ইয়েস ভাইয়েরা, হিরো হওয়া এত সহজ নয়!

আমাদের পেশায় গ্ল্যামার আর নামযশের ব্যাপারটা নিয়ে সবাই কথা বলে। সবাই ভাবে এরা কোটি কোটি টাকা রোজগার করে, সোনার থালায় ভাত খায়, মার্সিডিজে চড়ে। গ্ল্যামার, নামধাম, টাকাকড়ি- একটা দিক। আরেকটা দিক হচ্ছে প্রাণান্তকর চাপ। এই প্রফেশনে রাতদিন আপনাকে ঈর্ষা শত্রুতা আর নেগেটিভিটির সামনে পড়তে হবে। শুধু শত্রুরা না, তোমার কাছেও লোকেরাও তোমার ক্ষতি করবে। এরা সামনে ভাল কথা বলবে, বিশ্বাস করাবে তারা তোমার কত কাছের আর এরপরে একদিন আবিষ্কার করবে আড়ালে এরা তোমার কি ক্ষতিটাই না করেছে!

সেলেব্রিটিদের আশেপাশে নানা রকমের মানুষ ঘুরঘুর করে যাদের বেশিরভাগের উদ্দেশ্য খুব একটা সৎ থাকে না। খুব সহজ একটা নাম আছে এদের- চামচে। ইতিহাস সাক্ষী, এই চামচেরা উত্তম কুমারের অপূরণীয় ক্ষতি করেছিল। আমার বাবারও করেছিল। একজনকে বিশ্বাস করে একবার লাখ টাকা দিয়েছিলেন সে বড় একটা কাজ করে দিবে এই ওয়াদায় আর মুম্বাই থেকে ফিরে এসে দেখেন লোকটি মেট্রো সিনেমার পাশে ৬ হাজার স্কোয়ার ফিটের জায়গা নিয়ে নিজের নতুন অফিস খুলেছে!

আমার ছবি যখন চলেনি, তখন অবাক হয়ে খেয়াল করেছি যেসব মানুষেরা এতদিন পাশে ছিল – তারা দূরে সরে গেছে। এই অবস্থায় যেসব মানুষেরা দূরে চলে যায় এবং নতুন করে সাফল্য পেলে আবার ফিরে আসে – তাদের সাথে কেমন ব্যবহার করা উচিত? প্রায় সবাই বলবে- এদের দুরেই রাখা উচিত! তুমি আমার খারাপ সময়ে ছিলে না, আর এখন আমার ভাল সময়ে তুমি আমাকে ডিজার্ভ করো না বাপু! আমার মতে এটা ভুল স্ট্র্যাটেজি, আমি এই ধরনের প্রতিশোধ নীতিতে বিশ্বাসী না।

আমি নিজেকে একটা প্রোডাক্ট মনে করি। ঐ সময়ে প্রোডাক্টের চাহিদা ছিল না, বেশি চলছিল না, তাই লোকে সরে গেছে।আজ আবার চলছে আর লোকে ফিরে এসেছে। এটা তো অর্থনীতির বেসিক অঙ্ক! তাঁর সঙ্গে যুদ্ধ করতে যাব কেন?

তোমার সাফল্য নিয়ে চারপাশে যা ঘটছে তাতে যদি বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়, তাহলে সেই আনন্দের সানাই দ্রুত তোমাকে ত্যাগ করে যাবে।জীবনের বড় একটা সময় নিজের জোনের বাইরে বের হইনি এই ভয়ে যে ডিফোকাসড না হয়ে যাই আবার! নতুনদের মনে করিয়ে দিতে চাই, একটু নাম হলেই নানা রকমের প্রলোভন আসবে, একঘেয়েমির বাইরে যাওয়ার জন্য মনটা বিদ্রোহ করবে, কিন্তু মনটাকে আটকাতে হবে।

নিজের বহু সিনেমাতে আমি নেচেছি, ড্যান্সার হিসেবে ছোটখাটো সুনামও কুড়িয়েছি। অথচ আজ পর্যন্ত কলকাতার কোনো ডিস্কোতে নাচতে যাইনি। কোনো নাইট ক্লাবে পা দেইনি। আমার কি ইচ্ছে করেনি? কত ইনভাইটেশন পাই। শুধু নিজেকে একটা প্রশ্নই জিজ্ঞাসা করেছি, বুম্বা, এটা করলে তোমার প্রফেশনের কি কোন উপকার হবে?

আমার মনে হয় বড় অভিনেতা হিসেবে অনেকদিন থাকতে হলে ধৈর্য আর মাথা ঠাণ্ডা রাখা খুবই দরকারী। যেকোনো ব্যাপারে সময় নিতে হয়, হুট করে কিছু করতে নেই। মনটাকে টেপ রেকর্ডারের পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। যাবতীয় নেগেটিভিটি ডিলিট করা শিখতে হয়। নিজের মাঝে অদৃশ্য ডিলিট বাটন তৈরিটা খুবই জরুরী।

পড়ে অবাক লাগছে? মনে হচ্ছে, এত সবকিছুর সাথে লড়তে হয় ক্যামেরার শটের বাইরে?

ইয়েস ভাইয়েরা, হিরো হওয়া এত সহজ নয়!

https://www.mega888cuci.com