তুমি যদি সুখী হও কি দুঃখ আমার!

বিজ্ঞানের জগতে স্টিফেন হকিং কি করেছেন, সেসব নিয়ে বহু চর্চা হয়েছেন। তাঁর কর্মজীবন তাই কারো কাছেই অজানা নয়। তবে, হকিং সাহেব কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে বেশ রোম্যান্টিক ছিলেন।

না, এখনই অবাক হবেন না। এই সাদামাটা রোগা বিজ্ঞানীটি পেয়েছিলেন সেই মহিয়সীর দেখা, যার পরিচর্যায় তিনি আমাদের সামনে এত পরিচিত হতে পেরেছিলেন। জ্বি ঠিক ধরেছেন জেনের কথাই বলছি। পুরো নাম জেন ওয়াইল্ড।

গ্রাজুয়েশন শেষে ক্রিসমাসে হকিং অসুস্থ হয়ে পরেন। এদিকে জেন তাকে বলি বলি করেও ভালবাসার কথাটি বলতেই পারছিলেন না। গভীর ভালবাসা কি আর হুট করে মুখ ফুটে বলা যায়?

তাইতো তাঁর এত কালক্ষেপন। এদিকে হকিং এর রোগ ধরা পড়েছে। জেনও খবরটি পেলেন। এবার আর এ মমতাময়ী নিজেকে  ধরে রাখতে পারলেন না। নিউ ইয়ারের এক পার্টিতে তাদের দেখা হল। জেন জানালেন তার মনের কথা। হকিং এর পরিবারতো মহাখুশি। হবে বা নাই কেন?

এমন রুগ্ন মরনাপন্ন ছেলেকে কে বিয়ে করবে? হয়ে গেল ধুমধাম করে বিয়ে। জেন তার মমতার বাহু বাড়িয়ে মনপ্রাণ ঢেলে পতিসেবায় মনোযোগ দিলেন। জেন নিজের অস্তিত্বকে ও ভুলে গিয়েছিলেন হকিং এর মাঝে। এভাবে একতরফা সংসারকে আগলে চলতে হকিংজেন সংসার। তাদের ঘর আলো করে এল দুটি সংসার। তেমনি ঠিকঠাক চলছিল।

কিন্তু কথায় আছে পর কখনো আপন হয় না। জেনেরও তাই ঘটলো। জেনকে বাহিরের কিছু কাজে জোনাথন নামের এক ভদ্রলোক সাহায্য করছিলেন কিছুদিন ধরে। তা হকিংয়ের মায়ের চোখ এড়ায়নি। তিনি জোনাথনের উপস্থিতিতে নোংরা ভাষায় বকা দিলেন জেনকে।

হকিং-জেন পরিবার

জেন তখন ছিলেন অন্ত্বসত্তা। হকিং এর মা জেনকে ঐ সন্তানের বৈধতা নিয়ে অপবাদ দেন। জোনাথন খুবই অপমানিত হয়ে বেরিয়ে যান। জেন এর কষ্টের কথাতো ভাষায় অপ্রকাশযোগ্য। যে মানুষটা হকিং কে এতটা আগলে রাখে, সংসার সামলায় তাকে এমন অপবাদ!

তবে এবারে শুনুন হকিং সাহেবের বয়ান, ‘আমার ট্রাকিওষ্টামী অপারেশনের পর আমার চব্বিশঘন্টা নার্স লাগতো। হয়তো এ কারনেই বিয়ের উপর আমার ক্রমশ বেশী প্রেশার পড়ছিলো। তাই বিরিয়ে এলাম। এখন থাকি ক্যামব্রিজ এর নতুন ফ্লাটে। আমরা এখন আলাদা থাকি।’

কৃষ্ণগহব্বর এবং শিশু মহাবিশ্ব ও অন্যান্য বইয়ের ১৫৪ পৃষ্ঠা থেকে লেখক হকিং নিজেই। তো যে হকিংকে জেন পঞ্চাশ বছর আগলে রাখলেন,  সেবা করলেন তার এত বছর পরে সেই মেয়েটিকে শুনতে হল তারই পরিবারের তার মা এর থেকে যে নিজেও একজন নারী, যে জেন চরিত্রহীন! তার সন্তান অন্য কারোর। আর পতি মহাশয়?  তিনি চব্বিশঘন্টা এখন ঐ নার্সকেই কল্পনা করেন! তার ঐ নার্সকে প্রয়েজন! জেন এখন কেউ নয়।

দ্বিতীয় স্ত্রী অ্যালায়েন ম্যাসনের সাথে হকিং

ওই নার্সটি কে জানেন?

তার পরবর্তি দ্বিতীয় প্রণয় অ্যালায়েন ম্যাসন! হোকা সেটা দ্বিতীয় বিয়ে, হকিংয়ের জন্য সেটা ছিল প্রথম প্রেমের কাছে ফেরা। দু’জনের বিয়ে হয় ১৯৯৫ সালে, সেবারেই তো জেনের সাথে আনুষ্ঠানিক ছাড়াছাড়ি হয়। যদিও, ম্যাসনের সাথেও ১১ বছরের বেশি সংসার করা হয়নি হকিংয়ের।

যখন জেন ও হকিংয়ের যখন চূড়ান্ত বিচ্ছেদ ঘটে তখন ভগ্ন হৃদয়ে জেন বলেছিলে, ‘আমি হয়তো তোমার জন্য সবকিছু করতে পারিনি,  কিন্তু আমি আমার সর্বোচ্চটা করেছি।’

আর এটাই সামাজিক বিজ্ঞানের, সংসার ধর্মের ‘থিওরি অব এভরিথিং’। ফিজিক্স এর থিওরি দিয়ে, সূত্র দিয়ে যতটা সহজে নিয়মকে বেঁধে ফেলা যায়,  সংসারে সেটা ততটাই কঠিন। আর তাইতো জেন সর্বোচ্চটাই দিয়েও সবকিছু ধরে রাখতে পারেন নি!

https://www.mega888cuci.com