কি ভেবে এই ছবিগুলো ছেড়েছিলেন অজয়!

কমবেশি সব জনরাতেই নিজেকে সফল বলে প্রমাণ করেছেন অজয় দেবগন। পরিশ্রমী এই অভিনেতাটি আক্ষরিক অর্থে সব করেছেন। সিরিয়াস ভারিক্কিপূর্ণ চরিত্র থেকে নিখাঁদ কমেডি – সব কিছুতেই তাঁর দেখা মিলেছে। ‘রেইড’-এর আমায় পাঠক, ‘দৃশ্যম’-এর বিজয় সালগাওকার, ‘সিংঘাম’-এর বাজিরাও সিংঘাম, ‘গোলমাল’-এর গোপাল ইত্যাদি চরিত্রগুলো দর্শকদের কাছ থেকে যে এত গ্রহণযোগ্যতটা পেয়েছে এর মূল কারণ তো একটাই  অজয় আর তাঁর অভিনয়।

এর অর্থ দাঁড়ালো অজয় হলেন পানির মত। তিনি, যখন যে পাত্রে তাঁকে রাখা হয় সে পাত্রেরই আকার ধারণ করেন তিনি। যদিও সাফল্যের এই সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠাটা বাকিদের মত তাঁর জন্যও ছিল ভিষণ কষ্টকর। অনেক সুযোগ যেমন এই পথে এসেছে, তেমনি অনেক সুযোগ তিনি নিজেই হারিয়েছেন। চাইলে এই বড় ছবিগুলো করতে পারতেন অজয়, করেননি।

  • করণ অর্জুন
`করণ অর্জুন’-এর সেটে

ব্লকবাস্টার এই ছবিটি বিখ্যাত হয়ে আছে শাহরুখ খান ও সালমান খানের জুটি বাঁধার সুবাদে। সিনেমাটিতে ড্রামা, অ্যাকশন, গান সবই আছে। তবে, ছবিটিতে শুরুতে সালমানের ঠাই ছিল না। তার জায়গায় ছিলেন অজয়। শাহরুখের ভাই করণের চরিত্রের জন্য তিনি রাকেশ রোশনের প্রস্তারে রাজিও হন। তবে, প্রোজেক্টটি থেকে তিনি সরে যান পরিচালকের সাথে মতের মিল না হওয়ায়।

  • ডার

এই যুগে এসে যশ রাজ ফিল্মসের ব্যানারে হাতে গোনা কাজই করেন অজয়। যদিও, নব্বই দশকে ব্যাপারটা অন্যরকম ছিল। বড় বড় প্রোজেক্টে স্বয়ং যশ চোপড়া অজয়কে নিতে আগ্রহী ছিলেন। ‘ডার’ সিনেমার রাহুল চরিত্রটির জন্য অজয়ই ছিলেন প্রথম পছন্দ। অজয়েরও আপত্তি ছিল না। কিন্তু, ঠিক সেই সময়ই তিনি উটিতে আরেকটি ছবির শ্যুটিংয়ে ব্যস্ত। যশ চোপড়া অপেক্ষা করতে রাজি ছিলেন না। তাই তিনি শাহরুখ খানকে কাস্ট করেন। বাকিটা ইতিহাস।

  • বাজিরাও মাস্তানি

রণবীর সিং তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা কাজগুলো করেছেন সঞ্জয় লীলা বনসালীর ‘বাজিরাও মাস্তানি’ ছবিতে। যদিও, শুরুতে বাজিরাও চরিত্রের জন্য পরিচালকের পছন্দ ছিলেন অজয়। কিন্তু, ‘টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশন্স’-এ অনেক অমিল ছিল। সেখানে সিনেমার শিডিউল থেকে শুরু করে পারিশ্রমিক অনেক কিছু ছিল। ফলে, ছবিটা আর করা হয়ে ওঠেনি অজয়ের। ছবিটি পরে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সাতটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পায়।

  • কুছ কুছ হোতা হ্যায়

অজয় ও কাজল এক সাথে ‘প্যায়ার তো হোনা হি থা’, ‘ইশক’, কিংবা রাজু চাচার মত ছবি করেছেন। ১৯৯৮ সালে কাজলের বিপরীতে কাজ করার আরেকটা সুযোগ পান অজয়। কারণ তিনি ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ ছবিতে ছিলেন। যদিও, কোনো এক অজানা কারণে তিনি ছবিটি ছেড়ে দেন। নব্বই দশকের অন্যতম জনপ্রিয় একটা ছবি হিসেবে টিকে যায় কুছ কুছ হোতা হ্যায়।

টাইমস অব ইন্ডিয়াদেশিমার্টিনি অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।