ফরাসি গতি বনাম লাতিন ছন্দ

কোয়ার্টার ফাইনালের লাইন আপে যেহেতু জার্মানি, আর্জেন্টিনা, স্পেন কিংবা পর্তুগালের নাম নেই, সেহেতু মনোযোগটা উরুগুয়ের দিকে সরে আসতে বাধ্য। আর যেখানে লুইস সুয়ারেজদের লড়াকু মানসিকতাকে মুখোমুখি হতে হবে কিলিয়ান এমবাপের মত হুমকির বিপক্ষে তখন, ফ্রান্স আর উরুগুয়ের ম্যাচটা বাড়তি নজর পাবেই।

নিজনি নভগোগ্রাদে উরুগুয়ের মোকাবেলা করবে তারুণ্যে ভরপুর ফ্রান্স। যে দলের প্রাণভোমরা হিসেবে সবার দৃষ্টি থাকবে টিনএজ তারকা কিলিয়ান এমবাপের ওপর। তরুণ এমবাপের পারপরফেন্সের কারণেই ফ্রান্সের আক্রমনভাগকে এই ম্যাচে এগিয়ে রাখতেই হচ্ছে।

অস্কার তাবারেজের উরুগুয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সকেই ফেবারিট মানা হচ্ছে। যদিও ফ্রান্সের বিপক্ষে শেষ আটবারের মোকাবেলায় উরুগুয়ে মাত্র একটি ম্যাচে পরাজিত হয়েছে। অন্যদিকে ২০১৬ ইউরো ফাইনালিস্টরা দক্ষিণ আমেরিকান প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বিশ্বকাপে নয়টি ম্যাচে অপরাজিত আছে।

এর মধ্যে সাতটিতে কোন গোল হজম করেনি। রাশিয়া বিশ্বকাপে শেষ ১৬’র ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৪-৩ গোলের জয়ী ম্যাচের অভিজ্ঞতা পুরো দলকে আরো বেশী উজ্জীবিত করে তুলেছে। আর সাথে অ্যান্তোনিও গ্রিজম্যানের মত অভিজ্ঞ তারকা তো আছেনই।

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ফ্রান্সের শেষ ১৬’র উত্তেজনাকর লড়াইয়ে ১৯ বছর বয়সী এমবাপে ছিলেন জয়ের নায়ক। এই ম্যাচে দুই গোল করেন প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইর এই তরুন তুর্কি। তার গতি ও দক্ষতার কারণে আদায় করা পেনাল্টি থেকে ফ্রান্স ম্যাচে প্রথমে এগিয়ে গিয়েছিল।

উরুগুয়ের সফলতা এসেছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের ডিফেন্ডার জুটি হোসে মারিয়া গিমেনেজ ও দিয়েগো গোডিনের নিখাদ রক্ষণে। অপরদিকে আক্রমণ ভাগে প্রতিপক্ষের শিবিরকে তছনছ করেছেন লুইস সুয়ারেজ ও এডিনসন কাভানির জুটিবদ্ধ আগ্রাসন। দলের হয়ে এই জুটি করেছেন পাঁচটি মূল্যবান গোল।

এই ম্যাচে অবশ্য উরুগুয়ের অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড এডিনসন কাভানির ফিটনেস নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। পর্তুগালের বিপক্ষে তিনি পেশীর ইনজুরিতে পড়েছিলেন। টানা সাত ম্যাচে জয়ের অভিজ্ঞতাই তাদের আত্মবিশ্বাসকে বাড়িয়ে দিয়েছে। এই ম্যাচগুলোতে মাত্র এক গোল হজম করেছে উরুগুয়ে। তবে, কাভানি না খেললে সেটা হবে উরুগুয়ের জন্য বড় আক্ষেপের কারণ।

২০১০ সালের পরে বিশ্বকাপে এটাই কোয়ার্টার ফাইনালে উরুগুয়ের প্রথম ম্যাচ। এদিকে ফ্রান্স গত পাঁচটি আসরে চারটিতেই শেষ আটে খেলেছে। ২০১৪ সালে শুধুমাত্র জার্মানির কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়ে শেষ ১৬’ থেকে বিদায় নিয়েছিল।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৬০ বছর আগে পেলের অনুপ্রেরণায় অনুপ্রাণিত ব্রাজিল ছাড়া ইউরোপের মাটি থেকে লাতিন আমেরিকার কোন দল বিশ্বকাপের শিরোপা জয় করতে পারেনি। যদিও মাঠের লড়াইয়ে এইসব পরিসংখ্যানের কোন গ্যারান্টি থাকে না।

https://www.mega888cuci.com