দ্য নেক্সট বিগ থিং!

তিনি নিজে বিশাল এক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ভক্ত। বিশ্বকাপ চলাকালে তাঁর সাথে তুলনা নয় ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ী রোনালদো ডি লিমার সাথে। তিনি বিশ্বকাপ চলাকালে সব লিওনেল মেসির হাত থেকে ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের মশাল ছিনিয়ে নেন। তিনি নিজের প্রথম বিশ্বকাপে খেলতে নেমেই ছুয়ে ফেলেন ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা খেলোয়াড় পেলের কীর্তি।

তিনি হলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। নেক্সট বিগ থিং অব ফুটবল। নি:সন্দেহে এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার তিনি।  ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানে খেলেন প্যারিস সেইন্ট জার্মেইনের হয়ে। বিশ্বকাপে খেলতে আসার আগেই পিএসজির হয়ে টুকটাক নাম কামিয়েছেন। এবার বিশ্বকাপে নিজেকে নিয়ে গেলেন গ্রেটদের কাতারে।

চারটি গোল করে তিনি ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম কাণ্ডারি, ফরাসি বিপ্লবের এক্স ফ্যাক্টর। আর প্রথম বিশ্বকাপ শেষেই যাকে নিয়ে এত হৈচৈ তাঁর দিকে তো বড় দলগুলো হাত বাড়াবেই। হচ্ছেও তাই, খোদ রিয়াল মাদ্রিদ তাঁকে চাইছে। উদ্দেশ্য ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অভাব পূরণ করা।

সেদিনের সেই ছোট্ট কিশোর, যার শোবার ঘরে শোভা পেত রোনালদোর গাদাখানেক পোস্টার, কে ভেবেছিল একদিন সেই কিশোরকেই রোনালদোর উত্তরসূরী হিসেবে বিবেচনা করা হবে। জীবনটা বদলে গেছে এমবাপের। বিশ্বকাপ জয়, বিশ্বকাপের সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার পাওয়া – এত কিছুর পর এখন অমরত্ব ডাকছে এমবাপেকে।

এমবাপে বিশ্বকাপের ফাইনালের দিন ছুয়ে ফেলেন পেলেকে। ১৯৫৮ সালের ফাইনালে এই ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার মাত্র ১৭ বছর বয়সে সুইডেনের বিপক্ষে গোল করেন। এবার এমবাপে করলেন ১৯ বছর বয়সে।

এই দু’জন বাদে আর কেউই নিজেদের টিন এজ বয়সে বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল পাননি। পেলে তো বলেই দিলেন, ‘এভাবে যদি কিলিয়ান আমার রেকর্ড ধরে ফেলতে থাকে তাহলে তো আবার আমাকে বুট জোড়া নামিয়ে মাঠে নেমে যেতে হবে…’

ম্যাচের ৬৫ মিনিটে এবার গোলদাতাদের তালিকায় নাম তুলেন এই তরুন তুর্কি। মধ্যমাঠ থেকে বল নিয়ে একক প্রচেষ্টায় ক্রোয়েশিয়ার বক্সের ভেতর ঢুকার চেষ্টায় ছিলেন ডিফেন্ডার লুকাস হার্নান্দেজ। কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার ডি-বক্সের কাছাকাছি এমবাপেকে দেখতে পান হার্নান্দেজ।

আর তাই এমবাপেকে বল বাড়িয়ে দেন হার্নান্দেজ। বল পেয়ে সামান্য বাঁ-দিকে সড়ে ডান-পায়ের তীব্র শটে বল ক্রোয়েশিয়ার জালে পাঠান এমবাপে। এই গোলে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে শিরোপা জয়ের আরো কাছে চলে আসে ফ্রান্স।

পরে একটা গোল ক্রোয়েশিয়া পরিশোধ করে দিলেও তাতে শেষ রক্ষা হয়নি। এই বিশ্বকাপ তাই ফ্রান্সের। এই বিশ্বকাপ তাই এমবাপের আগমনী বার্তা নিয়ে আসার টুর্নামেন্ট। এবার কেবল গ্রেটনেস ছোঁয়ার অপেক্ষা!

https://www.mega888cuci.com