বাঘি রহস্য, টাইগার রোমাঞ্চ

টাইগার শ্রফের যেমন হাজারো ভক্ত আছেন, তেমনি তাকে ‘দেখতে পারেন না’ এমন লোকেরও অভাব নেই। তবে, সম্প্রতি দ্বিতীয় শ্রেণির এই লোকের সংখ্যাটা কমতে শুরু করেছে। এর কারণ হল ‘বাঘি টু’। এমন অ্যাকশন সিনেমা বলিউডে আগে আদৌ কখনো দেখা গেছে কি না সেটা রীতিমত গবেষণা শুরু হয়ে গেছে।

সিনেমার মূল গল্পটা আহামরী কিছু না। খুব পরিচিত গল্প। জনপ্রিয় প্রিয় তেলেগু সিনেমা ‘Kshanam’-এর রিমেক। যদিও, মূল সিনেমাটা মোটেও অ্যাকশনে ভরপুর নয়। দক্ষিণী সিনেমাটি বলিউডে এসে পেয়েছে অ্যাকশনের মসলা। আর সেখানে জ্যাকি শ্রফ পুত্র এতটাই মানিয়ে গেছেন যে তাঁকে রীতিমত ‘বলিউডের ব্রুস লি’ বলেও ডাকা শুরু হয়ে গেছে।

অ্যাকশন হিরো’র তকমাটা ধরে রাখতে চান টাইগার। তিনি বলেন, ‘আমার যতদূর মনে হয় বলিউডে যারা আমজনতার হিরো, তাঁরা মূলত অ্যাকশন নির্ভর কাজ করেন। খেয়াল করে দেখবেন, আমার বাবার (জ্যাকি শ্রফ) সময়ে সালমান খান কি করেছেন, কিংবা সঞ্জয় দত্ত, সানি দেওল কিংবা আমার বাবা ছিলেন ‘মাস হিরো’। তাই আমার মনে হয় অ্যাকশন করে দেশের সবার কাছে পৌঁছানো যায়। সেদিক থেকে রোম্যান্টিক বা চকলেট হিরো টাইপ চরিত্রগুলো অনেক বেশি শহুরে। সেখানে শহর ও মাল্টিপ্লেক্সের একটা ফ্লেভার থাকে। যখন আপনি সর্বস্তরের জন্য আকর্ষণীয় সিনেমার কথা বলবেন, তখন সাম্প্রতিক সময়ে ঘুরে ফিরেই সুলতান, দঙ্গল কিংবা বাঘির নাম আসবে। আমি এই জায়গাটা নিতে পেরে আনন্দিত। আর আমার জন্য এটাও একটা ভাল দিক যে, এই জায়গাটা নতুনদের মধ্যে অন্য কেউ নিচ্ছে না। এর ফলে আমার সুযোগটাই বেড়ে যাচ্ছে।’

টাইগার শ্রফ তাঁর ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই এক শ্রেণির দর্শকদের মন জয় করেছেন। যদিও, তাঁর হয়ে কথা বলছিল না বলিউড। ২০১৪ সাল থেকে ২০১৬ সাল অবধি হিরোপান্তি, বাঘি, আ ফ্লাইং জ্যাট কিংবা মুন্না মাইকেল – কোনোটাই তাঁকে আকাশচুম্বি খ্যাতি এনে দেয়নি যতটা দিয়েছে বাঘি টু।

বাঘি টু আসলে কতটা সফল? একটা তথ্য দিলেই বুঝে যাবেন। প্রথম দিনে আলোচিত সিনেমা ‘পদ্মাবত’-এর বক্স অফিস কালেকশন ছিল ১৯ কোটি ভারতীয় রুপি। আর বাঘি টু এর প্রথম দিনে আয় ছিল ২৫ কোটি ১০ লাখ রুপি। এই বছরে প্রথম দিনে এটাই সবচেয়ে বেশি আয় করা সিনেমা। আর সিনেমাটি এখন অবধি আড়াইশো কোটি রুপিও জমা করে ফেলেছে নিজেদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে।

বাঘি টু’র জন্য টাইগার এতটাই পরিশ্রম করেছিলেন যে, বাবা জ্যাকিও বেশ ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘বাবা হিসেবে আমি দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কারণ, প্রতিটা অ্যাকশন দৃশ্য ও নিজেই করেছে। যদিও, আমি ওকে আটকাইনি, এসব করতে বাড়ণ করিনি। আমি চিন্তিত ছিলাম, তবে ওর ওপর ভরসা ছিল।’

তাহলে কি এই অ্যাকশন ঘরানাতেই আটকে থাকবেন টাইগার? তাঁর জবাব, ‘এই অ্যাকশন হিরোর তকমা আমার ভাল লাগছে। অ্যাকশ হিরো বা ড্যান্স হিরো যাই বলা হোক না এটা আমাকে ইন্ডাস্ট্রিতে, দর্শকদের মনে এক ধরণের গ্রহণযোগ্যতা এনে দেয়। যেভাবেই দেখেন না কেন, এটা তো আমারই জয়!’

টাইগারের আসন্ন প্রোজেক্টগুলোও খুব লোভনীয়। বাঘি থ্রি’র জন্য জন্য তিনি চুক্তিবন্ধ হয়েছেন। হৃত্তির রোশনের সাথে ড্যান্স নির্ভর সিনেমা নিয়ে চলছে বিস্তর আলোচনা। তবে, এর চেয়েও বেশি আলোচনা চলছে ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার ২’ নিয়ে। করণ জোহরের এই সিনেমার ব্যাপারে টাইগার বলেন, ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার ২-তে আমি ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা করেছি। এটা বাঘি টু’র পুরো বিপরীত। ওখানে আমাকে ধরেই পেটানো হবে।’

– কইমই.কম ও নিউজ১৮ অবলম্বনে

https://www.mega888cuci.com