প্লিজ ৩৩ মিনিটের এই শর্ট ফিল্মটি দেখুন

সবকিছুর রিভিউ লাগে না। ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের প্রয়োজন হয় না। এই ঈদে যতগুলো নাটক, টেলিফিল্ম আর শর্ট ফিল্ম দেখলাম, তার মধ্যে ‘অক্সিজেন’ আমার কাছে সেরকম একটা কাজ। এটা দেখার পর কী অনুভূতি, তা ভাষায় সহজে প্রকাশ করতে পারব না। আবার যদি প্রকাশ করতে শুরু করি, তাহলে হয়তো হাজার হাজার শব্দ খরচ হয়ে যাবে। তারচেয়ে কিছু অনুভূতি না হয় অব্যক্তই থাক।

আরো পড়ুন

সকলের কাছে শুধু অনুরোধ, দয়া করে এই কাজটিকে হারিয়ে যেতে দেবেন না। হাতে যদি সময় থাকে, প্লিজ ৩৩ মিনিটের এই শর্ট ফিল্মটি দেখুন। নিশ্চয়তা দিতে পারি, সময়টা বৃথা যাবে না। মনে হবে না বানানো কোনো কাহিনী দেখছেন। যাদের সাথে ইতোমধ্যেই এরকম অভিজ্ঞতা হয়েছে, তাদের কাছে মনে হবে, এ তো আমারই কাহিনী!

আর যাদের সাথে এরকম অভিজ্ঞতা হয়নি, তারাও উপলব্ধি করতে পারবেন, এই চরম দুঃসময়ে আমাদের আশেপাশের অনেক মানুষকেই কী দুঃসহ নরক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। আরো বুঝতে পারবেন, এরকম কিছু তো আমাদের সাথেও হতে পারত! সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা, এখনো আমাদেরকে এমন কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়নি!

প্রশংসা করতেই হবে মাহিয়া মাহির অভিনয়ের। তার প্রায় সব সিনেমাই দেখেছি। কিন্তু আর কোথাও তার অভিনয় আমার কাছে এতটা বাস্তবসম্মত লাগেনি। তার আর কোনো অভিনয় এতটা হৃদয় ছুঁয়ে যায়নি। এই শর্ট ফিল্মটি দেখে বোঝা গেল, নির্মাতারা চাইলে তার কাছ থেকে কেমন অভিনয় বের করে আনতে পারবেন। দারুণ অভিনয় করেছেন রাশেদ মামুন অপুও। শেষ দিকে তার অভিনয়ও চোখে পানি আনার মতো। বাবা চরিত্রে ফখরুল বাশার মাসুম বেশ ভালো।

আর নির্মাতা রায়হান রাফি! আমার দৃষ্টিতে তার সেরা কাজও এটিই। তার ‘পোড়ামন ২’ ও ‘দহন’ দেখেছি হলে গিয়েই। কিন্তু সেগুলোর আবেগ পুরোপুরি ন্যাচারাল ছিল না। খানিকটা কৃত্রিমতা ছিলই। অথচ ‘অক্সিজেন’ এর কাহিনী তিনি এমনভাবে সাজিয়েছেন যে, কোনোরকম ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বা শেষের গানটি না থাকলেও, দর্শক হিসেবে অনুভূতির এতটুকু নড়চড় হতো না। ধন্যবাদ তাকে এত সুন্দর একটি শর্ট ফিল্ম উপহার দেয়ার জন্য।

https://www.mega888cuci.com