বোকামী কিংবা চূড়ান্ত ধৃষ্টতা: আইসিসির দৃষ্টান্তমূলক সাজা!

সরফরাজ আহমেদ হয় চূড়ান্ত বোকা, না হয় নিজেকে খুব চালাক ভাবেন! হয়তো তিনি ভুলেই গিয়েছিলেন, স্ট্যাম্পের নিচেই একটা গোপন মাইক আছে, কিংবা ভেবেছিলেন তাঁর উর্দু ভাষা কেউ ‍বুঝবেই না। কিংবা এত কিছু যে ভাবা উচিৎ সেটাই ভাবেননি।

আর এটাই তো ধৃষ্টতা। ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি অবশ্য এতটা বোকা নয়। উর্দুতে বলেছিলেন ভেবে সরফরাজ হয়তো ছাড়া পেয়ে যাওয়ার কথা ভাবলেও আসলে তা হল না। আইসিসি দৃষ্টান্তমূলক এক সাজাই ধার্য করলো। চারটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে তিন ফরম্যাটে পাকিস্তানের এই অধিনায়ককে। সাজাটা আরো বড় কিছু হলেও অবাক হওয়ার মত কিছু হত না।

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে চলমান দ্বিতীয় ওয়ানডের ঘটনা। তখন ৩৭ তম ওভারের খেলা চলছিল। ব্যাট করছিলেন সেই ম্যাচের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার পাওয়া অ্যান্ডাইল ফেহলুকওয়াও। তখন উইকেটের পেছনে দাঁড়ানো সরফরাজ আহমেদ উইকেটরক্ষণের কাজটা ঠিকমত করলেও আইসিসির নীতি ভঙ্গ করেছেন। তিনি বর্ণবাদমূলক মন্তব্য করেছেন ‍কৃষ্ণাঙ্গ ফেহলুকওয়াকে উদ্দেশ্য করে।

সরফরাজ ‘কালো’ বলে ডাকেন ফেহলুকওয়াওকে। কথাটার বাংলা করলে দাঁড়ায়, ‘অ্যাই কালো! তোমার মা আজ কোথায় বসেছে? আজ নিজের জন্য কি দোয়া করতে বলে এসেছো?’

ধারাভাষ্যকক্ষে তখন ছিলেন পাকিস্তানেরই রমিজ রাজা। তিনি অবশ্য তখন দাবী করেছিলেন যে সরফরাজ এত দ্রুত কথাটা বলেছিলেন যে তিনি অর্থটাই ধরতে পারেননি। এত সহজে মাতৃভাষাটা ভুলে গেলেন! যদিও, স্বয়ং আইসিসি কোনো ভুল করলো না।

এরপরই সরফরাজের বিপক্ষে বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগ ওঠে। বলা হয়, আইসিসির বর্ণবাদ বিরোধী নীতি ভঙ্গ করেছেন তিনি। সরফরাজ অভিযোগ স্বীকার করে নিলে তার প্রেক্ষিতে শাস্তি ঘোষণা করে সংস্থাটি।

সরফরাজ আইসিসির বর্ণবাদ বিরোধী নীতিমালার ৭.৩ ধারাটি ভঙ্গ করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শেষ দু’টি ওয়ানডেতে তাই খেলছেন না। আগামী মাসের শুরুতে সিরিজের প্রথম দু’টি ওয়ানডেতেও তিনি থাকবেন না। এখানেও শেষ নয়, তাকে আইসিসির বর্ণবাদ বিরোধী প্রোগ্রামেও অংশ নিতে হবে। বোঝাই যাচ্ছে, আইসিসি ব্যাপারটাতে কতটা সিরিয়াস।

সরফরাজ অবশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে নিজের বক্তব্যের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তাতেও মন গলেনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি)। এক বিবৃতিতে অধিনায়কে এই বক্তব্যের জন্য তারাও আনুষ্ঠানিক ভাবে ক্ষমা চেয়ে আফসোস প্রকাশ করেছে।

মুখ খুলেছেন আইসিসির বিদায়ী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভ রিচার্ডসনও। তিনি বলেন, ‘এসব ব্যাপারে আইসিসি কখনোই এক বিন্দুও ছাড় দেয় না। সরফরাজ যা বলেছে তা খুব আপত্তিকর এবং হতাশাজনক। যদিও তিনি বিষয়টা বুঝতে পেরে জনসম্মুখে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন।’

সরফরাজের অবর্তমানে অধিনায়কত্ব করতে নেমে শোয়েব মালিক অবশ্য এসব নিয়ে খুব একটা মন্তব্য করতে চাইলেন না। বললেন, ‘আমরা সবাই জানি কি হয়েছে। এসব নিয়ে আর মন্তব্য করতে চাই না। আমরা নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে চাই শুধু।’

এটুকুতেই পরিস্কার দলকে ভালই লজ্জায় ফেলেছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক। এবার অন্তত তাঁর শুভবুদ্ধির উদয় হলে হয়!

ক্রিকবাজ অবলম্বনে

https://www.mega888cuci.com