নোবেল এবং আমাদের বাঙালিয়ানা

১০ জন মানুষ একটা ইস্যুর বিরুদ্ধে কথা বললো। ধরলাম, আমি সেই  বিষয়ে কোন জ্ঞান রাখি বা না রাখি। কিন্তু, তা নিয়ে পোস্ট না করলে আমার জাত থাকবে না। বা আমাকে আলোচনায় থাকতেই কিছু না কিছু লিখতে হবে।

নোবেল জাতীয় সঙ্গীতের ব্যাপারে বলেছে যে প্রিন্স মাহমুদের লেখা ‘আমার সোনার বাংলা’ এই গানটা যতটা আমাদের বাংলাদেশকে তুলে ধরে, রবীন্দ্রনাথের ‘আমার সোনার বাংলা’ ততটা তুলে ধরেনা। এখান থেকে আমরা কি বানালাম? আমরা বানালাম ‘নোবেল জাতীয় সঙ্গীতকে অপমান করছে’ কিংবা ‘নোবেল বলছে, জেমসের গান জাতীয় সঙ্গীত করতে হবে’ অথবা ‘জাতীয় সঙ্গীত পাল্টাতে বললেন নোবেল’ ইত্যাদি ইত্যাদি।

এবার আসি জেমসের কথা, নোবেল বলেছে যে, ‘জেমস ভাই আমাকে বলছে আমি যাতে তার পাগলা হাওয়া গানটা কভার না করি।’ একজন জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী যখন সরাসরি কাউকে তার গান কভার করতে মানা করে দেয়, তাও আবার তার গানকে যে সবচেয়ে ভালোকরে কভার করতে পারে। এই বিষয়টা আপনারা কিভাবে নিচ্ছেন?

জেমসের অনেক গান শুনেছি হাতেগোনা কয়েকটা গান অসম্ভব ভালো লাগে, গায়ক হিসেবে রক গানের জন্য তিনি সেরা। চট্টগ্রামে জেমস একবার কনসার্টে এসেছিলো, এক পরিচিত বড় ভাইয়ের আয়োজনে কনসার্টটা হয়েছিলো। সেই সুবাদে জেমসের ব্যাক্তিগত ব্যাপার এবং তার আচরণ সম্পর্কে জানা হয়েছিলো।  আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার নোবেলের দাবী যদি সত্যি হয়, তাহলে জেমসের কাজটা কোনো অর্থেই ‘স্পোর্টিং’ হয়নি।

নোবেল উঠতি শিল্পী হিসেবে মুখ খুলে ফেলেছে! – এটাই হয়তো তাঁর দোষ। এখন তাঁকে কেউ কেউ ‘কভার সিঙ্গার’ বলেও খাটো করছেন কেউ কেউ। অথচ, এই নোবেল যখন তার সেরা সব পারফরম্যান্স দিয়ে সারেগামাপার মঞ্চ মাতাচ্ছিলো তখন আপনি আমিই ফেসবুক গরম করে বলছিলাম – নোবেলের প্রতিভার মূল্য দেশে কেউ দিতে পারেনি, সারেগামাপা দিচ্ছে।

এর পরে যখন নোবেল তৃতীয় হলো তখন সারেগামাপাকেই ধুয়ে দিলেন, একদম বাংলা সাবান দিয়ে। অথচ, এই সারেগামাপা’র কারণের নোবেলের এই জনপ্রিয়তা আর পরিচিতি৷  তিতা হলেও সত্যি যে, এই সারেগামাপা না হলে হয়তো আমরাও তাঁকে চিনতাম না। এই সারেগামাপার জন্য কলকাতার ‘ভিঞ্চিদা’ নামের চলচ্চিত্রের অনুপম রয়ের মত সঙ্গীত পরিচালকের সাথে কাজ করে প্লে-ব্যাকে অভিষেক করতে পেরেছে নোবেল। সেটাও আমাদের জন্য কম গর্বের নয়!

কবে আমাদের এই চিন্তাভাবনা পরিবর্তন হবে! সাধারণ জিনিসকে কবে আমরা সাধারণ ভাবে দেখবো! কবে আমরা স্রোতে গা না ভাসিয়ে গুজব কিংবা মিথ্যা নিউজ থেকে নিজেদের দূরে রাখবো!

কিছু মিডিয়ার মানুষদের কমেন্টবক্সে ঢুকলে বোঝা যায় আমার এই দেশে কত কত অসুস্থ মানুষ বাস করে। কী সব অকথ্যা ভাষা ব্যবহার করছে! এসব গালি দিয়ে নিজেদের স্মার্ট প্রমাণ করতে চাইছে৷ এসব লোক বিদেশি সেলিব্রেটিদেরও তাদের কিছু ভালো না লাগলে যা ইচ্ছে তা বলে নিজের দেশের সম্মান বাড়িয়ে দিছে।

নোবেল কতটা প্রতিভাবান গায়ক, সেটা আগে বোঝা দরকার। এখন বিতর্ক করে তাঁর ক্যারিয়ারটা নষ্ট হচ্ছে। কেন আমরা নিজেদের প্রতিভাটাকেই নষ্ট করছি। নিজেদের অযথা সমালোচনায় এভাবে দেশের সম্পদকে শেষ করে দিবেননা।

আরেকটা ব্যাপার আপনার নিজস্বতা প্রধান্য দিন। অন্যের ট্রেন্ডে আর নিজেদের না ভাসাই। ভালোকে ভালো বলতে শিখি, আর খারাপকে খারাপ।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।