বিশ্বকাপ বঞ্চিতদের সেরা একাদশ

এবারের বিশ্বকাপে ডাকসাইটে তারকা সানচেজ ও মাদ্রিদ তারকা বেল বিশ্বকাপ না খেলতে পারার ঘটনা ফুটবল ভক্তদের আলোচনায় উঠে আসছে বারবারই। বাছাই পর্বে সানচেজের চিলি ব্রাজিলের কাছে ৩-০ গোলে হেরে বিদায় নেয় বিশ্বকাপ থেকে। স্বপ্নসমাধি ঘটে সানচেজদের।

ইতালির কিংবদন্তী গোলরক্ষক বুফনকেও সানচেজদের সাথে যোগ দিতে হচ্ছে, সুইডেনের কাছে ইতালির করুণ হারের কারণে। সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, এবারের বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলতে না পারাদের তালিকায় বেশ বড় বড় তারকাদের নাম ঢুকে যাচ্ছে।

  • গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফন (ইতালি/জুভেন্টাস)

৩৯ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় এই বিশ্বকাপ খেলেই অবসর নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু এর আগেই প্লেঅফে সুইডেনের কাছে ইতালির হেরে যাওয়ায় তাঁকে অশ্রুসিক্ত বিদায় নিতে হয়। তিনি ২০০৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী ইতালি দলের সদস্য ছিলেন।

  • রাইটব্যাক: অ্যান্টনিও ভ্যালেন্সিয়া (ইকুয়েডর/ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড)

রাইটব্যাক লিডে দুর্দান্ত ধারাবাহিক পারফরমেন্স তাঁকে ওল্ড ট্রাফোর্ডের প্লেয়ার অব দ্য ইয়ারের স্বীকৃতি এনে দিলেও ইকুয়েডরের হয়ে তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছেনা ৩২ বছর বয়সী এই ফুটবলারের।

  • সেন্টার ব্যাক: ভার্জিল ভ্যান ডিজক (নেদারল্যান্ডস/সাউদাম্পটন)

ভ্যান ডিজক সেইন্ট মেরি ছেড়ে যাওয়াতে কোন গোপনীয়তা দেখাননি বটে, তিনি জুন পর্যন্ত সেখানেই থাকবেন। তবে নেদারল্যান্ডসের হয়ে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে প্রতিভা দেখানোর সুযোগ হারাচ্ছেন তিনি। বাছাইপর্ব থেকেই যে বাদ পড়েছে গেলবারের সেমিফাইনালিস্টরা।

  • সেন্টার ব্যাক: লিওনার্দো বনুচ্চি (ইতালি/এসি মিলান)

ভাঙা নাক নিয়ে বিশ্বকাপের প্লেঅফে খেলেও দলকে বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখতে পারলেন না এই ডিফেন্ডার। আজ্জুরি ক্র্যাশ আউট হয়ে গেলে তাঁর প্রচেষ্টাগুলো জলে যায়। তাঁর দল বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়।

  • লেফট ব্যাক: ডেভিড অ্যালাবা (অস্ট্রিয়া/বায়ার্ন মিউনিখ)

জাতীয় দলের হয়ে মাত্র একটি মেজর টুর্নামেন্টের স্বাদ পেলেও ক্লাবের হয়ে তিনি ছয়টি বুন্দেসলিগা শিরোপা এবং একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন। অ্যালাবা ২০১৬ সালের ইউরোতে অস্ট্রিয়া দলের সাথে ছিলেন।

  • সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার: নেবি কেইতা (গিনি/আরবি লিপজিগ)

লিভারপুলের এই মিডফিল্ডার আগামী মৌসুমেও হয়তো পূর্ণ উদ্দমে খেলবেন। বিশ্বকাপের ক্লান্তি তাঁর উপর ভর করবেনা, কারণ তাঁর দল গিনি তিউনিসিয়া, কঙ্গো, লিবিয়াকে টেক্কা দিয়ে বিশ্বকাপের টিকেট হাতে তুলতে পারেনি।

  • সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার: আরতুরো ভিদাল (চিলি/বায়ার্ন মিউনিখ)

গত দুইটি বিশ্বকাপ খেললেও এ বিশ্বকাপটি ঘরে বসেই দেখতে হবে এই মিউনিখ তারকার, কারণ তাঁর দল চিলি কোয়ালিফায়ারে হেরে বিদায় নিয়েছে।

  • রাইট উইঙ্গার: গ্যারেথ বেল (ওয়েলস/রিয়াল মাদ্রিদ)

গত কয়েকটি বছর ওয়েলসের জন্য ভাল কাটলেও প্লেঅফে ইউরোরর সেমিফাইনালিস্ট আয়ারল্যান্ডের কাছে হেরে যাওয়ায় বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। তাই মাদ্রিদের আলোচিত তারকা বেলকে প্রথম বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা পেতে আরো কিছু বছর অপেক্ষা করতে হবে।

  • লেফট উইঙ্গার: আরিয়েন রোবেন (নেদারল্যান্ডস/বায়ার্ন মিউনিখ)

তিনটি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ও এক বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা রোবেন রাশিয়া বিশ্বকাপ দিয়েই অবসর নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর দল সুইডেনের কাছে হেরে দল বিদায় নেয়। এরপরই তিনি অবসরের ঘোষণা দেন। বিদায়ী ম্যাচেও তিনি দুই গোল করেন।

  • ফরোয়ার্ড: অ্যালেক্সিস সানচেজ (চিলি/ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড)

গোল সমতা এনে চিলিকে শেষমুহূর্তে হতাশা উপহার দেয়। চিলি বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়। তাই এই আর্সেনাল তারকারও এবারের বিশ্বকাপ মাতানো হচ্ছেনা। লা রোজা উদযাপন দেখা যাবে না রাশিয়ায়।

  • ফরোয়ার্ড: পিয়েরে এমরিক আউবামেয়াং (গ্যাবন-বরুশিয়া ডর্টমুন্ড)

গ্যাবন কখনো বিশ্বকাপ খেলেনি, তেমন কোন ভাল ফুটবলার দলে না থাকায় কখনো খেলার সম্ভাবনাও কম। তাই এই মেধাবী আফ্রিকান ফুটবলারের বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন হয়তো স্বপ্নই থেকে যাবে।

বদলি:

জ্যাসপার সিলেসেন (নেদারল্যান্ডস/বার্সেলোনা), গ্যারি মেডেল (চিলি/বেসিকতাস), মিরালেম পিজ্যানিক (বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা/জুভেন্টাস), মারেক হামসিক (স্লোভাকিয়া/ন্যাপোলি), হেনরিক মখতারান (আর্মেনিয়া/ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), রিয়াজ মাহরেজ (আলজেরিয়া/লিস্টার সিটি) ও এডিন জেকো (বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা/রোমা)।

– মিরর অবলম্বনে

https://www.mega888cuci.com