ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট যুগ কেন ‘ব্ল্যাকআউট’?

বলিউডের সুদীর্ঘ ইতিহাস যদি আমরা একটু গভীরভাবে ঘাঁটাঘাঁটি করে দেখি, বিশ্লেষণ করি, তাহলে এটা স্পষ্ট হয় যে এই ইতিহাস সবাইকে সমমর্যাদা দেয়না, যার যতটুকু মর্যাদা, সম্মান প্রাপ্য সেটা তিনি সবসময় পাননি।

বছরের পর বছর এটা চলে আসছে কারণ মিডিয়া, সমালোচক এবং অবশ্যই আমরা দর্শকরা এটা চলতে দিয়েছি। এটা এখন ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। আমি এখানে যেনতেন কোন অভিনেতা-অভিনেত্রী বা সুপারস্টারের কথা বলছিনা, তাঁদের কথা বলছি যাঁরা রীতিমত কিংবদন্তী, যাঁদের অবদান না থাকলে আজ বলিউড এতবড় কালচারাল ফেনোমেননে পরিণত হতেননা।

এখনো কাজের মধ্যে আছেন, মিডিয়ার ছায়াতলে আছেন বা অন্তত বেঁচে আছেন যাঁরা, তাঁদের কথা বলছিনা। তিন ‘খান’কে নিয়ে এখন একটা নেগেটিভ কথা বলি, সাথেসাথে মৌমাছির মত ফ্যানবয়-গার্লরা আমাকে ছিন্নভিন্ন করে দেবে, কারণ তাঁদের সম্পর্কে সবাইই অবগত।

ঋত্বিক, অক্ষয় ,অজয় কে নিয়েও একই প্রতিক্রিয়া হবে, হয়তোবা মাত্রাটা একটু কম থাকবে। মাধুরী, শ্রীদেবী, জুহি, কাজলকে ডিফেন্ড করার মত ফ্যানের অভাব নেই। যদি একটু পিছিয়ে যাই তাহলে সঞ্জয় দত্ত, অনিল কাপুর, সানি দেওল, গোবিন্দদের কথা বলা যায় যাঁদের অত ফ্যান না থাকলে ও মানুষ তাঁদের ঠিকই চিনে।

যেমনটা চিনে তাঁদের আগের জেনারেশন মিঠুন চক্রবর্তী, ঋষি কাপুর, জিতেন্দ্রদের। আর তাঁদের আগের জেনারেশন তো বলিউডের ইতিহাসেরই অন্যতম শ্রেষ্ঠ। রাজেশ খান্না, অমিতাভ বচ্চন বা ধর্মেন্দ্র। উপরে যে কথাটা বলছিলাম সেটা এই তিনজনকে দিয়েই বুঝিয়ে দেওয়া যায়।

আমরা বেশিরভাগ ফ্যান অমিতাভ বচ্চনকে যতটা ক্রেডিট দিই রাজেশ খান্নাকে অতটা দিইনা, আবার রাজেশকে যতটুকু দেই তার অর্ধেক ও ধর্মেন্দ্রকে দিইনা। কেন? একটা কারণ হল, অমিতাভ বচ্চন এখনও প্রতাপের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। রাজেশ খান্না মারা গেছেন ২০১২ সালে।

অন্যদিকে, ধর্মেন্দ্র খুব কম কাজ করেন। যদিও, ধর্মেন্দ্রর ছেলে ববি একবার দাবী করেছিলেন, ‘যথেষ্ট জনপ্রচারণা চালানো হয় না বলেই আমাদের কেউ পাত্তা দিতে চায় না।’ যদিও, সাম্প্রতিক সময় দেওলদের বলার মত কোনো সাফল্য নেই।

নি:সন্দেহে বচ্চনের স্টারডম বাকি দুজনকে ছাড়িয়ে গেছে,বিশেষ করে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় পর্যায়ে, বৃদ্ধবয়সে তিনি নিজেকে যেভাবে পুনরায় আবিষ্কার করেছেন তা অনবদ্য। কিন্তু তাই বলে বাকি দুজনকে কেন তাঁদের প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়া হবেনা? বিশেষ করে ধর্মেন্দ্র?

৫০-৬০’র বলিউড বলতে আমরা মোটা দাগে অল্প কয়েকজনকে বুঝি। দিলীপ কুমার, রাজ কাপুর, বিবেক আনন্দ, মিনা কুমারী, নার্গিস, মধু বালা, ওয়াহিদা। নি:সন্দেহে তাঁরাই ‘ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট’ যুগের উজ্জ্বলতম তারকা, কিন্তু তাঁরাই কি সব? তাঁদের বাদে কি ওই সময়ে আর কেউ বিখ্যাত হননি? সফলতা পাননি?

(বাঁ থেকে) রাজ কাপুর, রাজেন্দ্র কুমার, দিলীপ কুমার ও শাম্মি কাপুর

শুনলে অনেকেই হয়তো চোখ কপালে তুলবেন একটা সময়ে রাজ কাপুরের মত কিংবদন্তী কেও বলিউড প্রায় ভুলে গিয়েছিল! রাজেশ খান্নার লিগেসি, স্টারডম নিয়েও নানারকম শঙ্কা, সন্দেহ প্রকাশ হয়েছিল! এর কারণ কি? ব্যাখ্যা হল, মিডিয়া সব সময়ই স্টারডম খুঁজে, যারা বেশি কাজের মধ্যে থাকেন, বা বলা যায় বেশি কাজ পান তাদের ওপরই মিডিয়া বেশি ফোকাস করে। সেজন্য তারাই বেশি আলোচনায় থাকেন।

আর যাদের নিয়ে অনেকদিন কোন আলোচনা ছিলনা, তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বীরা তাঁদের তুলনায় বেশি অ্যাক্টিভ ছিলেন, তাঁরা নিজেদের মিডিয়া থেকে দূরে রেখেছিলেন। অনেকক্ষেত্রে বিষয়টা অভিমানবশতও হতে পারে। লাইমলাইটে থাকার জন্য মিডিয়ার দায় যেমন আছে, তেমনি তাঁদের নিজেদের দায়ও কম নয়!

https://www.mega888cuci.com