তবে কী অধিনায়কত্ব হারাচ্ছেন সরফরাজ?

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সভাপতি এহসান মানি অবশ্য ক’দিন আগেই বলেছিলেন, ‘কোনো সন্দেহ নেই যে, সরফরাজই এখন পর্যন্ত আমাদের অধিনায়ক। আর নতুন কোনো সিদ্ধান্ত আসার আগ পর্যন্ত তিনিই দায়িত্বে থাকছেন।’

অন্তত বিশ্বকাপ অবধি যে সরফরাজেই পিসিবি ভরসা রাখতে যাচ্ছে সেই ব্যাপারটাও পরিস্কার ছিল পিসিবি সভাপতির কথায়, ‘যেকোনো সিরিজের পরই অধিনায়ক বদলের ব্যাপারে গণমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। তাই সবার উদ্দেশ্যে বলা উচিত যে বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে (পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ) ও বিশ্বকাপে দায়িত্বে থাকছেন সরফরাজই। বিশ্বকাপ শেষে আমরা দলের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করবো। তারপরই এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে। দলের হয়ে বিশ্বকাপে সরফরাজ কতটা ভূমিকা রাখতে পারেন সেই ব্যাপারটা অবশ্যই আমরা দেখবো।’

তবে, সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিস্ময়কর রকমের এক ওয়ানডে দল ঘোষণা করায় সবাই আবারো নড়ে চড়ে বসতে বাধ্য হয়েছেন। ছয় শীর্ষ ক্রিকেটারকে বিশ্রামে রাখা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন পাঁচ ম্যাচের সিরিজে। এর মধ্যে আছেন অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদও। আগামী ২২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই ওয়ানডে সিরিজে অধিনায়কত্ব করবেন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার শোয়েব মালিক।

এমন যখন অবস্থা, তখন সরফরাজ আহমেদকে করাচিতে নির্ধারিত একটি সংবাদ সম্মেলন করতে দেয়া হয়নি। স্থানীয় অবজারভার পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিসিবির নির্দেশেই নাকি এমনটা হয়েছে। ফলে, আবারো গুঞ্জন উঠেছে যে, বিশ্বকাপের আগেই হয়তো নতুন কাণ্ডারীর হাতে চলে যাবে পাকিস্তান দল।

অধিনায়ক পাল্টানোর কারণ দুটো – প্রথমত দল ও অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদের নিজের বাজে ফর্ম। দ্বিতীয়ত, ক’দিন আগেই বর্ণবাদী মন্তব্যের জের ধরে সরফরাজের পাওয়া চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা। আন্তর্জাতিক ম্যাচ চলাকালে দক্ষিণ আফ্রিকান খেলোয়াড় অ্যান্ডাইল ফেহলুকওয়াকে উদ্দেশ্য করে বর্ণবাদী মন্তব্য করেছিলেন। তিনি যে প্রোটিয়া এই অলরাউন্ডারের গায়ের রঙের দিকে ইঙ্গিত করেই মন্তব্যটি করেছেন সেটা স্ট্যাম্পে লুকিয়ে থাকা মাইক্রোফোনে স্পষ্ট শোনা গেছে। অভিযোগ ওঠার পর তাকে চারটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি।

শনিবার বিকেল চারটায় করাচির জাতীয় স্টেডিয়ামে পাকিস্তান এবং পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্সের অধিনায়ক সরফরাজের একটি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখার কথা ছিল। কিন্তু পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) স্বশরীরে উপস্থিত না হয়ে তাকে তার রেকর্ডকৃত বক্তব্য উপস্থাপনের নির্দেশ দেয়।

মূলত পিএসএল অধিনায়কদের উপর চাপ সম্পর্কিত বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে সরফরাজের বক্তব্য রাখার কথা ছিল। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজে তাকে বিশ্রাম দেয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হতে পারে বিবেচনা করে সরফরাজকে সংবাদ সম্মেলনের অনুমতি দেয়া হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

তবে গ্লাডিয়েটর্স কোচ মঈন খান এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের জানান ফ্র্যাঞ্চাইজির পক্ষ থেকে সরফরাজকে সংবাদ সম্মেলন না করার জন্য বলা হয়েছে। তিনি পিসিবি কাছ থেকে কোন প্রকার চাপের কথা অস্বীকার করেছেন।

https://www.mega888cuci.com