শাহরুখ-গৌরি: জাদুকরী এক জুটির ইতিবৃত্ত

আশির দশকের মাঝামাঝি সময়। তখন থেকেই তাঁদের মধ্যে প্রেম। তখনও শাহরুখ খান আজকের দিনের কিং খান হননি।

ভয়ে ভয়ে একটু একটু আঙুল ছোঁয়া, আরেকটু সাহস পেয়ে খপ করে হাত ধরে ফেলা – এই চলছিল দিব্যি। কিন্ত, তারা ছিলেন ভিন্ন ধর্মের দু’টি মানুষ।

সে কারণেই কি না, গৌরিকে নিয়ে শাহরুখ খুব ‘পজেজিভ’ ছিলেন। বলা ভাল, ভয়ে ভয়ে থাকতেন – কখন না শাহরুখকেই ভুলে যান!

একবার একটা জন্মদিনের পার্টি শেষ করে গৌরি বন্ধুদের সাথে মুম্বাই চলে যান। শাহরুখ মুম্বাই এসে পাগলের মত গৌরিকে খুঁজতে থাকেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তিনি গৌরিকে সমুদ্র সৈকতে খুঁজে পান। দু’জনের চোখেই তখন জল।

আবেগে ভরা মায়াবী সেই সময়টাতেই শাহরুখ বিয়ের প্রস্তাব দেন গৌরিকে। গৌরিও ‘হ্যা’ বলে দেন। তিন সন্তানের এই জনক-জননীর বিয়ে হয় ১৯৯১ সালে।

এত প্রেম যাদের মধ্যে তাঁদের শুরুটা অবশ্য হয়েছিল মুখ কালাকালির মধ্য দিয়ে। কলেজের একটা পার্টিতে গৌরিকে দেখে ভাল লাগে শাহরুখের। এগিয়ে গিয়ে তাঁকে নাচের জন্য প্রস্তাব দেন। মুখের ওপর ‘না’ বলে দেন গৌরি।

সেদিনই শাহরুখ মন:স্থির করে ফেলেন – একেই পেতে হবে। এরপর শুরু হয় গৌরির মন পাওয়ার জন্য শাহরুখের সংগ্রাম।

অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয় এসআরকে-কে। শাহরুখ সারাক্ষনই  নাকি তার আশেপাশের মানুষকে মাতিয়া রাখতেন উদ্ভট সব কাণ্ডকীর্তি আর মজার মজার  সব জোকস শুনিয়ে। আর গৌরিকে শোনাতেন হিন্দি গানের প্যারোডি ভার্সন।

আর তাতেই কালক্রমে ‘পটে’ যান গৌরি। কবে প্রথম ‘ডেট’-এ গিয়েছিলেন সেটাও আজো মনে আছে দু’জনের। দিনটা ছিল ১৯৮৪ সালের ২৫ অক্টোবর।

শাহরুখের ইচ্ছা ছিল মুম্বাই এসে এক বছর অভিনয় করে কয়েকটা সিনেমা করে আবার দিল্লী তাঁর মায়ের কাছে চলে যাবেন। সেই এক বছর এখনো শেষ হয়নি। এমনকি গৌরি তার প্রথম মুভি ‘দিওয়ানা’ হিট হওয়ায় যারপরনাই হতাশ হয়েছিলেন কারণ  তিনি চাচ্ছিলেন না শাহরুখ বলিউডে সাফল্য পেয়ে মুম্বাইয়ে স্থায়ী হয়ে যাক। কারণ গৌরি যে থাকতেন ওই দিল্লীতেই।

শাহরুখও তাই একটু আগেভাগেই বিয়ে করে ফেলেন গৌরিকে। বিয়ে কখনোই বলিউড বাদশাহ’র ক্যারিয়ারের বাঁধা হয়নি। বরং এটা তাঁকে করেছে আরো সমৃদ্ধ।  শাহরুখ এখন ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিরই সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ডগুলোর একটি। ৮০ টির বেশি ছবি করেছেন, উপমহাদেশের একজন হয়েও পেয়েছেন বিশ্বজোড়া সম্মান। এর কৃতিত্ব কিছুটা গৌরিরও। ৩৫ বছর ধরে তিনিই তো পদে পদে সামলে চলেছেন শাহরুখকে।

একুশ শতকে ভারতে যেখানে বিয়ে নামের সামাজিক ও ধর্মীয় আঁচারটিই বিলুপ্তির পথে সেখানে এই দু’জন এতগুলো বছর কাটিয়ে দিয়েছেন বিন্দমাত্র কোনো গুঞ্জন ও গুজব ছাড়াই। যখন শাহরুখের কিছুই ছিল না, তখনও তাঁর পাশে গৌরি ছিলেন। আজ যখন শাহরুখের ব্যাংক-ব্যালেন্স, ফ্যান, ব্যবসা, সিনেমা অনেক কিছু আছে, তখনও পাশে আছেন গৌরি।

তাদের সম্পর্কটা আক্ষরিক অর্থেই চিরজনমের বন্ধন যা সময়ের সকল পরীক্ষায় শতভাগ পাশ মার্ক পেয়েছে। রহস্যটা কি? রহস্যটা হল বিশ্বাস আর ভরসা। গৌরি খান যেমন বলেন, ‘আমরা কখনোই একজন আরেকজনের কাজে নাক গলাই না। আমরা ব্যাপারগুলোকে সহজ করে ভাবতে ভালবাসি। কোনো বিষয়ে অতিরিক্ত প্রশ্ন করি না। সারাক্ষণ আঠার মত লেগে থাকা আমাদের পছন্দ না। বরং একজন আরেকজনকে স্পেস দিলেই সম্পর্ক ভাল থাকে বলে আমাদের বিশ্বাস।’

https://www.mega888cuci.com