সবুজের বুকে লাল, যুদ্ধটা আমাদেরই চিরকাল!

মেয়েটা হয়তো দেখতে শুনতে চমৎকার ছিল। তাই হয়ত বাবা-মা আদর করে নাম রেখেছিল বিউটি।

কেন জানত, এই ‘বিউটি’ই কাল হয়ে দেখা দিবে বিউটি নামের ১৬ বছরের মেয়েটির জীবনে!

নরপশুরা তাকে অপহরণ করে ধর্ষণ করেছে একবার। মেয়েটি আর তার বাবা-মা এই জন্য মামলা করেছিল!

এর খেসারত হিসেবে দুই মাস পর নরপশুরা তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে আবার ধর্ষণ করেছে। এই যাত্রায় অবশ্য তাকে আর ছেড়ে দেয়নি। প্রাণটাও কেড়ে নিয়েছে!

এবারের স্বাধীনতা দিবসে এই খবর বেড়িয়েছে পত্রিকায়!

এই মেয়ে আর তার পরিবারের হয়ত জানা ছিল না- এই দেশে কেউ ধর্ষিত হলে এর দায় ধর্ষিতাকেই নিতে হয়! তার চাল-চলন, জামা-কাপড় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়!

কোনো কারণে যদি এর জন্য মামলা করতে থানা-পুলিশ, অফিস-আদালত করতে হয়; তাহলে প্রতি পদে পদে ওই ধর্ষিতা মেয়েটিকে ধর্ষিত হতে হয়।

ভাবখানা এমন – তুমি তো একবার ধর্ষিত হয়েছ’ই। তোমাকে আরেকবার ধর্ষণ করাই যায়! এ আর এমন কি!

মেয়েটাকে প্রথম বার ধর্ষণ করা হয়েছিল দুই মাস আগে। সঙ্গে সঙ্গেই মামলা করা হয়েছিল। আমার বড্ড জানতে ইচ্ছে করছে- দুই মাস পার হয়ে যাবার পরও আসামীরা কেন মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছিল?

পত্রিকায় পড়লাম মেয়েটাকে যারা ধর্ষণ করেছে, তারা ওই এলাকায় চেয়ারম্যান-মেম্বারের সুপুত্র!

সু’পুত্র বলে কথা! তাদের জন্য তো আবার আইন আলাদা!

বনানীর এক হোটেলে বছর খানেক আগে কয়েক জন ধনীর দুলালী তাদের জন্মদিনে ডেকে নিয়ে গিয়ে যেই মেয়ে গুলোকে নির্যাতন করেছিল; সেই মেয়েরা এখন কেমন আছে, আপনাদের কারো কি জানা আছে?

নির্যাতিত ওই মেয়ে গুলো কেমন আছে না জানলেও, আপনাদের জানিয়ে রাখি, বড়লোকের সুপুত্র গুলো কিন্তু বেশ আছে!

তনু নামের মেয়েটাকে যে হত্যা করা হয়েছিল মনে আছে? ক্যান্টনমেন্টে যার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল! মেয়েটার মৃত্যুবার্ষিকী এইতো কয়দিন আগেই পার হয়েছে।

তো, তনু হত্যার কি বিচার হয়েছে?

ও!মা বিচার হবে কি করে! পশু-পাখিদের জন্য যে আলাদা কোন আদালত এই দেশে নেই! শত হোক, তনু’কে তো শিয়াল-কুকুর বনের ভেতর ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছে বলেও শুনা গিয়েছে! শেয়াল- কুকুর’কে তো আর আইন-আদালতের ভয় দেখিয়ে ফায়দা নেই!

বিউটি নামের মেয়েটার মৃতদেহও স্বাধীনতা দিবসে পাওয়া গিয়েছে ধানক্ষেতের পাশে। কে জানে, কাল হয়ত শুনা যাবে, ধানক্ষেতের কোন কীটপতঙ্গের কামড়ে হয়ত মেয়েটার মৃত্যু হয়েছে।

আর যাই হোক, কীটপতঙ্গের জন্য তো আর আলাদা আইন-আদালত নেই এই দেশে!

মাত্র ১৬ বছরের এই ছোট জীবনে মেয়েটাকে দুই দুই বার ধর্ষিত হতে হয়েছে, সেই সঙ্গে প্রাণটাও! তাও ভালো মেয়েটা মরে বেঁচেছে। নইলে এই সমাজ ধর্ষিত হবার জন্য পদে পদে তার দোষ’ই খুঁজে বেড়াত আর বেঁচে থাকলে প্রতিদিন-প্রতিরাত তাকে নিয়ম করে ধর্ষিত হতে হতো সমাজের মানুষ গুলোর কাছে।

সবুজের বুকে লাল, যুদ্ধটা আমাদেরই চিরকাল!

https://www.mega888cuci.com