পাপাই দ্য সেইলর ম্যান: বাস্তব চরিত্র থেকে অনন্য কার্টুন

একটা কার্টুন চরিত্র কতটা জনপ্রিয় হলে সেটা রীতিমত একটা ব্র্যান্ডে পরিণত হয়! চরিত্রটি পালঙ শাক খেয়ে সুপারহিরোদের মত শক্তি পায়। মুখে থাকে পাইপ, তাঁর চলার ধরণ, কথা বলার ধরণ সবই আইকনিক। কার কথা বলা হচ্ছে সেটা নিশ্চয়ই সচেতন পাঠকরা এরই মধ্যে ধরে ফেলেছেন। তিনি হলেন ‘দ্য সেইলর ম্যান’ খ্যাত পাপাই।

এই চরিত্রটি যাত্রা শুরু করে ১৯২৯ সালের ১৭ জানুয়ারি। ‘কিং ফিচার্স’ নামের একটি পত্রিকাটিতে এলজি ক্রিসলার সিজারের তৈরি এই চরিত্রটি প্রথম প্রকাশিত হয়। শুধু পত্রিকা বা কমিক বইয়েই নয় পরবর্তিতে এই চরিত্রটি নিয়ে টেলিভিশনের অ্যানিমেশন সিরিজ, এমনকি সিনেমা, ভিডিও গেমস অবধি হয়েছে।

মজার ব্যাপার হল, দুই শীর্ষ চরিত্র পাপাই ও অলিভ ওয়েল – দু’টোর কোনোটাই কল্পনাপ্রসুত নয়। এই দু’টি চরিত্রই হলেন কার্টুনিস্ট সিজারের প্রতিবেশি। পাপাইয়ের আসল নাম হল ফ্র্যাঙ্ক রকি ফিয়েগালা, তিনি একটি চোখে দেখতে পারতেন না। পাপাইয়ের মত তিনিও মুখে সর্বক্ষণ পাইপ রাখতেন। এমনকি রকি মারা গেলে তাঁর সমাধিতে লিখে রাখা হয় – ‘পাপাইয়ের অনুপ্রেরণা’। আর অলিভ ওয়েল নামের শুকনা নারীটির চরিত্রটি ডোরা প্যাসকেল থেকে অনুপ্রানিত।

পাপাইয়ের শক্তির উৎস পালঙ শাক। আসলে বাচ্চাদের সবজি থেকে উৎসাহিত করতেই এটা দেখানো হয়। আর এই পাপাই যখন জনপ্রিয় হয়ে ওঠে তখন আমেরিকায় পালঙ শাকের বিক্রি ৩৩ শতাংশ বেড়ে যায়। পাপাইয়ের মত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এর থিম সঙ ‘আই অ্যাম পাপাই, দ্য সেইলর ম্যান’। গানটি নির্মান করেন ফ্লেশার স্টুডিওজের স্যামুয়েল।

আমেরিকায় পাপাই কতটা জনপ্রিয় সেটা বোঝাতে একটি তথ্যই যথেষ্ট। টেক্সাসের ক্রিস্টাল সিটিতে পাপাইয়ের একটি মুর্তি আছে। মুর্তিটি ১৯৩৭ সালে বানানো হয়েছিল স্পিনাচ বা পালঙ শাক ইন্ডাস্ট্রির প্রসার হওয়ার কারণে। এখানেই শেষ নয়, পাপাইয়ের ৭৫ তম জন্মদিনে আমেরিকার এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ে চুড়াকে সবুজ আলোয় সাজানো হয়েছিল।

১৯৯৩ সালে প্রথমবারের মত অ্যানিমেশন আকারে আসে পাপাই। তখন থেকেই অলিভের মন জয় করতে আমরা পাপাই আর ব্লুটোর জমজমাট লড়াই দেখতে পাই। যদিও, ১৯৩৫ সাল থেকে পাপাই ও অলিভের চরিত্রে কণ্ঠ দিয়ে এসেছেন যথাক্রমে জ্যাক মারসার ও মার্গি হাইন্স। ৪০ বছর ধরে তারা কণ্ঠ দেন, আর শেষবেলায় গিয়ে দু’জনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পড়েন। ঠিক যেন, কার্টুনটির গল্পেরই বাস্তব চিত্রায়ন!

১৯৮০ সালে পরিচালক রবার্ট অল্টম্যানের নির্মানে বড় পর্দায় মুক্তি পায় ‘পাপাই’ নামের পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা। পাপাইয়ের চরিত্র করেন রবিন উইলিয়ামস, অলিভের চরিত্র করেন শেলি ডুভেল, আর ব্লুটোর চরিত্রে ছিলেন পল স্মিথ। সিনেমার প্রায় পুরোটাই শ্যুটিং করা হয় মাল্টার মেলেনিয়া গ্রামে। পরে গ্রামটির নাম পাল্টে ‘পাপাই ভিলেজ’ রাখা হয়। এখন এটা মাল্টার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। লোকজন সেখানে গিয়ে পিকনিক করে, নৌকায় চড়ে ঘুরে বেড়ায়।

স্টোরিপিকওয়াওরিডস অবলম্বনে

https://www.mega888cuci.com