লাগে রাহো, মুন্না ভাই হোক কিংবা বরুণ ভাই!

জীবন নাকি রূপকথা হয় না। কারও কারও জন্য তো রূপকথার চেয়েও বেশি। এই মূহুর্তে যেমন, বরুণ চক্রবর্তী!

প্রতিবারই আইপিএলের নিলামে চমকপ্রদ অনেক কিছু হয়। প্রায় অচেনা বা অল্প চেনা অনেকের ভাগ্য খুলে যায় কয়েক মিনিটের মধ্যে। আজকে বরুণের দাম দেখে তাকে নিয়ে জানতে গিয়ে চমকে গেলাম।

১৩ বছর বয়সে ক্রিকেট খেলা শুরু। ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত ছিলেন কিপার-ব্যাটসম্যান। সুবিধে করতে পারছিলেন না। বয়সভিত্তিক বিভিন্ন দলগুলিতে জায়গা পাচ্ছিলেন না। হতাশ হয়ে ক্রিকেট ছেড়ে মন দিলেন পড়াশোনায়। চেন্নাইয়ের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ বছরের কোর্স করে কিছুদিন ফ্রিল্যান্স স্থপতি হিসেবে কাজ করলেন। টেনিস বলে ক্রিকেট অবশ্য খেলে যাচ্ছিলেন টুকটাক।

টেনিস বলে খেলতে খেলতেই ক্রিকেটের প্রতি পুরোনো প্রেম তীব্র হয়ে তাকে নাড়া দিল আবার। স্থাপত্য পেশা ছেড়ে একটি ক্লাবে খেলা শুরু করলেন ট্রায়াল দিয়ে। কিপার-ব্যাটসম্যান থেকে তিনি ততদিনে পেস বোলিং অলরাউন্ডার।

কিন্তু বিধিবাম, ক্লাবের হয়ে দ্বিতীয় ম্যাচেই ইনজুরি। সেটিই পরে হয়ে উঠল শাপেবর। ইনজুরির কারণেই এবার হয়ে গেলে স্পিনার। তুমুল মার খেয়েছেন শুরুতে। তাতে আরও জেদ চেপেছে, নিজেকে সমৃদ্ধ করতে লড়াই করে গেছেন।

ইনজুরির পর ফিরে খেললেন চেন্নাইয়ের চতুর্থ বিভাগের এক ক্লাবে। সেখানেই বৈচিত্রময় স্পিন দিয়ে পরিচিতি পেয়ে গেলেন রহস্য স্পিনার হিসেবে। সেখান থেকে গত আইপিএলে চেন্নাই ও কলকাতার নেটে বল করার সুযোগ পেয়েছিলেন। কলকাতার নেটে বোলিংয়ের সময় সুনিল নারাইন ও তার কোচ কার্ল ক্রোর টিপস নিয়েছন। আরও বড় পর্যায়ে নজর কাড়ার শুরু গত তামিলনাড়ু প্রিমিয়ার লিগে।

১০ ম্যাচে উইকেট নিয়েছিলেন ৯টি, কিন্তু ওভারপ্রতি রান দিয়েছিলেন কেবল ৪.৭০ করে। তাকে নিয়ে আলোচনার সেই শুরু। তামিলনাড়ুর হয়ে খেললেন বিজয় হাজারে ট্রফিতে (ভারতের ঘরোয়া একদিনের ম্যাচের টুর্নামেন্ট), ৯ ম্যাচে উইকেট নিলেন ২২টি। ওভারপ্রতি রান ৪.২৩।

আজকে আইপিএলের নিলামে তার ভিত্তি মূল্য ছিল ২০ লাখ রূপি। নিলাম যুদ্ধে জিতে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব তাকে দলে নিল ৮ কোটি ৪০ লাখ রূপিতে। অথচও এখনও পর্যন্ত কোনো অফিসিয়াল টি-টোয়েন্টি খেলেননি ২৭ বছর বয়সী বরুণ।

বরুণের দাবি, তার ভাণ্ডারে অস্ত্র আছে ৭টি। অফ ব্রেক, লেগ ব্রেক, গুগলি, ক্যারম বল, ফ্লিপার, টপ স্পিনার এবং এক ধরণের স্লাইডার, যেটি মূলত ব্যাটসম্যানের টো লক্ষ্য করে মারা ইয়র্কার।

অবশ্যই টাকার বিছানায় শুয়ে থাকাই রূপকথা নয়। তবে বছর দুই-তিন আগেও টেনিস বলে খেলা স্থপতি থেকে আজকে আইপিএল নিলামে ঝড়, এটি তো বরুণের নিজের সুদূরতম কল্পনায়ও ছিল না নিশ্চিত!

আইপিএলের নিলামে এরকম অনেকেই আলোড়ন তুলেছে। অনেকে এক-দুই মৌসুম শেষে হারিয়েও গেছে। বরুণ কোন পথের পথিক হবেন, বলবে সময়। তবে আইপিএলের ‘খুল যা ছিমছিম’ দুয়ার অনেককেই আমন্ত্রণ জানায় অভাবনীয়ভাবে। গত আইপিএলে লাসিথ মালিঙ্গা ছিলেন মুম্বাইয়ের মেন্টর, ধরেই নিতে পারেন আইপিএল ক্যারিয়ার শেষ। আজকে সেই মুম্বাই তাকে দলে নিয়েছে বোলার হিসেবে, ২ কোটি রূপিতে।

মুম্বাইয়ের শিভাম দুবে ক্যারিয়ার শুরু করেছেন সবে, গতকালই রঞ্জি ট্রফিতে এক ওভারে মেরেছেন ৫ ছক্কা। ২০ লাখ ভিত্তি মূল্যের অলরাউন্ডারকে আজ বেঙ্গালুরু দলে নিয়েছে ৫ কোটি রূপিতে। জয়দেব উনাদকাটকে রাজস্থান ছেড়ে দিয়েছে নিলামের আগে, আবার নিলামে তারাই কিনেছে ৮ কোটি ৪০ লাখ রূপিতে। আর বছর দুই-তিন আগে যে যুবরাজ সিং পেয়েছেন ১৬ কোটি, আজ তাকে নেওয়ার মতো নেই কোনো দল!

সবই সময়, সবই বাস্তবতা!

বরুণের গল্পটি চমক জাগানিয়া বলেই এই লম্বা লেখা। জীবন কখন কার জন্য কি সাজিয়ে রেখেছে, কে জানে! তো, লাগে রাহো, মুন্না ভাই হোক কিংবা বরুণ ভাই!

– ফেসবুক ওয়াল থেকে

https://www.mega888cuci.com