মায়াবতী মেয়েটি

‘দেবী’ চলচ্চিত্র নিয়ে অনেকে অনেক কথাই বলছেন। রানু চরিত্রের জয়া আহসানকে নিয়ে আলাপ হচ্ছে, মিসির আলি চরিত্রের চঞ্চল চৌধুরীকে নিয়েও কথা হচ্ছে। কিন্তু আমি বলবো নীলুর কথা। বাড়িওয়ালার বড় মেয়ে নীলু, মায়াবতী মেয়ে।

‘দেবী’-তে নীলুর গুরুত্ব কোন অংশে কম নয়। বইতে পড়েছিলাম মেয়েটি শ্যামলা। সে হিসাবে অপেক্ষাকৃত সুন্দরী শবনম ফারিয়াকে নীলু চরিত্রে কাস্ট করা হয়েছে শুনে আমি নিজেও সংশয়ে পড়েছিলাম। ফারিয়া পারবে তো? তাকে মানাবে তো? বইয়ের পাতার নীলু সিনেমার পর্দায় বিবর্ণ হবে না তো?

‘দেবী’ প্রথমদিন প্রথম শো দেখে নিয়েছিলাম বলাকায়। স্টার সিনেপ্লেক্সে নিয়মিত ছবি দেখা আমার জন্য বলাকা নতুন অভিজ্ঞতা। তো সেই নতুন জায়গায় ছবি শুরুর আগেই পর্দার নীলু ওরফে বাস্তবের ফারিয়াকে দেখলাম, এত হট্টগোলের মাঝে কথা বলিনি।

আমি এমন হইচইয়ে কেন যেন পরিচিতজনদের সাথেও আলাপ করতে পারিনা। আর শবনম ফারিয়া তো কিছুক্ষণের মাঝে সিনেমার নায়িকা হতে যাচ্ছিল। আমার মতো স্বল্প পরিচিত কারো সাথে কথা বলবে তা ভাবাই তো যায় না।

নীলু চরিত্রটি আমি বইয়ে যেমন পড়েছিলাম তেমনই সিনেমায় পেয়েছি। সেই দ্বিধাগ্রস্থ চরিত্র, গোপনে প্রেমে পড়া, চুরি করে প্রেমিকের সাথে দেখা করা। সবই দারুণ লেগেছে। এই চরিত্রে চটপটে শবনম ফারিয়াকে দেখে মুগ্ধ হয়েছি। জয়া আহসানের পাশে নবাগত ফারিয়া নিজের মতো করে দ্যুতি ছড়িয়েছেন।

জয়া আহসানের সঙ্গে যখন স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন শবনম ফারিয়া, তখন পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছেন। ইরেশ যাকেরের সাথে তার রসায়ন জমজমাট না হলেও মন্দ ছিল না। বিশেষ করে প্রথমবার ইরেশকে দেখার পর তার এক্সপ্রেশান, নার্ভাসনেস ফুটিয়ে তোলা, সংলাপ বলা, শব্দের মাঝে প্রয়োজনীয় পজ দেয়া – সবই ছিল দুর্দান্ত।

রানু চরিত্রের জয়ার দাপটের পরও তাই দীপ্তিময় ছিলেন নীলু চরিত্রের শবনম ফারিয়া। ফারিয়া সকল সংশয়কে ফুঁ মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন অভিনয় গুণে। এই যে সংশয়, দ্বিধা সব দূর করে দিলেন ফারিয়া সেজন্য পরিচালক ধন্যবাদ পেতেই পারেন। আর অবশ্যই প্রযোজক জয়া আহসান, তিনি না হলে শবনম ফারিয়াকে হয়তো নায়িকা হিসাবে পেতামই না।

শবনম ফারিয়া কিন্তু এখন সিনেমার নায়িকা, ইচ্ছে করলেই তিনি সিনেমা নিয়ে ভাবতে পারেন। অভিনয় জানা, দেখতে মায়াবতী একজন নায়িকা পেলে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি ঠকবেনা।

https://www.mega888cuci.com