একটি ‘কুৎসিত মেয়ে’র ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

তিনি দুপুরের খাবারটা খেতেন স্কুলের বাথরুমে বসে। চুপি চুপি। কারণ, আমেরিকায় স্রেফ ভারতীয় হওয়ার কারণেই স্কুলে হয়রানির মুখে পড়তে হত তাঁকে। তিনি ঠিক ফর্সা ছিলেন না কখনো। শ্যামলা গড়নের জন্য স্কুলে তাঁর নাম হয়ে গিয়েছিল ‘ব্রাউনি অ্যান্ড কারি’।

সহপাঠীদের এমন আচরণ আত্মবিশ্বাসটাই গুড়িয়ে দিয়েছিল তাঁর। কিশোরী মেয়েটি প্রায়ই নিজেকে প্রশ্ন করতেন, ‘আমি আসলে কে?’

একদিন ঠিক রোজকার মত বাথরুমে বসে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। এমন সময় দু’জন উদ্ধত সহপাঠী তাঁর ওপর আক্রমণ চালায়। সেটা এতই বিভৎষ ছিল যে সেই ছোট মেয়েটি আত্মরক্ষার জন্যই পাল্টা আক্রমণ করতে বাধ্য হয়। তিনি বুঝতে পারেন, ‘রুখে না দাঁড়ালে ভয়টাই সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে দেয়াল হয়ে যাবে।’

তিনি ভয়কে নিজের জীবনের নিয়ন্ত্রক হিসেবে মানতে নারাজ ছিলেন। তিনি সব সময় তাই মনে করেন, জীবনের যেকোনো পরিবর্তনই খুব সহজ হয় যদি নিজের ওপর, নিজের প্রতিভার ওপর বিশ্বাস রাখা যায়।

তিনি দেশে ফিরে আসেন। চেয়েছিলেন স্থপতি হবেন। কিন্তু, জীবন এক মুহূর্তে পাল্টে যায় মা তাঁর নামটা দাখিল করেন মিস ইন্ডিয়া প্রতিযোগীতায়। যে মেয়েটি সব সময় নিজেকে কুৎসিত বলে ভেবে এসেছিল, সেই তিনিই সবাইকে চমকে দিয়ে মিস ইন্ডিয়ার পুরস্কার জিতে যান।

মেয়েটি সব সময় স্বপ্ন দেখতো তাঁর বাগদানের আংটিটা হবে ‘টিফানি অ্যান্ড কো’ ব্র্যান্ডের। এই স্বপ্নটা শুরু হয় বিখ্যাত ক্লাসিক সিনেমা ‘ব্রেকফাস্ট অ্যাট টিফানিস’ দেখার পর। যদিও, বাবার শিক্ষা ছিল, অন্যের দেখানো স্বপ্নে নয়, নিজের স্বপ্নটাকে নিজের হাতে গড়ার। তিনিই বলেন, ‘বাবা বলতো সিন্ডারেলার মত কোনো কাচের জুতোয় নিজেকে ফিট করতে চাইবে না, তুমি যা চাও তাই হও।’

মেয়েটি চাইতো নিজের আত্মবিশ্বাস দিয়ে অন্যকেও অনুপ্রেরণা যোগাতে। যে কেউই যে সফল হতে পারে, সেই চাবিটা খুঁজে বের করে দিতে চাইতো। মনে করতো, ‘বিশ্বকে নিয়ন্ত্রনে নিতে আসলে নিজেকে যোগ্য করে তোলাটা জরুরী।’

মেয়েটা একবার জানতে পারলো যে তাঁর বাড়ির গৃহপরিচারিকার ছেলে স্কুলে যায়, কিন্তু মেয়ে বাড়িতে থাকে। তখন তিনি নিজের অর্থায়নে ওই মেয়েটির শিক্ষার দায়িত্ব নিলো। আজো তিনি নিজের আয়ের ১০ শতাংশ ব্যয় করেন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পেছনে। এই অর্থে তাঁদের শিক্ষা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত হয়।

নিজের ক্যারিয়ারেও প্রচলিত উপমহাদেশী ধ্যান-ধারণার বিরুদ্ধে তাঁর লড়াইয়ের কোনো জুড়ি নেই। তিনি দেখিয়েছেন এমন কোনো চরিত্র নেই যাতে তিনি মানানসই নন।

অনেক পুরুষই তাঁর সাফল্য ও উচ্চাভিলাসের কারণে তাঁকে পছন্দ করতেন। যদিও নিক জোনাস এই সাফল্য বা খ্যাতির জন্য নয়, প্রেমে পড়েছিলেন তাঁর ভাবনার, তাঁর দৃষ্টিভঙ্গীর। হ্যা, নিক বিয়ের প্রস্তাবটাও করেছিলেন ‘টিফানি অ্যান্ড কো’র আংটি দিয়েই। এরই মধ্য দিয়ে অবশেষে মেয়েটি খুঁজে পায় তাঁর স্বপ্নের রাজকুমারকে।

মেয়েটা নিজের বিয়েতে যে জমকালো পোশাকটা পরেছিল, তাতে সেলাই করে লেখা হয়েছিল তাঁর বাবার নাম। নতুন জীবনের রোমাঞ্চেও যেন সাথে বাবার স্মৃতি থাকে, সেজন্যই এটা করেছিলেন তিনি।

আরো পড়ুন

এই মেয়েটা হলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। সাবেক এই বিশ্বসুন্দরী এখন বিশ্বের মঞ্চে বলিউডের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। তাঁর গল্পটা তাঁর ভক্তদের নিজের সামর্থ্যের প্রতি আত্মবিশ্বাসী হতে শেখায়। তিনি নিজেই যেমন বলেন, ‘তুমি যা, তাতেই তুমি সৎ থাকো, সাহসী হও। পরিবর্তনটা তখনই আসবে যখন নিজেকে বুঝতে পেরে নিজের সামর্থ্যে সৎ থাকতে পারবে। নি:স্বার্থ থাকো, ভালবাসা পাবে।’

গোলকাস্ট অবলম্বনে

https://www.mega888cuci.com