ডট বাবা থেকে শট বাবা: তামিমের প্রত্যাবর্তন!

তামিম ইকবালকে এমন খুনে মেজাজে শেষ কবে দেখা গিয়েছিল?

সম্ভবত বছর দেড়েক আগের সেই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ফাইনালে। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সেই স্মৃতি এবার যেন ফিরে আসলো সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।

তামিম ইকবাল সেঞ্চুরি পেয়েছেন। এর চেয়েও বড় ব্যাপার হল তিনি ১৩৬ বলে ১৫৮ রানের অবিশ্বাস্য এক ইনিংস খেলেছেন। মানে এবার অন্তত স্ট্রাইক রেট বিষয়ক কোনো জটিলতা নেই। প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ের বোলিং মাথায় রেখে যেমন মারমুখী হওয়া দরকার, যেমন আধিপত্ত ধরে রেখে ব্যাটিং করা দরকার তার পুরোটাই করেছেন তিনি।

সেই বিশ্বকাপের সময় থেকেই নিজেকে হারিয়ে খুঁজছিলেন তামিম। ওপেনিংয়ে নেমে স্ট্রাইক রোটেট করতে না পারার যে তার সমস্যা সেটা আগেও ছিল। কিন্তু, বিশ্বকাপের মঞ্চে বড় ইনিংস খেলতে না পারার ব্যর্থতাটাই সেই সমস্যাটা যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছিল।

তামিম বিশ্বকাপ শেষে দেশে ফিরে নিজের ফিটনেস নিয়ে অনেক কাজ করেছেন। বিশ্রামে চলে গেছেন। ফিরেছেন, ফিরে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছেন। কিন্তু, আন্তর্জাতিকে যেন আক্ষেপ ঘুচছিলা ন কোনো ভাবেই। ক্রমেই যেন তামিম হয়ে উঠছিলেন সবার ‘করুণা’র পাত্র, যিনি কি না কোনোক্রমে নিজের জায়গাটা আকড়ে ধরে আছেন।

খর্বশক্তির জিম্বাবুয়ে বলেই তামিমকে ঘিরে আশা ছিল বেশি। এবার হয়তো বিশাল একটা স্কোর গড়বেন। কিন্তু, প্রথম ম্যাচে তিনি ব্যর্থ। আবারো স্ট্রাইক রোটেট নিয়ে সমস্যা, স্ট্রাইক রেট নিয়ে সমস্যা। নিন্দুকেরা আড়ালে ‘ডট বাবা’ খেতাবও দিয়ে ফেলছিল।

তামিম সেসব থোড়াই কেয়ার করেছেন। জিম্বাবুযের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচেই ২০ টি চার আর তিনটি ছক্কার এক ঝড় তুললেন। তাতে তিনি নিজেকে ফিরে পেলেন নতুন করে। ডট বাবা থেকে শট বাবা হয়ে ফিরলেন তিনি। এ যেন নতুন এক খুনে তামিম।

আর এর সুবাদে একগাদা রেকর্ড গড়ে ফেললেন তিনি। এই ১৫৮ রানের ইনিংসটাই ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। আর এই ইনিংসটা দিয়েই তিন ওয়ানডেতে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে পৌঁছে গেলেন সাত হাজার রানের মাইলফলকে।

ব্যাটিং কোচ নিল ম্যাকেঞ্জি একদিন আগেই বলে রেখেছিলেন – ‘বিশ্বাস করুন, যদি আপনারা মনে করেন সে কোন ভুল করেছে; আপনার বোঝার আগে সে বুঝে যাবে যে সে ভুল করেছে। তামিম নিজের ওপর অনেক চাপ দেয়। সে যদি আরো দুই-একটা বাউন্ডারি আদায় করে নিতে পারে তাহলে আপনারা সব ভুলে বলবেন – হি ইজ ব্যাক।’

হ্যা, এবার সত্যিই বলতে হচ্ছে – হি ইজ ব্যাক!

https://www.mega888cuci.com