তাকদীর প্লটহোল!

টানা দুইরাতে তাকদীরের আট পর্ব যখন শেষ করি তখন ঘড়িতে ৩টার বেশি বেজে গেছে। কিন্তু এরপরও প্রায় ঘণ্টাখানেক ঘুমাতে পারিনি, ছটফটানিতে! মানে মনের মাঝে খুঁতখুঁতানি নিয়ে কি ঘুমানো যায়? এক দারুণ গাঁথুনির গল্প, জমাট চিত্রনাট্য, দুর্দান্ত অভিনয়ের মাঝেও এইরকম প্লটহোল থাকলে কি ভাল লাগে? আচ্ছা তাইলে খুলেই বলি!

তার আগে আপনি নিজেকে রানার জায়গায় বসান, এইবার বলেন আপনি আপনার কলিগের সাথে গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ এক অ্যাসাইনমেন্টে, মাঝপথে আপনার কলিগ আপনার সামনে খুন, আপনি কোনভাবে খুনির কাছ থেকে বিপদমুক্ত, এইবার আপনার প্রথম কাজ কি হবে?

আপনি যদি তাকদীর না দেখে থাকেন আর আমি যদি এখন বলি যে আপনি লাশ নিয়ে ফেরীর তিনতলা থেকে নিচে নামবেন, একটা লাশবাহী গাড়ি খুজবেন এবং সবার চোখ ফাকি দিয়ে সেই গাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে ভেতরে উঠে ঠান্ডার মধ্যে বসে থাকবেন। প্লিজ মারতে আসবেন না আমাকে, কারণ তাকদীরে পরিচালক এটাই দেখিয়েছেন।

আপনি আপনার অফিসে কাউকে ফোন করবেন না, পরিচিত কাউকে জানাবেন না, এই ৯৯৯ এর যুগে পুলিশের কাছে তো নাই-ই, আপনি বরং অপেক্ষায় থাকবেন, কখন আপনার কলিগের লাশ কাটতে একজন ডোম আসবে, সে মদ খেয়ে ঘুমাবে এরপর আপনি তার ফোন চুরি করে প্রথম কলটাই করবেন এমন একজনকে যে শুরু থেকেই আপনাদের এই অ্যাসাইনমেন্ট পছন্দ করেনি, এবং যাদের বিরুদ্ধে অ্যাসাইনমেন্ট করা নিয়ে এত কিছু সেই তাদের খুব কাছের!

আমি জানিনা নিজে সাংবাদিক বলেই কি সাংবাদিক চরিত্রগুলোর ভুলত্রুটি বেশি চোখে পড়ে! নাকি আপনাদেরও এটি মনে হয়েছে? এর আগে সুপার হিট ঢাকা অ্যাটাকেও মাহির সহকর্মী ক্যামেরাপারসনকে নিয়েও আমার একই অনুভূতি ছিল, কারণ ওইরকম একটা মহাগূরুত্বপূর্ণ অ্যাসাইনমেন্টে ওই টাইপের জোকার ক্যামেরাম্যান বাস্তবে কখনোই সঙ্গী হবে না।

বোঝাই যায় পরিচালকরা সাংবাদিকতা জিনিসটা তাদের চলচ্চিত্রে রাখতে চাইলেও সেটা নিয়ে একটু স্টাডি করতে আগ্রহী না! হয়তো তারা শুধু দর্শকের কথা ভাবে, সাংবাদিক দর্শকও যে একটা শ্রেণী এইটা মাথায় থাকে না।

তাকদীর ওভারঅল দেখার মতো। শুধু অ্যান্টাগনিস্ট চরিত্রগুলোর উপস্থিতি আরেকটু বাড়ালে হয়তো সিরিজটার ব্যাপ্তি ও গভীরতা দুই-ই বাড়তো। আর ডাবিংটা একদমই নিতে পারিনি। জানিনা নেটফ্লিক্সের মতো মূল ভাষার সাথে সাবটাইটেল থাকলে সমস্যাটা কি!

অনেক সমালোচনা হল এবার ভালোলাগার কথা বলি। অভিনয় সবচেয়ে ভালো লেগেছে সানজিদা প্রীতির স্বামীর। আর যেটা বেশি মনে ধরেছে তা হল তাকদীর আর মন্টুর ছোটবেলার ক্যারেক্টার বেছে নেয়াটা। পরিচালকে এখানে ধন্যবাদ দিতেই হবে। আমরা প্রায়ই এই ছোটখাটো বিষয় এড়িয়ে যাই তা হল শৈশবের চেহারার সঙ্গে বড়বেলার একটা মিল থাকা।

https://www.mega888cuci.com