এই হতাশাই তো এখন নিয়তি!

দুই ব্যাটসম্যানের ডাবল ফিগার ও আর তিন ব্যাটসম্যানের গোল্ডেন ডাক নিয়ে তো আর ১৭৫ রান তাড়া করা যায় না!

একটা কথা বলে রাখি, সিরিজ শুরুর আগে ২-১ ব্যবধানে হারব বললে আমরা অনেকেই খুশি মনে মেনে নিতাম। তখনকার বাস্তবতা সেটিই ছিল। কিন্তু সিরিজের বাস্তবতা হলো, সিরিজ জয়ের বড় সুযোগ হাতছাড়া হলো।

উইকেট যতটা মন্থর ও কঠিন হবে বলে ধারণা ছিল পরের ভাগে, শিশিরের কারণেই হয়তো, ততটা কঠিন হয়নি। ওদের দুই স্পিনার ভুগেছে। আমাদের জয়ের পথ তৈরি হয়েছে। তার পরও ম্যাচ জিততে না পারা হতাশার।

যদিও মিঠুনের সঙ্গে নাঈমের ৯৮ রানের জুটি হয়েছে, তার পরও কেবলই মনে হচ্ছে, মুশফিককেই চারে নামানো উচিত ছিল। ১৭৫ রান তাড়ায় দলের সেরা ব্যাটসম্যানকে এত পরে নামানোর মানে নেই।

নাঈম অভাবনীয় ব্যাটিং করেছে। তার ইনিংসটি দেখে মনে হলো, আজ দু’জন নাঈম ব্যাট করেছেন!

প্রথম ৫ ওভারের নাঈম, আগের দুই ম্যাচের মতোই। কিছুটা নড়বড়ে। পা নড়েনি। ব্যাটিংয়ে ছিল অস্বস্তি। জড়তা। এজন্যই ১৫ বলে তখন তার রান ৮। প্রথম ৫ ওভারেও বাউন্ডারি নেই। সেখান থেকে ৪৮ বলে ৮১ রানের ইনিংস, অবিশ্বাস্য ব্যাটিং!

বড় রান তাড়ায় অমন শুরুর পরও প্যানিকড না হয়ে দারুণভাবে ইনিংস গড়েছেন। বল সিলেকশন ছিল দেখার মতো। টেম্পারামেন্ট ছিল ভালো। বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের সহজাত নান্দনিকতাও ছিল। সবচেয়ে ভালো লেগেছে, কিছু ভালো বলেও বাউন্ডারি আদায় করেছেন। বোলারকে বাধ্য করেছেন তার জোনে বল করতে। লিগে যেভাবে খোলা মনে খেলেন, সেভাবে খেলতে পেরেছেন।

মাত্র তিন ম্যাচ দেখে বিশদ বিশ্লেষণে যাব না। তবে ছোট্ট ধারণা, তাকে আরও সলিড হতে হবে, অন্তত শুরুতে। নইলে সামনে কঠিন হবে। তবে এটা ঠিক, তার ভেতরে কিছু আছে, সেটি দেখাতে পেরেছেন। এখন কাজ করতে হবে ব্যাটিং নিয়ে, আরও আঁটসাঁট হতে হবে।

নাঈম আজ অসাধারণ খেলেছেন বটে, কিন্তু তার কাছে ম্যাচ জেতানোর আশা করা বাড়াবাড়ি। ম্যাচ জিততে হলে মুশফিকের দ্রুত ২০-৩৫ অন্তত দরকার ছিল। কিংবা রিয়াদের কোনো দুর্দান্ত ক্যামিও। হয়নি আজ।

সিরিজ থেকে প্রাপ্তি বেশ কিছু আছে। নাঈমের ব্যাটিং ছিল। বিপ্লবের বোলিং নিয়ে আগেই বিস্তারিত লিখেছি। আল আমিন ও শফিউলের বোলিংও দারুণ ছিল। শফিউল নতুন বলে বরাবরই বাংলাদেশের সবচেয়ে স্কিলফুল বোলারদের একজন। ছন্দে থাকলে বাতাসে ও অফ দা পিচ, সুইং করাতে পারে দুভাবেই। বছরের পর বছর ধরেই তার সমস্যা ধারাবাহিকতা ও ফিটনেস। সেপ্টেম্বরের ত্রিদেশীয় সিরিজ ও এই সিরিজের পারফরম্যান্সে শফিউলকে নিয়ে নতুন করে আশা দেখা যায়। বিশেষ করে নতুন বলে। যদি নিজেকে ফিট রাখতে পারেন আর কী!

সবচেয়ে হতাশার ছিল মুস্তাফিজের বোলিং। বিশেষ করে আজকের বোলিং দেখে তার চাওয়া বা পরিকল্পনা, কিছুই বুঝলাম না। এরকম মন্থর উইকেট, গ্রিপও করছিল টুকটাক, সেখানে মুস্তা ক্রমাগত লেংথ আর শর্ট অব লেংথ করে গেলেন। আমার স্রেফ মাথায় ঢুকল না। রান দিতে পারেন, মার খেতে পারেন। স্রেফ বোলিং প্ল্যানই বুঝতে পারলাম না।

তার বোলিংয়ের ডেভেলপমেন্ট কতটা হয়েছে বা হয়নি, ভেতরে ঢোকা বল এখনও আয়ত্ত করতে পারলেন না, ইয়র্কার কোথায় হারালো, এসব নিত্য আলোচনা তো আছেই। কিন্তু স্রেফ কাটারের কথা যদি বলি, তার বোলিংয়ের শক্তির জায়গার কথা যদি বলি, প্রথম ম্যাচের উইকেট তাঁর জন্য আদর্শ ছিল, নাগপুরের উইকেটও।

কাটার দিয়েই কাজ চালানো যেত। কিন্তু ফুল লেংথ বোলিং তো করতে হবে! সঙ্গে অড বাউন্সার বা শর্ট অব লেংথ। আজকে শেষ ওভারে শেষ ৪ বল মনে হয় ফুল লেংথ করলেন। যথারীতি ব্যাটসম্যান বড় শট খেলতে পারলেন না। অন্য সময় কোথায় ছিল ফুল লেংথ? আসলেই বুঝলাম না ভাবনাটা কী ছিল!

রিয়াদের ক্যাপ্টেন্সির টেকনিক্যাল বিশ্লেষণে আপাতত যাচ্ছি না। সেখানেও তার ভালোর দিকই বেশি থাকবে, তবে সিরিজ শুরুর আগে ছন্নছাড়া, ভগ্ন মনোবলের দলকে এভাবে উদ্বুদ্ধ করতে পারার জন্যই লেটার মার্কস পাবেন…

এই সিরিজ থেকে একটি ব্যাপার ভালো হয়েছে, মাঠের বাইরের নানা কারণ নিয়ে যে অস্থিরতা ছিল, সেটি চাপা পড়েছে অনেকটা। ক্রিকেট নিয়েই আলোচনা ফিরেছে। বিশেষ করে, সাকিব-তামিম-সাইফউদ্দিনরা নেই, তাদের ঘাটতি নিয়ে আলোচনা যতটা, তার চেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে দলে থাকাদের নিয়ে। এটি ভালো দিক।

সিরিজটি সব মিলিয়ে উপভোগ্য ছিল ক্রিকেটীয় দিক থেকে। শেষের হতাশা? সেটি তো এখন নিয়তিই। নতুন করে আর চোট লাগে না।

– ফেসবুক ওয়াল থেকে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।