বাসায় পৌঁছে দিন।

তবে দয়া করে এখনই ফ্ল্যাট উপহারের ঘোষণা দেবেন না। আকবর আলীর মা কিংবা পারভেজ ইমনের বাবাকে ডেকে পাঠাবেন না প্লিজ। কালকে নাবিল ছেলেটা প্রায় সাঙ্গাকারা লেভেলের অসাধারণ একটা ইন্টারভিউ দিয়েছে। তাঁকে টেলিভিশন প্রোডাক্ট বানাবেন না। এদের দিয়ে এখুনি মডেলিং করানোরও দরকার নেই। মিডিয়া ফোকাস সহনীয় পর্যায়ে রাখুন।

বরং ওদেরকে আইসোলেট করুন। আইসোলেট করুন দেশের নোংরা ক্রিকেট সংস্কৃতি থেকে। ২০০৪ সালের যুব বিশ্বকাপে শিখর ধাওয়ান ছিল ইন্ডিয়ার সেরা ব্যাটসম্যান। ধাওয়ান জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছে প্রায় অর্ধ যুগ পরে। ধাওয়ান এখনো উন্নতি করছে নিজের খেলায়, এখনো অজিদের সামনে পেলেই জ্বলে উঠছে বারবার।

সেই বিশ্বকাপের আরেকজন সুরেশ রায়না। প্রায় এক দশক দাপটের সাথে সাদা বলে খেলেছে রায়না৷ দলের বাইরে গেলেও রায়না এখনো আইপিএলের অন্যতম হট কেক।

যতদূর মনে পড়ে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ছিল অ্যালিস্টেয়ার কুক। কুক এখন অবসরে, নামের আগে যোগ হয়েছে ‌‌স্যার’ উপাধী। হ্যাঁ, সেই বিশ্বকাপের একজন ক্রিকেটার এখন নাইট। ভাবা যায়!

একই বিশ্বকাপে আমাদের স্টার ছিল নাফিস ইকবাল। নাফিস ইকবালের লাস্ট যে খবর শুনেছিলাম, আইপিএল এ ফিজের দোভাষী হিসেবে কাজ করতে নাকি ভারতে গিয়েছিলেন দুই বছর আগে। আহারে আইপিএল!

আরেকজন আফতাব আহমেদ। অনেক আগে কোন ছিনতাইকারী হারিকেন দিয়ে বাড়ি মেরে তার মুখ ভচকায়া দিয়েছে বলে পত্রিকায় খবর এসেছিল। এখন নাকি টুকটাক কোচিং করাচ্ছেন।

নাঈম ইসলাম টিকে আছেন এখনো না থাকার মতো করেই। এবার তো বিপিএলও তাকে দেখা গেল না। ক্যারিয়ার সম্ভবত শেষ।

অনূর্ধ্ব ১৯ স্টার এনামুল, কোনো কাজে লাগল না। স্টার লিটন দাস দু-তিনটা চার মেরেই কাজ শেষ মনে করে৷ শান্ত থেকে এখনো কিছু পাওয়া গেল না। মিস ডিরেকশনে ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট হওয়া মিরাজ দলের বাইরে।

প্লিজ এই দলটাকে হারাবেন না।

এই দল যে বহু সাধনার ফসল সেটা বিদেশী ধারাভাষ্যকাররাও বারবার বলছিল। দু বছরে অনেক শ্রম দিয়ে এদেরকে তৈরি করা হয়েছে। প্লিজ এদের কেয়ার নিন।

ফ্লাট দিয়ে এখুনি অতি বিত্তবান বানাবেন না, এই বয়সে এতটা ভার নিতে পারবে না। এদের ওপর চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে অনেক কিছুই। প্লিজ, ওদের বুঝতে দেবেন না যে ওরা বিরাট কিছু করে ফেলেছে। টিভি স্টার হয়ে হলে ফেইম সিকিং প্রবণতা চলে আসতে পারে।
মিডিয়ায় টানা এক মাস `আকবর আলীর পছন্দ শুটকি ভর্তা’, `যেভাবে স্কুল পালানো অভ্যাস থেকে গতি বাড়ালেন শরিফুল’ বা ‌`ভালোবাসা দিবসে পাঞ্জাবিই বেশি পছন্দ হৃদয়ের’ শিরোনামের নিউজ তাদেরকে ফেইক সেলিব্রেটিজম এনে দিতে পারে। এক মাস পরেই যখন পত্রিকায় নিজেদের নাম খু্ঁজে পাবে না, তখন হতাশ হয়ে পড়বে।

ওদেরকে পকেটে ১০ টাকা না ভরে পেছনে ১৫ টাকা ইনভেস্ট করুন। রেসিডেন্সির উন্নত করুন, খাবারের মান বাড়ান। স্থায়ীভাবে মেন্টাল স্ট্রেন্থ ইন্সট্রাক্টর নিয়োগ দিন, রাখুন ট্যাক্টিকাল এনালাইজার।

আজকে ৫০ লাখ টাকার ফ্ল্যাট না দিয়ে যদি এই ইনভেস্টগুলো করতে পারেন, ৪ বছর পর ফ্র্যাঞ্চাইজি খেলে তারা ৪ কোটি টাকার অ্যাপার্টমেন্ট নিজেরাই কিনতে পারবে। শুধু ওদের পাশে থাকুন, ভরসা দিন।

ভারত কিভাবে একজন যুবা বিরাট কোহলিকে দ্য গ্রেট বিরাট কোহলি বানিয়েছে সেই রোড ম্যাপটাই ফলো করুন প্লিজ। দেশের এই যুবাদের হাত ধরে পথ দেখুক দেশের ক্রিকেট। প্রার্থনা ও ভালোবাসা।

https://www.mega888cuci.com