আর একবার না হয় তুমি যুবক থেকে পুরুষ হবার যুদ্ধে নামো!

সেমিফাইনাল হারায় নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের খুব একটা ক্ষতি হয়নি। তবে, আমরা হারলে আমাদের ক্রিকেটের বেশ কিছুটা ক্ষতি হত।

আমাদের এই যুব দলটা বেশ কয়েক বছর ধরেই দুর্দান্ত। সম্ভাব্য প্রায় সকল সিরিজই জিতেছে, দেশে এবং বিদেশে। প্রতিটা খেলোয়াড়, ম্যানেজমেন্ট, সাপোর্ট স্টাফ থেকে শুরু করে আশেপাশের সবারই মনে একটা বিশ্বাস জন্মে গিয়েছিল, এবারের অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপটা সুবাতাস বয়ে আনবে আমাদের ক্রিকেটে। হ্যাঁ, এই বিশ্বাসটা মরে যেত।

বিগত কয়েকবার বেশ ভালো মানের দল নিয়েও পারিনি আমরা। কোন একটা জায়গায় অপ্রত্যাশিত হোচটে শেষ হয়েছে স্বপ্ন। তবুও স্বপ্ন দেখা থামেনি, কিন্তু আর কত? এই প্রশ্নটা যখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠছিল, তখন এই দলটা দেখে মনে হয়েছিল এদেরকে নিয়ে শেষবারের মত নাহয় স্বপ্নটা দেখি।

এটা শুধু আমার কথা নয়, ক্রিকেট খোঁজ রাখেন এমন সবারই। এই যেমন আজকের ম্যাচের আগে কিউইদের কেউ গোনাতেও ধরছিল না, কারণ কি? কারণ কিন্তু একটাই, সবার মনের ওই বিশ্বাস। আজ হোচট খেলে, আজ এই বিশ্বাসের দেয়াল ভাঙলে আবার কি নতুন করে বিশ্বাসের গাছে কুড়ি জন্মাত?

অথবা, ভাবুন এই সদ্য কিশোর পেরোনো যুবাদের কথা। প্রত্যাশার ভারে ঝুকে পড়া কাধগুলোয় কি নতুন করে শক্তি সঞ্জীবন সঞ্চার হত? না, আজকের জয়টা শুধু ফাইনালে পৌছানোর উপলক্ষ নয়, এই জয়ে লুকিয়ে আছে আমাদের ক্রিকেট ভবিষ্যতের আলাদিনের চেরাগ।

অপরদিকে নিউজিল্যােন্ডর জন্য এই পরাজয় সাধারণ ঘটনা। ১৯৯৮ সালের পর এবারই প্রথম তারা শেষ চারে খেলেছে। গত বিশ বছরে তবুও তাদের ক্রিকেট পিছিয়ে যায়নি। এজ লেভেলে তারা প্রেস করে না।

এমনকি এবারের একাদশের অনেকেই হয়ত ভিন্ন স্পোর্টসে সেটেল হবে। দুজন প্রফেশনাল হকি খেলোয়াড়ও কিন্তু আজকের একাদশে ছিল। এজ লেভেলে নিউজিল্যান্ড সব সময়ই ফ্লেক্সিবিলিটিতে বিশ্বাস করে। কারো গায়ে আগেভাগেই স্পেশালিষ্ট তকমা দিতে নারাজ। প্রতিটা স্কুলেই সব ধরনের স্পোর্টসের সুযোগ সুবিধা আছে। একই সাথে দুই তিনটা স্পোর্টসে অংশগ্রহণ এই লেভেলে তাই স্বাভাবিক।

সাধারণত এই লেভেল পার হবার পর তারা ঠিক করে কে কোন স্পোর্টসে সেটেল হবে। এছাড়া, তাদের স্পোর্টস কাঠামো এতটাই উন্নত যে, এজ লেভেল থেকে কাউকে উঠিয়ে আনতেই হবে এমনটা নয়।

ফাইনালে প্রতিপক্ষ ভারত। শক্ত কিন্তু অপরাজেয় নয়। আমাদের বেশ ভালো সম্ভবনা রয়েছে। তবে ফাইনালে হারলেও কিছু যায় আসে না। তরুণদের যে বুস্ট আপের দরকার ছিল সেটা তারা পেয়ে গেছে। অর্জনের তালিকায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপ থাকলে অবশ্য মন্দ হয় না, তবে যে দলই হারুক বা জিতুক তাতে খুব একটা ইতরভেদ হবে না তাদের বেড়ে উঠাতে।

ভারত জুজু বলে বলে যে অখাদ্য দলা আমাদের খাওয়ানো হয়, সেই দলা আমরা কিন্তু ইতিমধ্যেই হজম করে ফেলেছি। আমাদের নারী দল জিতেছে ভারতের বিপক্ষে, পুরুষ দল তাদের মাটিতেই হারিয়ে এসেছে।

তো, ভারতকে হারাতে পারিনা মানসিকতা থেকে বের হয়ে এসেছি আমরা। নতুন করে আর প্রত্যাশার ভার এই ছেলেগুলোর উপরে দিতে চাই না, এমনিতেই হিমালয় কাধে করে সমুদ্রে পৌছেছে, সো তারা জানে কিভাবে এটা সামলাতে হবে। পরামর্শ এতটুকুই, নিজেদের অর্জনকে উপভোগ কর, সেটার মর্যাদাটা অনুভব কর, আর এই লেভেলে শেষবারের মত দেখিয়ে দাও, তুমি কোন ধাতুতে তৈরি!

https://www.mega888cuci.com