ইনিই ইতিহাসের সবচেয়ে লম্বা মানব

পৃথিবীর ইতিহাসে মাত্র ১৮ জন মানুষ আছেন যাদের উচ্চতা ৮ ফুট অতিক্রম করেছে। ৮ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতা নিয়ে রবার্ট ওয়াডলো-ই তাদের মধ্যে সবার ওপরে। বিশ্বের সর্বোচ্চ উচ্চতাসম্পন্ন ব্যক্তির উপাধি পেতে আজ পর্যন্ত তাঁর ধারে-কাছেও কেউ আসতে পার নি। এমনকি বর্তমান সময়ে সবচেয়ে লম্বা মানুষ সুলতান কসেন, ওয়েডলো এর তুলনায় চার ইঞ্চি ছোট।

কে এই রবার্ট ওয়াডলো?

২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯১৮ সালে অবিশ্বাস্য আকারে জন্মগ্রহণ করেন রবার্ট পার্শিং ওয়াডলো। জন্মের পরেও তাঁর শারীরিক বিকাশ ছিল চোখে পড়ার মত। তার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার জন্য একটি বিশেষ ডেস্ক তৈরি করা হয়। আট বছর বয়সেই তিনি ছয় ফিট উচ্চতায় পৌঁছে নিজের পিতার উচ্চতাকেও হার মানায়। ১৩ বছর বয়সে, যখন তিনি বয়েজ স্কাউটে যোগদান করেন, তখন তাঁর উচ্চতা ছিল ৭ ফুট ৪ ইঞ্চি। তাঁর ইউনিফর্ম তৈরি করার জন্য ৪২ ফুট সমমানের কাপড় প্রয়োজন হয়েছিলো।

রবার্ট রিপলি’র কার্টুন চরিত্রে ওয়াডলো’র মত একজন লম্বা মানুষকে ব্যবহারের জন্য, ওয়াডলো তার নিজ এলাকায় ‘অ্যালটন জায়ান্ট’ নামে পরিচিতি লাভ করে। তিনি যখন স্নাতক পাশ করেন তখন তার উচ্চতা ছিল ৮ ফুট ৪ ইঞ্চি। স্নাতক পাশ করার পরপরই তিনি ‘রিংলিং ব্রাদার্স সার্কাস’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশ ভ্রমণ করেন।

ওয়াডলো শুধুমাত্র তার জন্য নির্মিত বিশেষ গাড়িতেই চলাচল করতে পারতেন, যাতে তার উচ্চতার জন্য সিট সরিয়ে বিশেষ স্থান তৈরি অরা হয়েছিলো। প্রকৃতপক্ষে, ওয়াডলোর বিশেষ উচ্চতার কারণেই তাকে বিশেষভাবে নির্মিত কিছু জিনিস ব্যবহার করতে হতো। শুধুমাত্র তাঁর পোশাকই নয়, তাঁর হাঁটার জুতা, শেভিং ব্রাশ, লাইটার, চেয়ার সবই ছিল আলাদাভাবে তৈরি।

ওয়াডলো এর জুতা পরবর্তী সময়ে একটি নিদর্শন হয়ে যায়। আন্তর্জাতিক জুতো কোম্পানি তার জন্য ‘39AA’ সাইজের বিশেষ জুতো তৈরি করতো। এর দ্বারা তারা তাদের ব্যবসার প্রচারণা করতেও সক্ষম হয়।

ওয়াডলোর অস্বাভাবিক মৃত্যু

ওয়াডলো’র অস্বাভাবিক রকমের শারীরিক বৃদ্ধির পেছনে পিটুইটারি গ্রন্থি দ্বারা নিঃসৃত কিছু হরমোণ দায়ী। তিনি জন্মের পর থেকেই ক্রমাগত লম্বা হয়েছেন। ডাক্তাররা ধারণা করেছিলেন, যদি ওয়াডলো ২২ বছরের বেশি বেঁচে থাকতেন তাহলে নিশ্চিত ৯ ফুট উচ্চতা ছাড়িয়ে যেতেন। ১৯৪০ সালের ১৫ জুলাই তাঁর মৃত্যু হয়।

ওয়াডলো’র শরীরের জন্য তার এই অভূতপূর্ব বৃদ্ধি বেশ ঝুকিপূর্ণ ছিলো। তাঁর শরীরের ওজন বহন করতে তার পায়ের কষ্ট হতো বেশ। তার ওজন প্রায় ৪৫০ পাউন্ডের কাছাকাছি ছিলো যখন তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই অস্বাভাবিক উচ্চতার কারণেই তাকে পায়ে একধরণের যন্ত্র ব্যবহার করে হাঁটতে হতো।

মূলত এই ‘দানবীয়’ উচ্চতাই তাঁকে দ্রুত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। বিশাল দেহ হওয়ার কারণে, ওয়াডলো’র নানান পেশি এবং জৈবনিক ক্রিয়া ঝুঁকির মধ্যে ছিলো।

ওয়াডলো’র পরিবারের ভয় ছিলো মৃত্যুর পর তার শরীর চুরি হয়ে যেতে পারে। এর কারণেই ওয়াডলো’র পরিবার তাই ১০ ফুট ৬ ইঞ্চি লম্বা একটি লোহার কফিনে দাফন করে ওয়াডলোকে। আর এই কফিনটি ভারি কংক্রিট খিলানের মধ্যে আবদ্ধ ছিলো।

– রিপলিস.কম অবলম্বনে

https://www.mega888cuci.com