১৬৯ গোল, ২৯ পেনাল্টি, ৪ লাল কার্ড

দেখতে দেখ শেষ হয়ে গেল বিশ্বকাপ ফুটবলের ২১ তম আসর। তবে, এখনো টিকে আছে এর রেশ। এখন সময় বিশ্বকাপকে ফিরে দেখার। চলুন আমরাও পরিসংখ্যানের আলোকে রাশিয়া বিশ্বকাপকে ফিরে দেখি।

১৬৯

এবারের বিশ্বকাপে গোল হয়েছে সর্বমোট ১৬৯ টি। যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে ১৯৯৮ ও ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে সমান ১৭১ টি গোল হয়েছিল। গত ৬ টি বিশ্বকাপে দলসংখ্যা বাড়ায় ৩২টি দল নিয়ে ৬৪ টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবার পর থেকেই গোলসংখ্যাও স্বাভাবিক ভাবেই বেড়েছে।

৪৫

নক আউট পর্বে হওয়া ৪৫ টি গোল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে ১৯৫৪ ও ১৯৯৪ সালে নক আউট পর্বে ৪৪ টি করে গোল হয়েছিল যা এতদিন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ছিল। এছাড়াও রাশিয়ায় আরো কিছ রেকর্ড হয়েছে। সবচেয়ে বেশী পেনাল্টি (২৯) এবং তা থেকে সর্বোচ্চ গোল (২২), সবচেয়ে বেশী আত্মঘাতি গোল (১২)।

পুরো বিশ্বকাপ জুড়ে চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স মাত্র ৯ মিনিট পিছিয়ে ছিল। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ১৬’র ম্যাচে ফ্রান্স ঠিক ৯ মিনিট ১২ সেকেন্ড পর্যন্ত পিছিয়ে ছিল। এছাড়া প্রতিটি ম্যাচেই তারা প্রতিপক্ষের থেকে এগিয়ে ছিল। ১৯৮৬ সালে শেষ ১৬’ রাউন্ড প্রবর্তিত হবার পরে চ্যাম্পিয়ন কোন দলের জন্য এটা চতুর্থ সর্বোচ্চ সাফল্য। এর আগে ১৯৯০ সালে জার্মানি এক সেকেন্ডের জন্য পিছিয়ে থাকেনি, ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স এক মিনিট ৭ সেকেন্ড ও ২০১৪ সালে জার্মানি ৭ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড পর্যন্ত প্রতিপক্ষের সাথে পিছিয়ে ছিল।

ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডার মারিও মান্দজুকিচ বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় খেলোয়াড় ও ফাইনালে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে উভয় দলের জন্য গোল করেছেন। ফ্রান্সের বিপক্ষে মস্কোর ফাইনালে প্রথমে তিনি আত্মঘাতি গোল করেন, এরপর নিজ দলের পক্ষে গোল করেন। এর আগে ১৯৭৮ সালে ডাচ ডিফেন্ডার এরনি ব্রান্ডেটস ইতালির বিপক্ষে ১৮ মিনিটে আত্মঘাতি গোল করার পরে ৫০ মিনিটে সমতা ফিরিয়েছিলেন।

২৪

এবারের বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বল পুরস্কার জিতেছেন ক্রোয়েশিয়ান লুকা মড্রিচ। আর এই নিয়ে টানা ষষ্ঠবারের মত এমন একজন গোল্ডেন বল জিতলেন যার দল ঐ বিশ্বকাপে শিরোপা জিতেনি। ২৪ বছর আগে সর্বশেষ ১৯৯৪ সালে বিশ্বকাপ জয়ী দলের খেলোয়াড় হিসেবে ব্রাজিলের রোমারিও গোল্ডেন বল জিতেছিলেন। তারপর থেকে গোল্ডেন বল জেতা খেলোয়াড়রা হলেন রোনাল্ডো, অলিভার কান, জিনেদিন জিদান, দিয়েগো ফোরলান, লিওনেল মেসি ও মড্রিচ। এর মধ্যে শুধুমাত্র ফোরলানের দল উরুগুয়ে ঐ বিশ্বকাপে দ্বিতীয় স্থান পায়নি।

এবারের বিশ্বকাপে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে রাফায়েল ভারানে একই বছর বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জেতার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। বিশ্বকাপের আগে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ভারানে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতেছেন। ভারানে অবশ্য টানা চতুর্থ মাদ্রিদ খেলোয়াড় হিসেবে এই রেকর্ড গড়লেন। এর আগে ১৯৯৮ সালে ক্রিস্টিয়ান কারেমবেউ, ২০০২ সালে রবার্তো কার্লোস ও ২০১৪ সালে সামি খেদিরা মাদ্রিদের খেলোয়াড় হিসেবে একই বছর বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতেছিলেন।

সর্বমোট ১১জন খেলোয়াড় এখন পর্যন্ত এই কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। এর মধ্যে ফ্র্যাঞ্জ বেকেনবাওয়ারের নেতৃত্বে ১৯৭৪ সালে বিশ্বকাপ জয়ী জার্মান দলের সাতজন বায়ার্ন মিউনিখের খেলোয়াড় ছিলেন যারা ঐ বছরই ইউরোপীয়ান কাপ জিতেছিলেন। বিপরীতে একই মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও বিশ্বকাপের ফাইনালে পরাজিত দলের সদস্য হিসেবে ডেজান লোভরেন আরেক রেকর্ড গড়েছেন। ১৩তম খেলোয়াড় হিসেবে লোভরেন এবারের মৌসুমে লিভারপুল ও ক্রোয়েশিার হয়ে দুই প্রতিযোগিতার ফাইনালে হারের স্বাদ পেলেন।

ফাইনালে পল পগবা ফ্রান্সের হয়ে গোল করেছেন। ১৯৯৮ সালে ব্রাজিলের হয়ে আর্সেনালের এমানুয়েল পেতিত গোল করেছিলেন। তারপর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের প্রথম কোন খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে গোলের দেখা পেলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পগবা।

এবারের বিশ্বকাপে মাত্র ৪ টি লাল কার্ডের ঘটনা ঘটেছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে কম লাল কার্ডের তালিকায় এটি ষষ্ঠ স্থানে আছে। ১৯৭৮ সালে তিনজন খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। তারপর এবারের বিশ্বকাপই সেরা। ২০০৬ সালে জার্মান বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ২৮ টি লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল।

১৬

রাশিয়া বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান পাওয়া বেলজিয়াম মোট ১৬টি গোল করেছে যা এবারের আসরে কোন দলের সর্বোচ্চ গোল। ৩২ টি দলের অংশগ্রহনে বিশ্বকাপ শুরু হবার পর থেকে এই তালিকায় ২০১৪ সালে জার্মানী ও ২০০২ সালের ব্রাজিল ১৮ টি করে গোল দিয়ে শীর্ষে রয়েছে। ১৯৫৪ সালে অস্ট্রিয়ার দেয়া ২৭ টি গোলের রেকর্ড বিশ্বকাপে এখনো কোন দল ভাঙতে পারেনি।

https://www.mega888cuci.com