সৌম্য হাসুক, আত্মবিশ্বাস ফিরে আসুক

প্রস্তুতি ম্যাচে অর্ধমৃত এক জিম্বাবুয়ের সাথে সেঞ্চুরি করে এত উল্লাসের কারণ থাকাটা কিছুটা অস্বাভাবিক। ওয়েল, সৌম্য সরকারের গত ২-৩ বছর সম্পর্কে আপনার অবগতি থাকলে এবং আপনি যদি সৌম্যকে চোখ বন্ধ করে দেখতে না পারা গোষ্ঠীর একজন না হন, এই উল্লাস আপনার চোখে দৃষ্টিকটু লাগার কথা না। কেন?

লাল সবুজ জার্সিতে সৌম্য শেষ রান পেয়েছেন কবে, সেটার জন্য বেশ খানিকটা স্মৃতি ঘাটা লাগে। ভুল না করে থাকলে সেটা জানুয়ারিতে শ্রীলংকার সাথে। এর আগেও যে ব্যাটে অনেক রান ছিলো তা নয়, পরে তো ছিলোই না। এশিয়া কাপ ফাইনালে অবশ্য খেলেছিলেন ৩৩ রানের দরকারি ইনিংস, যদিও আউটের ধরণে হয়েছেন সমালোচিত।

এর আগে প্রতি ইনিংসেই আউট হওয়ার ধরণ নিয়ে প্রচুর প্রশ্ন উঠেছে, তার ফুটওয়ার্ক বলতে কিছু নেই, একথা প্রতিটি বাঙালি ক্রিকেট বোদ্ধার মুখেই শোনা যায়। হ্যান্ড আই কো অর্ডিনেশনের কথা বললে অবশ্য অন্য কথা উঠে আসে বলে এড়িয়ে যান, যাক গে সে কথা। কথা হচ্ছিলো সৌম্য রান পাচ্ছিলেন না।

এ বছরই বোধহয় ডিপিএল এর শেষ ম্যাচে ১২৭ বলে ১৫৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। সেটাতে আশার আলো ফুটেছিলো, চোখ ঝলসায়নি, বরং তার আগেই নিভে গেছে। জাতীয় দল, ঘরোয়ায় রান পাচ্ছিলেন না, সাকিব তামিমের ইনজুরির সুযোগে যেখানে জিম্বাবুয়ে সিরিজটা দলে জায়গা করে নেওয়ার বিরাট সুযোগ, সেই দলেও সুযোগ পেলেন না। ব্যাপারটা হতাশাজনক, কোচ বিশ্বকাপে তাকে পাওয়া নিয়ে আশাবাদী হলেও সৌম্য হয়ত সব দরজা বন্ধ হয়ে গিয়েছে ধরেই নিয়েছিলেন।

কিন্তু, হঠাৎ সৌম্যের ব্যাটে রান, জাতীয় ক্রিকেট লিগে শেষ ৪ ইনিংস – ১০৩*, ৩৩, ৭৬, ৭১। সাথে এক ইনিংসে নিয়েছেন ৫ উইকেটও। এরপর প্রস্তুতি ম্যাচের জন্য অধিনায়ক করা হলো তাকে, সেখানে ১৭৯ তাড়া করতে নেমে সঙ্গী মিজানুর শুরুতেই নেই, কিছুক্ষণ পর নেই ফজলে রাব্বিও। সেখান থেকে সেঞ্চুরি করে এরকম উল্লাস।

নাহ, প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি করাটা মহাকাব্যিক কিছু না। কিংবা ঘরোয়ার এক ম্যাচে দুই ফিফটি সাথে ৫ উইকেটও তাকে একেবারে অনন্যসাধারণ বানিয়ে দিচ্ছে না। কিন্তু কথা শুরু করেছিলাম একদমই অন্য একটা জিনিস নিয়ে, এরকম বুনো উল্লাসের কারণ কী?

লাল সবুজ জার্সিটা গায়ে জড়িয়ে রান পাওয়াটাই কারণ, কোন ম্যাচে করলেন, সেটা ব্যাপার না। আশার আলো নিভু নিভু অবস্থায় একটা সেঞ্চুরি কত মহামূল্যবান, সেটা যে দলের সাথেই হোক, সেটা বোঝানো কষ্টের ব্যাপার। জাতীয় দলে ফিরেই সৌম্য যে আবার ২০১৫ সালের মত আগুনের স্ফুলিঙ্গ ছড়াবেন, সে আশা আমি করছি না, কারণ সত্যি বলতে, আমাদের ফার্স্ট ক্লাস বা জিম্বাবুয়ের বোলিং, কোনোটার উপরই আমার ভরসা কম।

কিন্তু, এই হাসিটা বলে, সৌম্য আত্মবিশ্বাস পাচ্ছে, যেটা এতদিন ছিলো তলানিরও নিচে। হ্যান্ড আই কো অর্ডিনেশন ডিপেন্ডেন্ট ব্যাটসম্যানদের জন্য কনফিডেন্স বিষয়টা ফর্মের চেয়ে বেশি জরুরী, অনেক।

আমরা আশা করি, সৌম্য আবার পুরোনো রূপে ফিরে আমাদের আনন্দবন্যায় ভাসাবেন। সৌম্য হাসুক, তার আত্মবিশ্বাস ফিরে আসুক, আমরা না হয় আর একটু অপেক্ষা করি।

https://www.mega888cuci.com