দ্যা থিওরি অব হকিং

চলে গেলেন স্টিফেন হকিং। ব্যক্তিজীবন এ তিনি এমন রুগ্ন আর পদার্থবিজ্ঞান এর মত কাঠখোট্টা বিষয় নিয়ে থাকলেও তার জীবনে রয়েছে সব মজার আর চমকপ্রদ ঘটনা, যা পাঠক হিসেবে আপনাকে চমকে দেবে।  চলুন তবে জেনে নেই।

১.

স্টিফেন হকিং এর জন্ম হয় গ্যালিলিও গ্যালিলাই এর জন্মের ঠিক তিনশত মৃত্যবার্ষিকীর দিনে ১৯৪২ সালের ৮ জানুয়ারী। আবার, তিনি মারা যান ১৪ মার্চ আলবার্ট আইনস্টাইনের জন্মদিনে।

২.

পড়াশুনার জীবনে তিনি ততটা ভাল ছাত্র ছিলেন না স্কুল পর্যায়ে। বিশ্বখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি লেখাপড়ায় এত কম সময় দেন যে তার রেজাল্ট ফার্স্ট ও সেকেন্ড ক্লাসের মাঝামাঝি হয়।

৩.

মজার বিষয় হলো তিনি ফার্স্ট ক্লাস পাওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে আশ্বস্ত করেন এই বলে যে তিনি ফার্স্ট ক্লাস না পেলে ক্যামব্রিজ এ রিসার্চ করতে পারবেন না। এবং তিনি বিস্ময়কর ভাবে তাঁদের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষমও হন। ১৯৬৮ সালে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউ অব অ্যাসট্রোনোমিতে স্টাফ মেম্বার নিযুক্ত হন।

৪.

২০১৪ সালে নিজেকে নাস্তিক ঘোষনা করেন। ঘটনাটি বিশ্বব্যাপী আলোচিত, ক্ষেত্র বিশেষে সমালোচিতও হয়।

৫.

‘কিপ টকিং’ গানে তার ভয়েজ ব্যবহার করা হয়েছিলো।

৬.

মাইকেল হোয়াইট ও জন গ্রিবিন তাঁদের বই ‘স্টিফেন হকিং: আ লাইফ ইন আ সাইন্স’- এ লিখেছিলেন, ‘হকিং খুবই বদমেজাজী।’

৭.

থিওরি অব এভরিথিং। আরেক বিষ্ময়ের নাম।এটি আসলে স্ট্রিং থিওরির নব রূপ।

আরো ভালো করে বললে সুপার স্ট্রিং থিওরি। এর মূলবিষয় কসমোলোজি। সৃষ্টিতত্ত্বীয় রহস্য নিয়ে গবেষণা মূলত এর কাজ। এখানে ধারনা করা হয় আমরা আসলে থ্রি ডাইমেনশনে বাস করি না। এটি আসলে মাল্টি ডাইমেনশনাল। অবাক হলেন তো? প্রশ্ন আসতে পারে,  তাহলে এই মাল্টিডাইমেনশনকে আমরা উপলব্ধি করতে পারছিনা কেন?

আসলে মাত্রা গুলো এতই সুক্ষ যে এরা এক ইঞ্চির ট্রিলিয়ন ভাগের একভাগ বিভক্ত থাকে বা ফোল্ড থাকে।আর এ ডাইমেনশনই এ থিওরির ফোকাসের জায়গা।

৮.

হকিং নারীসঙ্গ উপভোগ করতেন। ‘স্টিফেন হকিং: আ লাইফ ইন আ সাইন্স’ বইয়ে লেখকদ্বয়ের মতে অন্তত তাই। তাঁরা তাদের উক্ত বইয়ের ২৮৮ নম্বর পাতায় বলেন এমন কথা। তাঁরা, আরো জানান আবেদনময়ী নারী তারকাদের ছবি ঝোলানো থাকতো তাঁর দেয়ালে। এর মধ্যে মেরিলিন মনরোর ছবিও ছিল।

৯.

১৯৬৫ সালে তিনি বিয়ে করেন জেন ওয়াইল্ডকে। তাঁদের সংসার ৩০ বছর স্থায়ী হয়। সে বছরই মানে ১৯৯৫ সালে তিনি অ্যালায়েন ম্যাসনকে বিয়ে করেন। সেটাও ভেঙে যায় ২০০৬ সালে। তিনি তিন সন্তানের জনক।

১০. 

ইংল্যান্ড ফুটবল দলকে ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জয়ের কৌশল জানিয়েছিলেন হকিং। তাঁর গবেষণা খুব ঘটা করে ছাপিয়েছিল দ্য গার্ডিয়ান। গবেষণার জন্য ১৯৬৬ সাল থেকে শুরু করে ইংল্যান্ডের ৪৫ টি বিশ্বকাপ ম্যাচে্ সবগুলো তিনি দেখেছিলেন। এর মধ্যে ২০৪ টি পেনাল্টি পর্যবেক্ষণ করেন। খেলোয়াড়দের টিপসও দেন হকিং। বলেছিলেন, ‘ডান কিংবা বাম – যে পায়েই দক্ষ হোক না কেন, বেশি গোল পাবেন টাক মাথার ফুটবলাররা। এটার পেছনের কারণটা অবশ্য পরিষ্কার নয়। এটা বিজ্ঞানের অনেকগুলো রহস্যের একটি।’

https://www.mega888cuci.com