সাফল্যের ‘রকেট সায়েন্স’ ও একজন রকেট সিং

ব্যবসার সফলতার পেছনে হয়তো অনেক কৌশল থাকতে পারে। তবে যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হলো সততা ও পরিশ্রম। একজন সৎ ব্যবসায়ীকে তাঁর ব্যবসায় লাভের জন্য আলাদা করে নোংরা কোন পথ অবলম্বন করতে হয় না। কারণ, তার ক্রেতারা তাঁর প্রতি যথেষ্ট পরিমানে সন্তুষ্ট থাকে। আর এটাই তাঁর ব্যবসার ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি অনেকাংশে নিশ্চিত করে দেয়।

  • চলচ্চিত্র – রকেট সিং: সেলসম্যান অব দ্য ইয়ার
  • মুক্তির সাল – ২০০৯
  • জনরা – ড্রামা, কমেডি

হারপ্রিত সিং বেদী একজন বিজনেস গ্র্যাজুয়েট। মাত্রই শিক্ষাজীবন শেষ করেছেন। সেলসের প্রতি তাঁর অসম্ভব প্যাশন। তবে সে সৎ উপায়ে সাফল্য লাভে বদ্ধপরিকর। এই প্যাশন, চেষ্টা ও আগ্রহের কারণে সাধারণ রেজাল্ট থাকা সত্ত্বেও বাজারের সবচেয়ে বড় কম্পিউটার অ্যাসেম্বলিং এবং সার্ভিসিং কোম্পানিতে সেলস ট্রেইনি হিসেবে চাকরি পেয়ে যায় সে।

ক্রেতাদের কাছে পণ্যের প্যাকেজ সম্পর্কে পরিচিতি দেওয়া ও বিক্রি করাই ছিল তাঁর প্রধান কাজ।  তবে, কাজ শুরু করতে না করতেই আসে বিপদ।

একদিন এক ক্লায়েন্ট তাঁকে ঘুষ অফার করলে হারপ্রিত সেই ক্রেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানায় অফিসের উপরের মহলের কাছে। কিন্তু শীর্ষ কর্তারা তাকেই উল্টো অপমান কর। শুধু তাই নয়,  অফিসের সবাই তার বিরুদ্ধে চলে যায়।

ধীরে ধীরে হারপ্রিতের পক্ষে সেখানে কাজ করাটা দুঃসহ হয়ে উঠতে থাকলে একদিন সে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে তাঁর নিজস্ব কোম্পানি খোলার। সবাই তাকে ভুল বুঝলেও তার নিজের সামর্থ্য ও সততার প্রতি তার বিশ্বাস ছিল।

দিনে দিনে হারপ্রিত তার কোম্পানিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকে তার আশেপাশের কিছু সহকর্মীর সাহায্যে, যারা তাদের পুরনো কোম্পানির অসৎ পন্থা চর্চার বিরুদ্ধে ছিল। পুরো বিষয়টি গোপনে পরিচালিত হলেও একদিন সবকিছু সামনে প্রকাশ হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি মোড় নেয় এক অপ্রত্যাশিত বাঁকে। এসব নিয়েই ছবির গল্প এগিয়ে গেছে।

রণবীর কাপুর তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা পারফর্মেন্স দেখিয়েছেন এই ছবিতে। সেই সাথে নবীন কৌশিক, মানিশ চৌধুরী, মুকেশ ভাট, গওহর খান, শাজান পদমজী, বিক্রমজিত কনওয়ার পাল সহ প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে দারুণ কাজ করেছেন। বিশেষ করে মানিশ চৌধুরী’র সাথে রনবীরের টেলিফোনে ওয়ান টু ওয়ান কনভারসেশনটা ছিল বেশ আকর্ষণীয়।

পরিচালনায় ছিলেন ‘চাক দে ইন্ডিয়া’ খ্যাত শিমিত আমিন। চিত্রনাট্য লিখেছেন জয়দীপ শাহ্‌নী। প্রযোজনা করেছেন যশ চোপরা ফিল্মস। ১৬ কোটি ভারতীয় রুপি বাজেটের এই ছবিটির লাইফটাইম আয় প্রায় ৩৪ কোটি। ছবিটি বক্স অফিসে মোটামুটি সফল হলেও খুবই আন্ডাররেটেড।

মার্কেটিং মেজর নিয়ে যারা পড়াশোনা করছেন তাঁদের জন্য ‘মাস্ট ওয়াচ’ ফিল্ম। হাস্যরসের মধ্য দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু মেসেজ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে ছবিটিতে। নতুন ব্যবসার ক্ষেত্রে ক্রেতার সাথে আলোচনার ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো আমলে আনা জরুরী, সে ব্যাপারেও কিছুটা ধারণা পেতে পারেন।

চেষ্টা আর সততা থাকলে অসম্ভবকেও জয় করা যায়। এই ছবিটি দেখলে সাধারণ একজন মানুষও আশাবাদী হতে পারবেন। সিনেমার বার্তাটা পরিস্কার। সেটা হল জীবনে সফল হওয়ার রকেট সায়েন্স দুটো – সততা ও পরিশ্রম। সব মিলিয়ে ছবিটি বেশ সময় কাটানোর মতো বলা যায়।

https://www.mega888cuci.com