নস্টালজিক নব্বই: কোথায় গেল সেই রূপকথার রাত!

‘সেই দিন কি আর আছে, দিন বদলাইসে না’ – বিজ্ঞাপনের এই ডায়লোগটা চাইলে আমাদের বাস্তব জীবনের সাথেও মিলিয়ে ফেলা যায়। গেল ২০ বছরে দুনিয়া অনেক এগিয়ে গেছে। নব্বই দশকের শৈশব জীবনে সামান্য কিছু থেকেই যেমন অসামান্য আনন্দ আসতো, এর আর আসে না। এখন জীবন মানেই রেস, আর বাকিটা সময় স্রেফ নস্টালজিয়া।

  • মিমি চকলেট

এখন বাজারে কতরকম চকলেট। ক্যাডবেরি, স্নিকার্স, ফাইভ স্টার বা সিল্ক – নব্বইয়ের শিশুদের কাছে তবুও মিমি চকলেটই সেরা। চকলেটের ফ্লেভাবে কমলার স্বাদ আর কেই বা দিতে পেরেছিল। এখনো গুটিকয়েক জায়গায় মিমি চকলেট পাওয়া যায়। তবে, যারা খেয়েছেন তারা বলেন আগের স্বাদ আর মান – কোনোটাই নাকি নেই।

  • ইকোনো বলপেন

শুধু লেখা নয়, ইকোনো বলপেনের আরেকটা গুণ হল এটা দিয়ে দারুণ ‘পেন ফাইট’ খেলা যেত। ওই সময়ে স্কুলে পেন ফাইট খেলার জন্য উত্তম-মধ্যমের শিকার হননি এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া ‍মুশকিল। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে কলমগুলোর দাম ছিল মাত্র তিন টাকা। বাজারে এই কলমের আর কোনো অস্তিত্বই নেই!

  • মিল্কভিটা চকলেট মিল্ক

নব্বই কিংবা আশি দশকে যারা বড় হয়েছেন তারা এই পানীয়টির সাথে পরিচিত। মিল্কভিটার প্লাস্টিক প্যাকেটে আসতো মুদির দোকানগুলোতে। বিকেলের খেলা শেষে ঘামতে ঘামতে এই মিল্ক ভিটা চকলেট মিল্ক না হলে চলতোই না!

  • ওয়াকম্যান

এটা ছিল বিরাট এক ভাবের বিষয়। আজকালকার দিনে আইফোনের লেটেস্ট ভার্সন হাতে লোকজন যেভাবে ভাব নিয়ে ঘুরে বেড়ায় – এই বস্তু ছিল সেরকম একটা জিনিস। যন্ত্রটা আসলে ছোট একটা ক্যাসেট প্লেয়ার। এখানে ক্যাসেট ঢুকিয়ে গান শোনা যেত হেডফোনে।

  • পাইপ আইসক্রিম

দাম মাত্র দুই টাকা। স্কুল-কলেজের বাইরে থাকতো। ক্লাস শেষ করে বের হতেই শুরু হত আবদার। কিনে না দেওয়ার আগ পর্যন্ত মা’র সাথে চলতো বনিবনা। রঙিণ সেই পাইপ আইসক্রিমটা আমাদের শৈশবের মতই হারিয়ে গেছে। এখন আর স্কুলের বাইরে এসব দেখা যায় না।

  • টিনের পিস্তল

এটা সাংঘাতিক রকমের একটা যন্ত্র। মেলায় পাওয়া যেত। ব্যবহারের জন্য বারুদ দেয়া কাগজ পাওয়া যেত। গুলি করলে ঠুসঠাস শব্দ হতো। কি একটা রোমাঞ্চকর ব্যাপার ছিল, বলে বোঝানো যাবে না। এটারও এখন আর কোনো অস্তিত্ব নেই।

  • গেম বয়

এখন কত কি আছে। কম্পিউটারে গেমস তো খেলা যায়ই, প্লে-স্টেশন থাকলে তো কথাই নাই। তবে, এই সব কিছুর সূচনা হয়েছে সামান্য এই যন্ত্রটা দিয়ে। নাম ‘গেমবয়’। এটা কেনার জন্য আক্ষরিক অর্থেই বাবা-মার সাথে ‘যুদ্ধ’ লাগতো। খেলনার দোকান তো বটেই, পাওয়া যেত লাইব্রেরি গুলোতেও।

https://www.mega888cuci.com