ক্রোয়াটরা যোদ্ধা: ডেভর সুকার

২০ বছর আগেও ফ্রান্সের বাঁধার সামনে থেমেছিল ক্রোয়েশিয়া। এবারও শেষ বাঁধাটার নাম ওই ফ্রান্স। তবে পার্থক্য একটাই, সেবার প্রথমবারের মত এসে সেমিফাইনাল খেলেছিল ক্রোয়েশিয়া, আর এবার পরিণত-অভিজ্ঞ একটা দল চলে গেছে ফাইনালে। স্বপ্ন দেখছে বিশ্বকাপ জয়ের।

১৯৯৮ সালে সেই বিশ্বকাপজয়ী দলের প্রাণভোমরা ছিলেন ডেভর সুকার। রিয়াল মাদ্রিদের এই স্ট্রাইকারের অবশ্য এই বিশ্বকাপেও আছে বড় অবদান। তিনি যে এখন ক্রোয়েশিয়ার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। আবেগে কাঁপতে থাকা এই কিংবদন্তি খেলাধুলা বিষয়ক স্প্যানিশ গণমাধ্যম মার্কা’র সাথে মুখোমুখি সাক্ষাৎকারে জানালেন বিশ্বজয়ের স্বপ্নের কথা।

ক্রোয়েশিয়ার ফাইনালে পৌঁছে যাওয়ায় আপনি কি বিস্মিত?

– অবশ্যই না। আমি ফুটবলের লোক। আমি জানি এর জন্য শারীরিক সক্ষমতাটা কতটা জরুরী। এখানেই ফেবারিটরা পিছিয়ে গেছে। আপনার প্রস্তুতিটা এখানে মোক্ষম হতে হয়। মে’র শেষ অবধি ইংলিশরা প্রচুর ম্যাচ খেলেছে। এরপর প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি নিয়েছে। আমরা বেজ ক্যাম্প হিসেবে সেইন্ট পিটার্সবার্গকে বেঁছে নিয়েছি। জায়গাটা মস্কোর মত এত গরম না।

এই পর্যায়ে আসাটা সহজ নয়। তিনটা ম্যাচ আমাদের অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়েছে। আমি লুকা মড্রিচকে বলেছি ও মাঠে কতটা বেশি দৌঁড়েছে, সিমে ভ্রাজালকো ওর অর্ধেকটা হাঁটু দিয়ে খেলেছে। আমি ড্রেসিংরুমে গিয়ে বলেছি ও একজন যোদ্ধা। ওর বাকি সতীর্থরাও তাই, তাই তো আমরা জিতেছি।

তাহলে আপনি বলতে চাচ্ছেন, ক্রোয়েশিয়ার মত দল কি কেবল শারীরিক দক্ষতা দিয়েই এতদূর আসলো…

– আমাদের যোগ্যতা আছে। ক্রোয়েশিয়া ফুটবলে অনেক বিনিয়োগ করেছে। দলটার ৯০ শতাংশ খেলোয়াড় এক সাথে অনূর্ধ্ব ১৭, অনূর্ধ্ব ১৯, অনূর্ধ্ব ২০ ও অনূর্ধ্ব ২১ খেলেছে। যুব ফুটবলে আমরা অনেক বিনিয়োগ করেছি। আমরা দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে খেলতে পারিনি। হল্যান্ড-বেলজিয়ামে ইউরো খেলতে পারিনি। আমাদের জনসংখ্যা মাত্র ৪৫ লাখ। এর যথোপযুক্ত ব্যবহার করেছি আমরা।

এই উত্থানে আপনার ভূমিকা কতটুকু?

– আমি সবাইকে ভরসা যুগিয়েছি। আমি খেলোয়াড় আর কোচদের স্বাধীনতা দিয়েছি। কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বা সিদ্ধান্তে আমি অযথা নাক গলাইনি। দুপুর একটায় আমরা কোচ পাল্টেছি। সন্ধ্যা সাতটায় আমরা নতুন কিছু প্রার্থীর সাথে যোগাযোগ করে আলাপ করেছি। পরদিন সকাল দশটায় চূড়ান্ত কথা বলেছি। ওই দিন বিকেলেই জাতীয় দল নিয়ে কোচ কিয়েভ গেছেন। আমরা মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছি। আর এটা দারুণ ভাবে কাজ করছে।

১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের স্মৃতি নিশ্চয়ই এখনো আপনার চোখে ভাসে। ফাইনাল থেকে তো মাত্র এক পা-ই দূরে ছিলেন…

– অতিতে ফিরে তাকাতে চাই না। তবে, আমরা যা করেছিলাম সেটা ছিল ঐতিহাসিক। সেখান থেকে আমরা উন্নতি করেছি। আমরা ছিলাম এই দলটার শৈশবের আদর্শ। (জভোনিমির) বোবান, জারনি, (রবার্ট) প্রোসিনেচকি … আমরা খুবই গর্বিত।

যুদ্ধের ইতিহাস পেছনে নিয়ে আপনাদের জন্য লড়াইটা নি:সন্দেহে বেশি কষ্টকর ছিল…

– কিছুটা। তবে, এই দলটার সাথে আমাদের বেশ কিছু মিল আছে। আমাদের মন অনেক বড়, আমরা এই জার্সিটার জন্য লড়তে জানি। দু’টো দলই মাঠে গিয়ে যোদ্ধার মত লড়াই করার তাড়নাবোধ করে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল আপনি বিশ্বকাপ খেলছেন, বুকে হাত রেখে লাখ লাখ ক্রোয়াটের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এর চেয়ে বড় আনন্দদায়ক আর কিই বা হতে পারে!

মড্রিচ কি এবার ব্যালন ডি’অর পাবেন?

– ও বাকিদের চেয়ে ভাল খেলছে। রিয়ালের হয়ে যা করেছে এতদিন, সেটাই এখন এখানে করেছে। ওকে ব্যালন ডি’অর দিতেই হবে। ও পুরো দলটাকে নিয়ন্ত্রন করে। এবার ব্যালন ডি’অর পাওয়ার শেষ উপকরণটা সংগ্রহ করার পালা। ফাইনালের ফলাফলটার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। তবে, আমি লুকার হয়েই ভোট চাইবো।

বিশ্বকাপে বড় দলগুলোর পারফরম্যান্সে আপনি কি হতাশ?

– ফুটবল খুব ন্যায্য খেলা। ফ্রান্স আর ক্রোয়েশিয়া সেটা দেখিয়েছে। ওরা উরুগুয়ে আর আর্জেন্টিনার মত দলকে হারিয়েছে। শেষে দু’টো সেরা দল ফাইনাল খেলছে। সত্যি কথা বলতে আমি জার্মানি, স্পেন কিংবা ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের মধ্যে কোনো শারীরিক প্রস্তুতিই দেখিনি।

ফাইনালের আগে কতটা চাপে ভুগছেন?

– মাঠের খেলায় ফেবারিটের তকমায় কোনো কিছু যায় আসে না। ইংলিশরা আমাদের নিয়ে বাজে বকেছিল, এখন নিজেদের কথাই ওরা গিলে ফেলেছে। আমি শুধু বলবো, আমাদের ৫০ শতাংশ সুযোগ আছে।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।