যে শুক্রবারে নতুন জীবন পেয়েছিলেন সালমান!

বছর জুড়ে প্রায় ৫২ টির মতো শুক্রবার আসে।

‘ভারতের স্বপ্নের নগরী’ খ্যাত মুম্বাইয়ের বলিউডে এই শুক্রবারকে ঘিরেই চলে যত জল্পনা-কল্পনা।  ৫২ টি শুক্রবারের প্রতিটিতেই কোনো না কোনো ভাবে ভাগ্যের চাকা ঘুরে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। পরিবর্তন করে দিচ্ছে ভাগ্যের মোড়। কারো স্বপ্ন, পরিশ্রমকে সার্থক করছে, কিংবা কারো স্বপ্নের সাথে ভক্তদের হৃদয়কে ভেঙে চুরমার! তবে, এখানে স্বপ্ন ভাগে বেশি, গড়ে কম। এমনই এক শুক্রবারের কথা বলবো এখন।

সময়টা সাল ২০০৯। সেপ্টেম্বর মাসের ১৮ তারিখ। ভাগ্য বদলেছিলো কিনা জানিনা, তবে বদলে গিয়েছিলো সময়। সময় বদলে গিয়ে, এক নতুন মোড় পাওয়া সেই মানুষটির নাম – আব্দুল রাশেদ সেলিম সালমান খান। বলাই বাহুল্য, দিনটা ছিল শুক্রবার।

ভারতের জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পি প্রভু দেবা বলিপাড়ায় পরিচালক হিসেবে নিজের পথচলা শুরু করবেন। সে হিসেবে গল্প হিসেবে বেঁছে নিলেন ২০০৬ সালের তেলেগু সিনেমা ‘পোকিরি’কে। এই ছবিটাই তিনি ঠিক দু’বছর আগেই তামিল ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের পরিচালনায় ‘পোক্কিরি’ হিসেবে রিমেক করেছিলেন।

চাপা গুঞ্জন ছিল, দু-দুবার যে সিনেমাটা নির্মিত হয়ে গেছে সেটাতে আর নতুন করে কিই বা দেখানোর আছেন। কিন্তু, এমন যারা ভেবেছিলেন তাদের মুখে ছাই-ই পড়লো। বলিউডে ছবিটি আবির্ভূত হয়েছিল নতুন এক ম্যাজিক নিয়ে।

প্রধান চরিত্রে সালমান খান-সহ, চমৎকার সব অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে, অতুলনীয় একেকটি ডায়লগ, চোখ ধাঁধানো অ্যাকশন, সুন্দর গান নিয়ে তৈরি হয়ে গেলো। খান সাহেবেরও যেন ভালো সময়ের ঘড়ির কাটা চলতে শুরু করলো, শার্টের কলার নাচিয়ে তো জানিয়েই দিলেন – ‘সারে জাহা মে হোগা, মেরা হি জালওয়া!’

প্রতিটি সফল মানুষেরই ভালোবাসার ও ঘৃণা করার মানুষ থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। মুদ্রার এপিঠ ওপিঠের মতো সালমান খানেরও রয়েছে। তাঁদের যদি জিজ্ঞেস করা হয়, ‘তার এমন কিছু কি আছে যা আপনাকে অল্প হলেও ভালো লাগতে বাধ্য করে?’ তাহলে অবশ্যই ‘মানুষ হিসেবে একজন সালমান’-এর পর নির্দ্বিধায় তিনিও বলে দিবেন ‘অদম্য মানসিকতা’র কথা।

এই এতো বছর পরও, এতো দর্শকের অদ্ভুত এক ভালোলাগার জায়গা করে নেয়া ‘ওয়ান্টেড’ এর পুরোটা জুড়েই যেন সালমানের এই অদম্য মানসিকতাটা চোখে পড়বে। চোখের মাঝে রাগ, আত্নসম্মান, বিশ্বাস, দায়িত্ববোধ, চমৎকার ফিটনেস আবার ভালোবাসা, আবার অনীহা – রাজবীর শেখাওয়াত বা রাধে চরিত্রটাকে ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টার কোনো কমতি রাখেননি সালমান।

গল্পানুযায়ী চরিত্রের সংখ্যাও কম ছিল না। অভিনেত্রী আয়েশা টাকিয়া থেকে শুরু করে সালমানের বন্ধুর চরিত্রে যারা ছিলেন, সবাই অনবদ্য কাজ করে গেছেন।

তবে, আলাদা করে বলতে হয় প্রকাশ রাজ ও মহেশ মাঞ্জেরেকারের কথা। এদের ছাড়া ‘ওয়ান্টেড’ ছবিটার আলোচনা করাই বৃথা।

মহেশ সাহেব প্রায় পুরো গল্পকেই একদিক দিয়ে যেন নিজের করে রেখেছেন৷ আবার এই একই গল্পের চারটি সিনেমার তিনটিতেই ছিলেন প্রকাশ রাজ! একটিবার শুধু ভেবে দেখেন, একজন অভিনেতা কতটা অপরিহার্য হলে বার বার একই চরিত্রের জন্য তাঁকে কাস্ট করা হয়।

একটি সিকোয়েন্সে ঘুমকে আটকে রাখার চেষ্টা করেও ঘুমে ঢলে পড়ে যাওয়ার দৃশ্যটি দর্শকদের অবাক করে দিতে পারে। যারা ছবিটি দেখেছেন তারা বলতে বাধ্য যে, প্রকাশ রাজ ভারতের এই সময়ের অন্যতম সেরা একজন অভিনেতা।

এবার আবার ফিরি সালমানের প্রসঙ্গে। তিনিই তো এই ছবির প্রাণ।

২০০৭ সালে ডেভিড ধাওয়ানের ছবি ‘পার্টনার’- গোবিন্দ’র সাথে জুটি বেঁধে ব্যবসায়িক সাফল্য পেয়েছিলেন সালমান। এরপর শুরু হয় তাঁর বাজে সময়। ‘ম্যারিগোল্ড’, ‘গড তুস্সি গ্রেট হো’, ‘হিরোজ’, ‘যুবরাজ’ – টানা চারটি ছবি ফ্লপ হয় সালমানের। সময়টাতে নিজেকে হারিয়ে খুঁজছিলেন বলিউডের ভাইজান।

এরপর আসে সেই বহুল প্রতীক্ষিত সেই ছবি ‘ওয়ান্টেড’। আকাশচুম্বি সাফল্য পায় বনি কাপুর প্রযোজিত এই ছবিটি। সালমান খানও আবার ‘বক্স অফিসের সুলতান’ খেতাব ফিরে পান। সেই শুক্রবারটায় নতুন জীবন পায় সালমানের ক্যারিয়ার। সেখান থেকে শুরু করে আজ অবধি চলছে তাঁর সাফল্যের চাকা!

https://www.mega888cuci.com