রুহেল মিয়া: খ্যাপাটে এক প্রতিভাবান পেসার

কক্সবাজারে ২০১৮-১৯ মৌসুমে অভিষেকে দেখেছেন বৃষ্টির কান্না। জাতীয় দলের টেস্ট স্কোয়াড সিলেটের পেসারদের উপর নির্ভর বলে সেবার শেষ রাউন্ডে এসে অভিষেক হয় তরুণ এক পেসারের। এক বছর পর আবারো শেষ রাউন্ডে এসে দারুণ এক কীর্তিতে সকল আলো কেড়ে নিলেন ঐ পেসার।

প্রথম ইনিংসে ২৬ রানে ৮ উইকেট শিকারের পর আলোচনার কেন্দ্রতে রুহেল মিয়া। দুই ইনিং মিলিয়ে নিয়েছেন ১৩ উইকেট। বগুড়ার মাটিতে মাত্র দু’দিনেই জিতে গেছে সিলেট। এ এক অনন্য পারফরম্যান্স। দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে এমন প্রতাপশালী অভিষেক আগে কখনো কারো হয়েছিল কী!

প্রাণবন্ত এক আড্ডায় দীর্ঘদিন প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে সিলেট দলের দায়িত্বে থাকা কোচ এ.কে.এম মাহমুদ ইমন বলছিলেন, ‘ছেলেটা একটু খ্যাপাটে টাইপের। নিজের উপর প্রচণ্ড বিশ্বাস তাঁর। আর যেটা করতে চায় সেটা করেই ছাড়ে। প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেট নেওয়ার পর আমাকে ফোন দিয়ে বলছে স্যার আমি এটা করেছি। আমি বললাম হুম আমি শুনেছি আরো ভালো করতে হবে। স্যার দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট তুলবো। কী আশ্চর্য্য! ঠিকই ৫ উইকেট তুলে নিলো ছেলেটা!’

গাজী গ্রুপের হান্ট থেকে উঠে আসা মৌলভীবাজারের পেস বোলার রুহেল মিয়া। তিনি সদ্যই ভেঙে গড়েছেন দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কোনো পেসারের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড ক্যারিয়ারের মাত্র তৃতীয় প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে। এর আগে ২০১২ সালে রংপুরের বিপক্ষে ঢাকা মেট্রোর পেসার তালহা জুবায়ের ৩৫ রানে নিয়েছিলেন সমান ৮ উইকেট।

এবারের লিগ শুরুর আগে আটসাঁধ বেঁধে মাঠে নামে সিলেট বিভাগ। দ্বিতীয় স্তর থেকে প্রথম স্তরে উঠতে তারা চোয়ালবদ্ধ তাই লিগ শুরুর আগে ভাগে অনুশীলন (দেড় মাস পূর্বে) শুরু। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ইনডোরের পাশে দাঁড়িয়ে দলটির সদ্যই নিয়োগ পাওয়া সদ্য সাবেক ক্রিকেটার রাজিন সালেহ বলছিলেন রাহী-এবাদতকে কোন এক রাউন্ডে না পাওয়া গেলে রুহেল হবে আমাদের স্ট্রাইক বোলার।

মাহমুদ ইমনের সাথে এমনটাই আলাপ ছিল রাজিন সালেহ’র। শেষ পর্বে এসে তৈরী হলো সুুযোগ আর লুফে নিলেন রুহেল। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১৩ উইকেট ম্যাচ সেরা আর দল দ্বিতীয় স্তরে চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রথম পর্বে। এ যেন সোনায় সোহাগা হয়ে উঠলো।

অনূর্ধ্ব ১৯ দলের বিকল্প এই পেসারের শুরুটা কেমন ছিল। জানতে চাওয়া হয় তার নার্সিং কোচ মোহাম্মদ রাসেলের কাছে। বিসিবির মৌলভীবাজার জেলা কোচ জানালেন রুহেলের শুরুর কথা। খুব বেশিদিন আগে শুরু হয়নি রুহেলের যাত্রা। রাসেল বলেন, ‘মাত্র ১৫ বছর বয়স থেকে রুহেল ক্রিকেট বলে খেলা শুরু করে। শুরুটা মূলত স্কুল ক্রিকেট থেকে। শ্রীমঙ্গলের ছেলে রুহেল স্কুল ক্রিকেটে আসে সেখানকার একটি স্থানীয় একাডেমী থেকে। কোচ তাপস দত্তের কাছে মাস তিনেক দীক্ষা নেওয়ার পর স্কুল ক্রিকেটে এসে নজড় কাড়ে সেখান থেকেই মূলত মৌলভীবাজার জেলা অনূর্ধ্ব ১৬ দলে। এই জায়গা থেকেই আমার কাছে গড়ে উঠা। শুরুতে ওর (রুহেল) সুইং আমাকে ভাবাতে বাধ্য করে থাকে নিয়ে। পরে নিয়মিত জেলা স্টেডিয়ামে অনুশীলন শুরু করে এবং অনূর্ধ্ব ১৬ জেলা দল থেকে বিভাগীয় দল হয়ে জাতীয় অনূর্ধ্ব ১৭ দলে জায়গা করে নেয়।’

এই বয়সেই দারুন পরিশ্রমী রুহেল। রাসেল বলেন, ‘অন্যান্য সকল ক্রিকেটারদের চেয়ে সে একটু এগিয়ে ছিল কারণ পরিশ্রম করার দারুণ ক্ষমতা ছিল তাঁর। অনুশীলনে ১০ মিনিট রানিংয়ের কথা বললে সে সেটা ২০ মিনিটে নিয়ে গেছে। তাছাড়া ফিটনেসে কখনো ছাড় দেয়নি সেই শুরু থেকেই। নিয়মানুবর্তিতা এবং খেলার প্রতি নিবেদন তাকে আজকের অবস্থান নিয়ে গেছে। তবে এটা বলে রাখা ভালো – এখানেই শেষ নয়!’

সত্যি, রুহেলের উইকেট যাত্রা চলুক অনন্তকাল!

https://www.mega888cuci.com