নোবেল-মৌ: বিজ্ঞাপনের ভুবনভোলানো জুটি

জুটি গড়ে কাজ করাটা বিনোদন জগতে একটা ফর্মুলার মত। বিশেষ করে সিনেমায় এটা বেশ চালু একটা ব্যাপার। তাই তো বলিউডে দিলীপ কুমার-মধুবালা, অমিতাভ বচ্চন-রেখা কিংবা শাহরুখ খান-কাজল জুটি এত সাফল্য পেয়েছে। উত্তম কুমার ও সুচিত্রা সেন তো নিজেদের নিয়ে গেছেন ইতিহাসের পাতায়।

বলিউড বা কলকাতা কেন, এমন উদাহরণ বাংলাদেশেও বিস্তর। রাজ্জাক-কবরী, রাজ্জাক-শাবানা, সালমান-শাবনূর, রিয়াজ-শাবনুর, কিংবা হালের শাকিব খান-অপু বিশ্বাস বা শাকিব-বুবলিও বেশ জনপ্রিয় জুটি। বাংলাদেশে অবশ্য রুপালি জগতের বাইরেও জুটি বাঁধার নজীর আছে।

এক সাথে নিজেদের প্রথম বিজ্ঞাপনে নোবেল ও মৌ

যদিও, এত কিছুর পরও এই দেশে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ও জনপ্রিয় জুটিটা গড়ে উঠেছে মডেলিংয়ের দুনিয়ায়। এটুকু পড়েই ‍বুঝে ফেলার কথা কাদের কথা বলা হচ্ছে। হ্যা, ঠিকই ধরেছেন। তারা হলেন জনপ্রিয় মডেল ব্যক্তিত্ব নোবেল ও মৌ।

নোবেল ও মৌ প্রথম একসাথে বিজ্ঞাপন এ জুটি বাঁধেন ১৯৯২ সালে সিলভার ক্রস সুইটেন্ড কনডেন্সড মিল্ক এর বিজ্ঞাপনে। নির্মাতা ছিলেন আফজাল হোসেন। এরপর দুজনে অসংখ্য বিজ্ঞাপনে জুটি বাঁধেন, জনপ্রিয় হয় সেসব বিজ্ঞাপন। সর্বশেষ বিজ্ঞাপন ছিল মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রবি’র ফিরে আসার অফারের বিজ্ঞাপন। ২০১৬ সালের সেই বিজ্ঞাপনটি দিয়ে প্রায় এক যুগ পর কোনো বিজ্ঞাপনে এক সাথে হাজির হয়েছিলেন এই জুটি।

নাটকের একটি দৃশ্যে

নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ে তাঁদের কেয়া সাবানের বিজ্ঞাপনগুলো বেশ জনপ্রিয়তা পায়। তাদের হাত ধরেই মডেলিংয়ে যুক্ত হয় নতুন মাত্রা। এই সময়টাতে নোবেল-মৌ কতটা জনপ্রিয় ছিলেন সেটা মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারগুলো দেখলেই বোঝা যায়। ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০১ – টানা চারবার সেরা মডেলের জন্য পুরস্কার জিতেছিলেন নোবেল ও মৌ।

এরপর সংসারের কারণে মৌ অনিয়মিত হয়ে গেলেও নোবেল ছিলেন। ২০০৩ ও ২০০৪ সালেও নোবেল এই পুরস্কার জয় করেন। ২০০৭ সালের পর থেকে এই পুরস্কারটাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কারণটা অজ্ঞাত। কে জানে, হয়তো নোবেল-মৌ’দের মত কেউ আসছেন না বলেই হয়তো কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্ত।

মেরিল-প্রথম আলো সেরা মডেল পুরস্কার

  • ১৯৯৮ – নোবেল ও মৌ (কেয়া সাবান)
  • ১৯৯৯ – নোবেল ও মৌ (কেয়া সাবান)
  • ২০০০ – নোবেল ও মৌ (কেয়া সাবান)
  • ২০০১ – নোবেল ও মৌ (কেয়া সাবান)
  • ২০০২ – সাব্বির ও মোনালিসা (লিলি বিউটি সোপ)
  • ২০০৩ – নোবেল ও তিশা (সিটিসেল টেলিকম)
  • ২০০৪ – নোবেল (আরসি লেমন) ও তিশা (কেয়া সাবান)
  • ২০০৫ – চঞ্চল চৌধুরী ও দিঘি (গ্রামীনফোন)
  • ২০০৬ – কাজী জামালউদ্দিন আহমেদ (আশিয়ান সিটি) ও দিঘি(এলিট রাঙা মেহেদী)
  • ২০০৭ -ইমন ও মোনালিসা (বাংলালিংক)

নোবেল আর মৌ-এর বিশেষত্ব হল তাঁরা বিনোদন ইন্ডাস্ট্রিতে খুব স্বচ্ছ দুই শিল্পী। তাদের নামে কোনো গুজব বা স্ক্যান্ডাল কখনো ছড়ায়নি বললেই চলে। নিজেদের মধ্যেও তাদের বোঝাপড়াটা দারুণ। এক সাথে কাজ করতে করতে কখন যে একজন আরেকজনের ভাল বন্ধু হয়ে গেছেন সেটা নিজেরাও টের পাননি। তরুণদের জন্য আজো এই দু’জন অনুকরণীয় আদর্শ।

শুধু বিজ্ঞাপন নয়, টিভিতে প্যাকেজ নাটক প্রচারের শুরুর দিকে কয়েকটি নাটকে অভিনয় করে চমক সৃষ্টি করেছিলেন এই জুটি। এখন আর এক সাথে দু’জনকে বিজ্ঞাপনে দেখা যায় না বললেই চলে। তবে, বিশেষ দিনের নাটকগুলোতে এক সাথে জুটি বাঁধেন। সেই সুবাদেই নব্বই দশকের দর্শকরা আবারো ভাসতে পারেন হারানো দিনের নস্টালজিয়ায়।

https://www.mega888cuci.com