তলোয়ার হাতে এক নানীর গল্প

জোয়ান অব আর্ক – নামটা আমাদের কমবেশি পরিচিত। বলা হত, তলোয়ার চালনায় তাঁর সাথে কারো তুলনা চলতো না। মৃত্যুর পরও তাই তিনি বেঁচে আছেন লেখায়, সিনেমায় কিংবা চিত্রকর্মে।

কিন্তু, তিনি বিদেশ বিভুঁয়ের নারী। ১৯ বছর বয়সে মারা যাওয়া ফরাসী এই নারীকে তাই সাত সমুদ্র তের নদীর ওপার থেকে বোঝা শক্ত।

উপমহাদেশীয় জোয়ান অব আর্ককে লেখকের সম্মান।

তবে, এখন যে বিস্ময় নারীর গল্প বলবো তিনি তিনি ভৌগলিক দিক থেকে আমাদের খুব কাছের একজন।  পার্শ্ববর্তী দেশে ভারতের কেরালাতে ৭৩ বছর বয়সী এই রণাঙ্গিনীর বাস।

ভাবছেন এক বুড়ি নানীমার গল্প? মোটেই না। তিনি সবার প্রিয় মিনাক্ষী আম্মা। পুরো নাম মিনাক্ষী রাঘবন।

তিনি অবাক করার মতো সুঠাম ও সক্ষম মানুষ। তাঁর স্বাস্থ্য দেখলে বয়সটা মোটেই অনুমান করা যায় না। এখনো প্রতিদিন তিনি মানুষকে মার্শাল আার্ট শিখিয়ে থাকেন।

ভাবছেন কারা শেখে তার কাছে? আপনাকে অবাক করে দিয়ে বলছি বাঘা বাঘা সুঠাম পুরুষ তাঁর কাছে আসেন দীক্ষা  নিতে।  আসে ক্ষুদে শিশুরাও। স্থানীয় মেয়েরা আসে আত্মরক্ষার কৌশল শিখতে। তাঁর শিক্ষার্থীদের সংখ্যা প্রায় দেড়শ’র মত।

তিনি জানান, নিজের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর ভয় নেই। কারোর সাধ্য নেই, তাঁর কাছে ভিড়ে। বলবেন নাই বা কেন? এখনো তাজা যুবার মতো তার পদচারণা। রোজ সকালে শুরু হয় তার এ দীক্ষা  পর্ব।  নিজে শেখান, তদারকি ও করেন। ভারতীয় অনেক সিনেমার হিরোও এসেছেন তার দীক্ষা  নিতে।

তাঁর এই মার্শাল আর্টের নাম ‘কালারিপায়াত্যু’। সাত বছর থেকে তিনি লেগে আছেন এ একনিষ্ঠ সাধনায়। তার সমরের সামগ্রী হল – তলোয়ার, ধনুক, আর লাঠি এবং অবশ্যই তার নিজস্ব স্টাইল। এ সব মিলিয়েই তাঁর কালারি।

দক্ষিণ ভারতে কালারি খুবই পুরনো একটা মার্শাল আর্ট। তামিল সঙ্গম সাহিত্যের মতে, খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শত থেকে দ্বিতীয় শতক পর্যন্ত কোনো একটা সময়ে এর জন্ম হয় কেরালায়। বলা হয়, পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে পুরনো আত্মরক্ষার কৌশলগুলোর একটি এই কালারি।

অনিন্দ্য এক সমর রূপ, মুগ্ধ  হবেন আপনিও। মিনাক্ষী বলেন, ‘সাত বছর বয়স থেকে আমি কালারিপায়াত্যু শেখা শুরু করি। এখনো শিখছি। আমাকে নাচ শিখতে দেখে আমার শিক্ষক বলেছিল, ‘ওকে কালারিও শেখাও’। পরে আমার কালারিই বেশি ভাল লাগতো, তাই ধরে রাখা।

দক্ষিণ ভারতের কেরালার বাটকারাতে সকাল বেলা গিয়ে আপনিও দেখে আসতে পারেন মীনাক্ষী’র রণাঙ্গণ। শত শত মেয়ে শিশুরা যেখানে রূপালি তলোয়ারের ঝনঝনি শুনাবে আপনাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে। এটা চুড়ির ঝুনঝুনের থেকেও বেশি ঘোর লাগাবে আপনাকে।

– দ্য উইয়ার্ড ওয়ার্ল্ড ও ইওর স্টোরি অবলম্বনে

https://www.mega888cuci.com