বাস্তবের কামলেশ: সঞ্জয় দত্ত’র রাইট হ্যান্ড

সম্প্রতি ‘সাঞ্জু’ সিনেমাটা বেশ সুনাম কুড়িয়েছে। খ্যাতিমান বলিউড অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত’র আলোচিত জীবন অনুসরণে নির্মিত এই সিনেমায় রণবীর কাপুরের সাথে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তরুণ ভিকি কৌশলও।

সমালোচকদের দাবী সিনেমাটিতে সঞ্জয়ের চরিত্রটি একটু বেশিই ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। একাধিক স্ত্রী, কিংবা আন্ডারওয়ার্ল্ডের সাথে সঞ্জয়ের বন্ধুত্বর ব্যাপার গুলোর অনেক স্পর্শকাতর দক্ষতার সাথে এড়িয়ে গেছেন পরিচালক রাজকুমার হিরানী।

এতকিছুর ভিড়ে বিতর্ক ছড়ায়নি কেবল ভিকি কৌশলের চরিত্রটি। চরিত্রের নাম কামলেশ কানহাইলাল কাপাসি, ওরফে কামলি। এক সাক্ষাৎকারে ভিকি চরিত্রটির প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘চরিত্রটি মূলত সঞ্জয় দত্তর তিন-চারজন ঘণিষ্ট বন্ধুর সম্মিলিত রূপায়ন হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে। তবে, চরিত্রটি মূলত গুরুত্ব পেয়েছেন পরেশ ঘেলানি। এই ভদ্রলোক স্থায়ী ভাবে ‍যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন।’

এবার প্রশ্ন হল কে এই পরেশ ঘেলানি? এই ভদ্রলোক পরিবার নিয়ে আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলসে চলে গেছেন বহুবছর হল। সেখানেই স্থায়ী ভাবে থাকেন। উদ্যোক্তা থেকে তিনি বড় ব্যবসায়ী বনে গেছেন। কাজ করেন মুন এক্সপ্রেস, এক্সপ্রাইজ ও রেডিমুনের মত বড় বড় প্রতিষ্ঠানের সাথে।

একদম কিশোর বয়স থেকে সঞ্জয় দত্তর সাথে পরিচয় ঘেলানির। তখন থেকেই বন্ধুত্ব। গান বাজনার ভক্ত ছিলেন দু’জনই। সেখান থেকেই বন্ধুত্ব। বিপদের সময়ে সব সময়ই এই বন্ধুটিকে পাশে পেয়েছেন সঞ্জয় দত্ত, যেমনটা দেখানো হয়েছে সিনেমাতেও।

আন্ডারওয়ার্ল্ডের অন্ধকার পৃথিবীর সাথে সঞ্জয়ের যোগাযোগ নিয়ে যখন পত্রপত্রিকায় লেখালেখি শুরু হল তখন দু’জনের সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন ছিল। তবে, এখন সেসব চুকেবুকে গেছে।

তবে, এর আগে কখনোই লাইমলাইটে আসেননি পরেশ। বন্ধু খ্যাতিমান অভিনেতা হলেও নিজে সব সময় আড়ালেই থেকেছেন। বার বার তবুও ছুটে এসেছেন বন্ধুত্বের টানে।

পরেশ এতটাই প্রচারবিমুখ যে দীর্ঘদিন তিনি স্যোশাল মিডিয়া থেকে দূরে থেকেছেন। সম্প্রতি বন্ধুর জোরাজুরিতে বাধ্য হয়ে অ্যাকাউন্ট খুলেছেন টুইটারে। সেখানে বন্ধুকে উদ্দেশ্য করে সঞ্জয় লিখেছেন, ‘তুমি আমার সামর্থ্যের একটা পিলার। সব সময় আমার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। স্যোশাল মিডিয়া ভূবনে স্বাগতম।’

সাঞ্জু দেখার পর আনন্দে কেঁদেছেন পরেশ। তিনি টুইটারে লিখেছেন, ‘সাঞ্জু দেখার পর আবেগে আমার মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বের হচ্ছিল না। আমি শুধু সঞ্জয়কে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে চাচ্ছিলাম। জীবন নামের এই রোলার কোস্টার রাইডে এক সাথে কি না দেখেছি আমরা। যে ভুলগুলো করেছি, সেগুলো আর ঠিক করা যাবে না। তবে, যে শক্তিটা আমরা দু’জন দু’জনার মধ্যে পেয়েছি সেটা আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না।’

– বিয়িং ইন্ডিয়ান, পিংক ভিলা ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।