দ্য এক্স-ফাইলস: আজো টিকে আছে সেই আবেদন

নব্বই এর দশকে দশটার ইংরেজি সংবাদ শেষ হলেই নতুন এক রোমাঞ্চ শুরু হত। কারণ, তখন শুরু হত ‘এক্স-ফাইলস’। ওই প্রজন্মটা ছোট পর্দায় যেসব রোমাঞ্চকর সিরিজের মাঝে বেড়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছিল তার মধ্যে ওপরের দিকেই থাকবে এর নাম।

সে সময় দ্য এক্স-ফাইলস একটি কাল্ট ছিলো। এক্স-ফাইলস এর সেই থিম মিউজিক কানে গেলে আজোও শরীর রোমাঞ্চিত হয়ে উঠে। প্যারানরমাল রহস্য ও সাইফাই জনরার এই সিরিজটি ১৯৯৩ সালে আমেরিকার ফক্স টিভি চ্যানেলে দেখানো শুরু হয়ে ২০০২ সালে শেষ হয়। বিটিভিতে ৯০ দশকের মাঝামাঝি প্রদর্শন শুরু হয়। আজ এতদিন পরেও সিরিজটির আবেদন টিকে আছে সেই প্রথম সময়ের মতই।

সিরিজের কাহিনী আবর্তিত হয় এফবিআই এর দুজন এজেন্টকে ঘিরে যাদের একজন হলেন ফক্স মল্ডার আর অপরজন ড্যানা স্কালি । দু’জন দুই বিপরীত চিন্তা ভাবনার মানুষ।

ফক্স মল্ডার নিজে ভিনগ্রহী অর্থাৎ এলিয়েন, আর ইউএফও এমনকি প্যারানরমাল বিষয়ে অগাধ বিশ্বাসী। শুধু যে সে এলিয়েনের অস্তিত্বই বিশ্বাসী তা নয় তারা যে পৃথিবীতে এসেছে এবং সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে, এই তত্ত্বেও মল্ডার বিশ্বাসী। ফক্স মল্ডার ছোটবেলায় তার বোন সামান্থাকে অপহৃত হতে দেখার পর থেকে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস পোষণ করেন যে তাকে এলিয়েনরাই উঠিয়ে নিয়ে গেছে।

বিপরীতে পেশায় একজন চিকিৎসক ড্যানা স্কালি একজন কঠিন রকমের যুক্তিবাদী মানুষ। সব কিছুকেই যাচাই করেন বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির মাপকাঠিতে। মোল্ডার যেই কেসগুলোকে অপ্রাকৃত বা পাবাস্তব বিষয় হিসেবে অবলীলায় মেনে নন স্ক্যালি সেগুলোকে ব্যাখ্যা করেন বিজ্ঞানের আলোকে।

এখানে বলে রাখা ভালো এক্স-ফাইল বলতে বোঝায় এমন সব কেস যা ব্যাখ্যাতীত, অমীমাংসিত ও রহস্যময় ঘটনাসমূহ যা এফবিআই’র এক্স-ফাইলস ইউনিটে তদন্তের জন্য আসে। আর মোল্ডার ও স্ক্যালি সেগুলোকে নিয়ে তদন্ত করেন। পরাবৈজ্ঞানিক, পরাবাস্তব, আধিভৌতিক বা অতিপ্রাকৃত বিভিন্ন ঘটনার অনুসন্ধান করতে গিয়ে এই দুই এজেন্ট এরিয়া-৫১, প্রাচীন বন ও গুহা, উত্তর মেরু, গভীর সাগর, বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের মতো বিভিন্ন বিপদসঙ্কূল ও রহস্যময় এলাকা চষে বেড়ান।

এই সব অভিযানে তারা আরোও বেশী গভীর বন্ধুত্ব ও পারষ্পরিক অনুরক্ততায় জড়িয়ে পড়েন। তবে সিরিজের কাহিনী এগোবার সাথে সাথে স্কালি ক্রমেই বুঝতে পারে মোল্ডারের দৃষ্টিভঙ্গি আসলে কতটা সত্য! সিরিজের পুরোটা জুড়ে এক অদেখা সিন্ডিকেটকে দর্শকরা চিনতে পারে যার অন্যতম পুরোধা ব্যক্তি হলেন নামহীন রহস্যময় সিগারেটসেবী ক্যান্সারম্যান।

এক্স-ফাইলসের বিখ্যাত থিম টোন কম্পোজ করেন মার্ক স্নো। এজেন্ট মল্ডারের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ডেভিড ডুকোভনি, আর এজেন্ট স্কালির ভূমিকায় ছিলেন জিলিয়ান অ্যান্ডারসন। দুজনেই তাদের ভূমিকায় অনবদ্য অভিনয় করেন।

সিরিজের নির্মাতা হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে যান ক্রিস কার্টার। এক ফাঁকে ১৯৯৮ সালে পরিচালক ক্রিস কার্টার নিয়ে আসেন ‘দ্য এক্স-ফাইলস: ফাইট দ্য ফিউচার’। সিরিজের সিজন ৮ আর ৯-এ ফক্স মল্ডার চরিত্রে অভিনয়কারী ডুকোভনি অনিয়মিত হয়ে পড়লে নয়টি সিজন শেষে (২০২ পর্ব) ২০০২ সালে সিরিজটির সমাপ্তি ঘটে।

২০০৮ সালে ‘দ্য এক্স-ফাইলস: আই ওয়ান্ট টু বিলিভ’ নামের আরেকটি ছবি মুক্তি পায়। ২০১৬ সালের ২৪ জানুয়ারি শুরু হয় দ্য এক্স-ফাইলসের মাত্র ৬ পর্বের দশম সিজন। ২০১৮ সালে প্রচারিত হয় সালে এগারো পর্বের একাদশ সিজন। তবে ইতোমধ্যে বুড়িয়ে যাওয়া মোল্ডার আর স্ক্যালি আগের মতো সেভাবে দর্শক টানতে পারেননি।

https://www.mega888cuci.com