তাসকিন, নায়ক হওয়ার ফাঁদে আর পা দেবেন না প্লিজ

প্রত্যেক শিল্পীরই কিছু না কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে। কথাটা শিল্পের যেকোনো ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। জেমসের গাওয়া কোনো গান তাই অর্ণবের কণ্ঠে ভাল লাগবে না কখনোই। অর্ণবের গাওয়া কোনো গান আবার আইয়ুব বাচ্চু গাইতে গেলে লেজেগোবরে হয়ে যাবে।

কাউকে ছোট করতে বলছি না, কিন্তু এটাই বাস্তবতা। চাইলেই সবাই সব কিছু করতে পারেন না। সবাই তো সত্যজিৎ রায় কিংবা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মত প্রতিভা নিয়ে জন্মান না। যারা নিজের সীমাবদ্ধতা বুঝতে পারেন, তারা নিজের শক্তির জায়গাটা কাজে লাগান।

বলিউডের ধর্মেন্দ্র যেমন জানতেন যে তাঁকে দিয়ে নাচগান হবে না। তাই সে ধারায় তিনি খুব বেশি যাননি। বরং নিজের ‘অ্যাঙরি হিরো’ ইমেজটা ধরে রেখেছেন আজীবন। রাজেশ খান্নাও জানতেন, রোম্যান্টিক হিরোর ইমেজ ভাঙতে গেলেই বিপদ। অমিতাভ বচ্চন সময় বুঝে নিজের অভিনয়ের ধারায় পরিবর্তন এনেছিলেন।

যে শিল্পীরা বাস্তবতা বুঝে কাজ করতে জানেন তারাই লম্বা দৌড়ের ঘোড়া। ভারতে একালের প্রসঙ্গ টানলে সনু সুদের কথা না বললেই না। বলিউডে তিনি ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন নায়ক হিসেবে। অথচ, এখন অধিকাংশ সিনেমায় তাঁকে দেখা যায় ভিলেন হিসেবে, সেটা বলিউড হোক, কিংবা হোক দক্ষিণী সিনেমা।

এমন উদাহরণ বাংলাদেশেও আছে। এই যেমন ডিপজল। ‘হাবিলদার’ সিনেমায় লিমা’র সাথে নায়কের নাম করেছিলেন ডিপজল। তখন তাঁর নাম ছিল ডিপু। কালক্রমে তিনি হয়ে উঠেছে ঢালিউডের সবচেয়ে বড় ভিলেন। হ্যা, তাঁকে নিয়ে সমালোচনা আছে যথেষ্ট। তারপরও নিজের তুলনামূলক শক্তির জায়গাটা তিনি চিনতে পেরেছিলেন। নায়কই হতে হবে, এমন গো ধরে থাকলে যতটুকু পেয়েছেন তাও পেতেন না।

যাকে ঘিরে এতকিছু বলা তিনি হলেন তাসকিন আহমেদ। ২০১৭ সালের আলোচিত অ্যাকশন থ্রিলার ‘ঢাকা অ্যাটাক’-এ খলচরিত্রে অভিনয় করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন অভিনের তিনি। নায়কোচিত এক ভিলেন এসেছেন ইন্ডাস্ট্রিতে এমন আলোচনায় মুখর ছিলেন দর্শক-সমালোচকরা।

সেই তাসকিনের নতুন সিনেমা যৌথ প্রযোজনার ‘বয়ফ্রেন্ড’। ইউটিউবে মুক্তি নায়িকা লোপা নাহারের সাথে গানটির শিরোনাম ‘মনে মনে গোপনে’ গানটি দিয়ে শুরু হয়, সিনেমা ‍মুক্তির পর সমালোচনার মাত্রা আরো বাড়ে।গানটির কথা যেমন তৃতীয় শ্রেণির, সিনেমাটিও তাই তাসকিনকে নাচ-গান করতে দেখাটা, রোম্যান্স করতে দেখাটো কোনো সুখকর অভিজ্ঞতা নয়।

বলা উচিৎ, এমন ধরণের সিনেমায় তাসকিনকে কোনো ভাবেই মানানো যাচ্ছিল না। সিনেমাটির নির্মানও যাচ্ছেতাই। গানে নাচের স্টেপের কোনো ঠিক ঠিকানা নেই। যতটুকু করছিলেন তাতেও এক ধরণের জড়তা কাজ করছিল। এক্সপ্রেশনগুলোও কেমন যেন রোবটিক। এটুকু দেখেই বলে দেওয়া যায়, প্রচলিত নাচগান নির্ভর রোম্যান্টিক নায়ক নন তাসকিন।

হয়তো তাসকিন একদিন শীর্ষ নায়কও হয়ে উঠবেন। তবে, সেটা তাঁর নাচগান দিয়ে নয়। নায়ক মানেই লুতুপুতু রোম্যান্স করতে হবে এমন কোনো কথা নেই। ভিন্ন ধারার নায়ক হয়ে উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারেন, কিংবা অ্যান্টি-হিরো হয়ে সৃষ্টি করতে পারেন নতুন ইতিহাস। তবে, ‘মনে মনে গোপনে’র মত গানগুলো, বা ‘বয়ফ্রেন্ড’ সিনেমা আপনার জন্য নয়। নিজের এই সীমাবদ্ধটা বোঝা জরুরী।

একটু একটু করে তাসকিন এখন সময়ের অন্যতম ব্যস্ত অভিনেতায় পরিণত হতে চলেছেন। এখন নিজের জন্য কোনটা ভাল, কোনটা খারাপ, কোনটা খুবই খারাপ – এর পার্থক্যটা করা শিখে ফেলতে হবে। তাসকিনও সম্প্রতি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন সম্ভবত। বলেছেন, ‘এই ধরণের ছবিতে আর অভিনয় করবো না।’ এই শুভবুদ্ধির জন্য তাঁকে ধন্যবাদ।

দুই-একটা সিনেমায় তাঁক লাগিয়ে বাকিটা সময় নিষ্প্রভ থাকার নজীর ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে বিস্তর আছে। দয়া করে, এই তালিকাটা লম্বা না করাই ভাল। তাতে, তাসকিন ও বাংলা সিনেমা – সবারই মঙ্গল।

https://www.mega888cuci.com