মনিকা, ওহ মাই ডার্লিং!

আশির দশকে আরডি বর্মনের একটা গান বেশ বিখ্যাত হয়েছিল। হেলেনের অপূর্ব নাচের সাথে সেই গানে আশা ভোঁশলের কণ্ঠও বাড়তি আমেজ ছড়িয়েছিল। তবে, সব ছাপিয়ে সবচেয়ে বিখ্যাত হয় একটা লাইন – মনিকা, ওহ মাই ডার্লিং!

‘মনিকা’ ও ‘ডার্লিং – এই দু’টি শব্দ এক করলে প্রথম যার কথা মাথায় আসে তিনি অবশ্য ভারতের কেউ নন। তিনি ইতালিয়ান। একাধারে একজন মডেল ও অভিনেত্রী। মডেল হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও পরবর্তীতে ইতালিয়ান চলচ্চিত্রে জায়গা করে নেন, পাড়ি জমান হলিউডেও। ন্যাচারাল বিউটি, দারুণ আকর্ষণীয় ফিগার ও অসাধারণ ব্যক্তিত্বের কারণে তিনি অনেক পরিচালকেরই কাঙ্খিত অভিনেত্রী। বিশ্ব সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম আকর্ষনীয় অভিনেত্রীদের একজন তিনি।

তাঁর নাম মনিকা বেলুচ্চি, পুরো নাম মনিকা আনা মারিয়া বেলুচ্চি। উচ্চতা ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি বা ১.৭৮ মিটার। ১৯৬৪ সালের আজকের দিনে চিটা ডি ক্যাস্টেলো, পেরুজিয়া, ইটালিতে জন্ম গ্রহণ করেন। তার বাবার নাম প্যাস্কুয়েল বেলুচ্চি, তিনি একটি ট্র্যাকিং কোম্পানির মালিক আর তার মা ব্রুনেলা হলেন একজন পেইন্টার।

বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান তিনি। অনেকের মতো তাঁরও ইচ্ছা ছিল আইনজীবী হিসেবে পেশাদার ক্যারিয়ার গড়ার। তার জীবন সে উদ্দেশ্যেই এগোচ্ছিল কিন্তু ইউনিভার্সিটি অফ পেরুজিয়াতে ভর্তি হওয়ার সময় তার স্কুলের জন্য টাকা উপার্জনের লক্ষ্যে একবার মডেল হয়েছিলেন।

সেই থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল তার মডেলিং ক্যারিয়ার, তারপর ১৯৮৮ সালে তিনি ইউরোপের ফ্যাশন সেন্টার মিলানে পাড়ি জমান এবং এলিট মডেল ম্যানেজমেন্টে যোগদান করেন। প্রকৃতিগতভাবেই সুন্দরী, আকর্ষণীয় লম্বা ফিগার আর অসাধারণ ব্যক্তিত্বের জন্য স্বল্প সময়েই সফল একজন মডেল হিসেবে প্যারিস তো বটেই, এমনকি আটলান্টিকের ওপারের নিউ ইয়র্ক সিটিতেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান।

তিনি ১৯৯০ সালে টিভি নাটক ভিটা কোই ফিজলি-তে অভিনয় করে তার অ্যাক্টিং ক্যারিয়ারের সূচনা করেন। সেই বছরই ‘ব্রিজান্টি’ (ইংরেজিতে ব্যান্ডিটস: লাভ অ্যান্ড লিবার্টি) মুভিতে অভিনয় করে বুঝিয়ে দেন, অভিনয়টাকেই বেশি সিরিয়াসলি নিতে যাচ্ছেন তিনি। তার উল্লেখ্যযৌগ্য সিনেমার মধ্যে ব্রাম স্টোকারস ড্রাকুলা, দ্যা অ্যাপার্টমেন্ট, ম্যালেনা, দ্যা ম্যাট্রিক্স, শুট দেম আপ, জেমস বন্ড সিরিজের স্পেক্টার সহ বেশকিছু ব্যাবসাসফল মুভিতে।

‘দ্য প্যাশন অব ক্রাইস্ট’ মুভিতে ম্যারি ম্যাগডালিন চরিত্রে অভিনয় করে কুড়িয়েছেন সমালোচকদের প্রশংসা তবে তিনি এখনো একবারের জন্যও অস্কার মনোনয়ন পাননি, মনোনয়ন পাননি গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডের জন্য কিন্তু পৃথিবী জুড়ে তাঁর ভক্তের সংখ্যা অসংখ্য। বিশেষ করে তিনি দুনিয়াজুড়ে কোটি তরুণ ফ্যানেরই ড্রিম গার্ল তিনি।

২০০৪ সালের আট নভেম্বর লা প্লাস বেলে ফেম ডু মন্ডে নামে টিভি শো-তে ফরাশি দর্শকদের ভোটে ‘দ্য মোস্ট বিউটিফুল ওম্যান ইন দি ওয়ার্ল্ড’ হয়েছিলেন, তিনি ফ্রেঞ্চ, ইংলিশ ও ইটালিয়ান ভাষায় ফ্লুয়েন্টলি কথা বলতে পারেন। ২০০৬ সালের কান ফিল্ম ফেস্টিভালে তিনি জুরি বোর্ডের একজন মেম্বার ছিলেন, প্যারিসের গ্রেভিন মিউজিয়ামে তার একটি মোমের প্রতিকৃতি রয়েছে।

মনিকার জন্ম ১৯৬৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। আলোকচিত্রী ক্লদিও কার্লোস ব্যাসোকে তিনি বিয়ে করেন ১৯৯০ সালে। যদিও সংসার চার বছরের বেশি টেকেনি। এরপর ১৯৯৯ সালে তিনি ফরাসী অভিনেতা ভিনসেন্ট ক্যাসেলকে বিয়ে করেন। এই দম্পতির দুই মেয়ে – ডেভা (২০০৪) ও লোনি (২০১০)। যদিও, এই সংসারও ২০১৩ সালে ভেঙে যায়। বয়স তাঁর ৫০ পেরিয়েছে অনেক আগেই, যদিও আজো আবেদন কমেনি এক বিন্দু!

https://www.mega888cuci.com