রক মিউজিক ও অকাল প্রয়াণের দু:সহ স্মৃতি

বলিউডের ‘রকস্টার’ সিনেমায় একটা কথা বলা হয় – ‘বুকের ভেতরে কষ্ট না থাকলে রকস্টার হওয়া যায় না!’ কথাটা শুনতে হাস্যকর মনে হলেও খুব মিথ্যা নয়। রক মিউজিকের ভূবনেও অনেক তারকার জীবনই বেশ বেদনাবহুল। অনেকেই আছেন যারা, অনেক কষ্ট নিয়ে সময়ের আগেই চলে গেছেন পরপারে। চলুন, এবার জনপ্রিয় কিছু রক মিউজিশিয়ানের অকাল প্রয়াণের স্মৃতিচারণা করা যাক।

  • চেস্টার বেনিংটন

খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে পুরো মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। শোকের সাগরে ভেসেছিলেন ভক্তরা। দুনিয়ার মায়া কাটিয়ে পরপারে পাড়ি জমান লিনকিন পার্কের ভোকাল চেস্টার বেনিংটন। সেই শোকের রেশ আছে এখনো। মাত্র ৪১ বছর বয়সী এই তারকা তীব্র ডিপ্রেশন থেকে আত্মহত্যা করেছিলেন বলে শোনা যায়।

  • জিম মরিসন

ষাটের দশকের বিখ্যাত ক্লাসিক রক ব্যান্ড দ্য ডোরস-এর ভোকাল জিম মরিসন তার গায়কী ছাড়াও তার মাদকাসক্তি আর মদ্যপানের অভ্যাসের কারণেও বিখ্যাত ছিলেন। ১৯৭১ সালে তার অকালমৃত্যু নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচলিত থাকলেও ধারণা করা হয় হেরোইন ওভারডোজের ফলে মৃত্যু ঘটেছে এ কিংবদন্তির। যদিও, তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে বিতর্কের আগুন এখনো নেভানো যায়নি।

  • বব মার্লে

‘বাফেলো সোলজার’, ‘নো ওম্যান, নো ক্রাই’, ‘গেট আপ স্ট্যান্ড আপ’ কিংবা ‘ব্ল্যাক প্রগ্রেস’-এর মতো ভুবনজয়ী গানের জনক বব মার্লে আরো পরিচিত ছিলেন তার জীবনদর্শনের জন্য। নিপীড়িত মানুষের মনের কথা গানের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলে অল্পদিনেই খ্যাতির চুড়ায় উঠে আসেন বব মার্লে। ফুসফুস ও মস্তিষ্কের ক্যান্সারের কারণে তাঁর শিল্পীজীবন মাত্র ১৮ বছরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। ১৯৮১ সালের ১১ মে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়।

  • পল গ্রে

আমেরিকান হেভি মেটাল ব্যান্ড স্লিপনটের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেম পল গ্রে। স্লিপনটের বেজ সামলানোর দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তার ড্রাগ নেয়ার ইতিহাস ছিলো বেশ পুরনো। ২০০৩ সালে একবার অতিরিক্ত কোকেইন সেবন করে গাড়ি এক্সিডেন্ট করেছিলেন তিনি। যার কারণে তাকে হাজতে প্রেরণ করে পুলিশ। ২০১০ সালের মে মাসে এক হোটেল থেকে তাকে মৃত উদ্ধার করা হয়। ময়না তদন্তে বেরিয়ে আসে মরফিন আর ফেটানাইল ওভারডোজই ছিল মৃত্যুর কারণ।

  • কার্ট কোবেইন

বিখ্যাত আমেরিকান রক ব্যান্ড ‘নির্ভানা’র প্রধান ভোকাল আর গিটারিস্ট ছিলেন কার্ট ডোনাল্ড কোবেইন। মূলত, তাঁর হাত ধরেই শুরু হয়েছিলো নির্ভানার পথচলা। এ তালিকার বাকিদের মতো তিনিও অকালে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৯৪ সালের আনুমানিক পাঁচ এপ্রিলে কোবেইন আত্মহত্যা করেন। মৃত্যুর তিন দিন পর কোবেইনের লেক ওয়াশিংটন বুলেভার্দের বাড়িতে তার মৃত দেহ পাওয়া যায়।

  • ক্রিস কর্নেল

আমেরিকান রক ব্যান্ড ‘সাউন্ডগার্ডেন’ আর ‘অডিওস্লেভ’-এর প্রধান ভোকাল হিসেবে কাজ করে দুনিয়া জোড়া খ্যাতি পেয়ে গিয়েছিলেন ক্রিস কর্নেল। তবে তিনি তাঁর একক কাজগুলোর জন্যেও সমানভাবে পরিচিতি পেয়ে গিয়েছিলেন। ২০১৭ সালের ১৮ মে যুক্তরাষ্ট্র সময় রাত সোয়া ১২টায় ডেট্রয়েটের একটি হোটেলের এক রুম থেকে দেহরক্ষী তাকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার করেন।

https://www.mega888cuci.com