ফারাও সম্রাটের পাসপোর্ট বানানোর গল্প!

না, কোনো গালগল্প নয়। আক্ষরিক অর্থেই ফারাও সম্রাট দ্বিতীয় রামিসেসের পাসপোর্ট ইস্যু করেছিল মিশর সরকার। ১৯৭৬ সালে যখন ফ্রান্সে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট বানানো হয়, তার তিন সহস্রাব্দ আগেই এই সম্রাটের মৃত্যু হয়েছিল।

প্রাচীন মিশরের যে ক’জন ফারাও সম্রাট ছিলেন তাঁর মধ্যে তাঁর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিধর আর ক্ষমতান ছিলেন দ্বিতীয় রামিসেস। মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি সিংহাসনে বসেন। মনে করা হয়, বয়স ২০ হওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।

এই তরুণ ফারাওয়ের বেশ শক্তিশালী এক সেনাবাহিনী ছিল। এর সুবাদে তিনি নিজের একগাদা মুর্তি আর বিশাল এক সমাধিক্ষেত্রে বানিয়েছিলেন। তাঁকে ঘিরে অনেক বিতর্ক থাকলেও তিনি চেয়েছিলেন, মৃত্যুর পরও যেন তাঁকে সবাই মনে রাখে। আর বলা যায়, নিজের প্রচেষ্টায় তিনি যথেষ্ট সফল ছিলেন।

মিশরের ফারাও বা সম্রাট দ্বিতীয় রামিসেসের মুর্তি

রামিসেসদের সময়েরও ১৫০০ বছর আগে পিরামিড নির্মিত হয়। কোনো নির্দিষ্ট একটি নির্মানে নজর না দিয়ে নিজের স্মৃতি ধরে রাখতে নীল নদের তীরে নিজের জন্য এক গাদা স্মৃতিসৌধ বানান দ্বিতীয় রামিসেস। এর মধ্যে তাঁর প্রেমিকা নেফারতিতির সমাধিক্ষেত্রে আছে। বলা হয়, এর মধ্যে যে মুর্তি স্থাপন করা হয়েছে তার ওজনই নাকি ১০০ টনের ওপর।

দ্বিতীয় রামিসেসের সমাধিক্ষেত্রে প্রথমে নদী উপত্যকাতেই ছিল। কিন্তু রাজ্যের পুরোহিতরা সন্দেহ করেছিলেন যে, লাশ চুরি হয়ে যেতে পারে। তাই লাশ সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। গোল বাধে তাঁর সারকোজাস কিংবা পাথর দিয়ে বানানো কফিন দিয়ে ঘিরে। অনেক প্রতিপত্তি ও সম্পদ থাকার পরও ফারাওয়ের এই কফিন ইতিহাসের মতই যেন হারিয়ে গেছে।

ফারাওয়ের মৃতদেহ সংরক্ষণ নিয়ে আধুনিক যুগে এসেও মিশর সরকারকে যথেষ্ট ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। ৭০-এর দশকের মাঝামাঝিতে এই নিয়ে অনেক আলোচনাও করা তারা। পরবর্তীতে ফ্রান্সে কিছু বিশেষজ্ঞ খুঁজে পাওয়া যায়। তখনই তিন হাজার বছর পুরনো এই মমিকে প্যারিসে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়ে যায়।

শিল্পীর তুলিতে আঁকা সম্রাট দ্বিতীয় রামিসেস ও সম্রাজ্ঞী নেফারতিতি

আর দেশ যখন ছাড়তেই হবে, তখন আপনি তিন হাজার বছর পুরনো সম্রাট হউন আর যেই হউন, আইন তো মানতেই হবে। কারণ মিশরের আইনে বলা হয়েছে মৃত বা জীবিত – কেউই যথার্থ আইনী কাগজপত্র ছাড়া দেশ ছাড়তে পারবেন না। তখনই দ্বিতীয় রামিসেসের জন্য তড়িঘড়ি করে পাসপোর্ট বানানো হয়।

ইতিহাসে তিনিই প্রথম মমি যার কি না পাসপোর্ট আছে। সেখানে পেশা হিসেবে লেখা আছে ‘মৃত রাজা’। মিশর সরকার স্রেফ প্রচারণা পাওয়ার জন্য এই পাসপোর্ট বানানোর কাজটা করেনি, তারা মনে করেছিল পাসপোর্ট থাকলে মমিটি বাড়তি সুরক্ষাও পাবে। কারণ এর আগে পরে অনেকবারই মিশর থেকে মমি চুরি বা চুরি করার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। যদিও, ইউরোপের মিউজিয়ামগুলো কখনোই মমি চুরির ঘটনার কথা স্বীকার করে না।

প্যারিসের গবেষণায় প্রমাণিত হয় যে দ্বিতীয় রামিসেস উচ্চতা ছিল পাঁচ ফিট সাত ইঞ্চি। তাঁর চুল ছিল লাল রঙা। শরীরে আর্থাইটিসের সমস্যা ছিল। দাঁতে ফোঁড়া ছিল। পরীক্ষা করে  শরীরে যুদ্ধের ক্ষত চিহ্নও পাওয়া যায়। এসব পরীক্ষা-নীরিক্ষার পর পুরোপুরি সংরক্ষণের প্রক্রিয়া শেষে আবারো সম্রাটের স্বদেশ প্রত্যার্বতন ঘটে। বলাই বাহুল্য, এবারো সাথে ছিল পাসপোর্ট!

ফারাও দ্বিতীয় রামিসেসের মমি

– ফ্রাইডে টাইমস অবলম্বনে

https://www.mega888cuci.com