যেদিন নিশ্চিত হলাম মা হবো …

আমি যেদিন কনফার্ম হলাম যে আমি আবার মা হতে যাচ্ছি কেনো জানি মেনে নিতে পারছিলাম না। নিজেকে বুঝাতে পারছিলাম না। প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছিল।বলতে গেলে কিছুদিন হতবাক হয়ে ছিলাম। যখন ডাক্তারের কাছে গেলাম, আমার চোখ দিয়ে পানি পরে গেল। আমি হতবাক হয়ে আমার চারদিক দেখতে লাগলাম। কত্ত অজস্র মেয়ে একবার মা হওয়ার জন্যে কী কষ্ট টাই না করতেছে।

একজনের ২৪ বছর পর ছেলে হয়েছে। আমাকে বললো জানেন : আপু এই ২৪ টা বছর জায়নামাজ থেকে মাথা তুলিনি এক মুহূর্তের জন্যে।সারা জীবন সম্ভবত এত্ত কাঁদিনি যত্ত টা না একটা বাচ্চার জন্যে সৃষ্টিকর্তার দরবারে কেঁদেছি।

আমি অবাক হয়ে শুনতেছিলাম উনার কথা। উনাদের কথা। কত্ত জনের কত্ত হাহাকার। শুধুমাত্র একটা সন্তানের জন্যে।

চেম্বারে অনেক এইচডি ছবি। কীভাবে একটা বাচ্চা দুনিয়াতে আসে, কীভাবে বড় হয়। কত রহস্য মানব জীবনের। আমার চোখ দিয়ে গড়িয়ে পানি পরছিল।

মা হতে পারা রহমতের ব্যাপার। আমি সিদ্ধান্ত বদলে ফেললাম। যা আছে কপালে। এই বাচ্চাটাকে আমি মৃত্যুর আগ অবধি আগলে রাখবো। যে আসছে দুনিয়াতে সে আমার ইচ্ছেতে যেমন আসছেনা তেমনি তাকে দূরে রাখার কোন অধিকার আমার নেই।

হাসপাতালে ভর্তির সময় আর এক মায়ের সাথে কথা হলো তার ১৭ বছর পর দ্বিতীয় সন্তান এটা। ৭ মাস বেচারী সেলাই নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় শুয়েছিল, একটা সন্তানের অপেক্ষায়।

আজ তার ছেলে হয়েছে। আমাকে ফোনে জানালো। কত্ত খুশি উনি। কি কষ্টটাই না উনি করেছেন একটা সন্তানের জন্যে।

একটা সন্তান কে ধারণ করা অনেক কষ্টের কিন্তু যখন মনে হয় পৃথিবীর সবার ভাগ্যে এই কষ্ট টুকুও জোটে না তখন মনে হয় এটা কোন কষ্টই না।

মা গুলোর কষ্ট আমরা কী সত্যি বুঝি? কত্ত কথা তাদের হজম করতে হয়। কত্ত শারীরিক /মানোসিক যন্ত্রনার মধ্য দিয়ে তাদের জীবন যায়। সন্তান ও যে হারয়ে যায়।

নিজের মা কে দেখি। আমার মানসিক প্রতিবন্ধি ভাইটাকে কিভাবে আগলে রাখে। কি ভাবে তাকে যত্ন করে আজ এত্ত বড় করেছে। কোনদিন ও কি পারবো নিজের মায়ের ঋন শোধ করতে?

পারবো অসুস্থ ভাইকে ফেলে দিতে?… পারবোনা। কোন মেয়ে পারেনা। কোন মা পারেনা।

একটা ছোট্ট শিশু যে কিনা সৃষ্টিকর্তার হুকুমে মায়ের গর্ভে আসে অল্প অল্প করে রক্তবিন্দু থেকে পুর্ণাংগ মানুষ হয়ে বেড়ে অঠে অজানা এক ঠিকানায়। আমরা নিজেরাও তোহ জানিনা সে কি অবস্থায় থাকে, বেড়ে ওঠে। উপরওয়ালা না চাইলে কীভাবে সম্ভব এই অদৃশ্য বেড়ে ওঠাটা?

একটা মেয়ের হাহাকার, তার চোখের পানি তার যন্ত্রনা কত্ত কষ্ট সহ্য করা এই একাকী পৃথিবীতে।

শুধুই কি একজন মেয়ের কষ্ট? একজন পুরুষের কষ্ট না। তারই স্ত্রী, তারই সন্তান। সব কিছুই তার। মানসিক যন্ত্রনা কি তার কারো চেয়ে কম? কে না চায় প্রজন্মের মুখ দেখতে? কোন পুরুষ আছে এই পৃথিবীতে যে একবার বাবা ডাক টা শুনতে না চায়?

সত্যি বলছি একটু বুঝতে পারলে, উপলব্ধি করতে পারলে জীবনে যন্ত্রনার কিছুই নেই। আমি অসম্ভব কেঁদেছিলাম যে আমি কী করতে যাচ্ছিলাম। কেনো আমি নিজের জীবন কে এত্ত ভালোবাসলাম আর একটা জীবনের চেয়েও বেশি? যে কিনা আমার জীবনের মধ্য দিয়েই তার পৃথিবী দেখবে। আমি কী আমাকে তার চেয়েও বেশি ভালোবাসি যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন? তার চেয়েও কী বেশি নিজেকে ভালোবাসা সম্ভব? যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন এই দুনিয়াতে তিনি কী না জেনে না বুঝেই পাঠিয়েছেন? আমার মাধ্যমে যে আসবে তাকেও কী আমি তারই থেকে বেশি ভালোবাসতে পারি? পারিনা। তাহলে কোন অধিকারে আমি একজন মানুষ কে পৃথিবীতে আনতে চাইনা? কোন ভালোবাসায়?

আমি সেদিনি সিদ্ধান্ত নিলাম যা আছে আমার কপালে। আমার কাজ শুধুই ধারণ করা। এর বেশি কিছুইনা। একটা সন্তান কে যদি পালতে পারি বাকি দশ টা কে কেনো পারবোনা?

বিশ্বাস করুন আমি সিমি কত্ত প্রশ্ন কত্ত টিটকারি উপেক্ষা করে আজ এই সিদ্ধান্তে অটল আছি একটা কথার উপড় আকঁড়ে ধরে আর তা হলো – সৃষ্টিকর্তা যা করেন তা আমাদের মঙ্গলের জন্যেই করেন।

আমার জীবন যাত্রা পালটে গেলো। আমি বদলে গেলাম এই একটা কথার জন্যে।

আজ আমি অন্তর থেকে প্রতিটা মেয়ের জন্যে দোয়া করি উপরওয়ালা যেনো একবারের জন্যে হলেও মা হওয়ার তৌফিক দেন সব মেয়েকে। সন্তান হারা মায়েদের কোল যেনো তিনি ভরিয়ে দেন। দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। স্বর্গের ফুল গুলো যেনো হেসে বেড়াক পৃথিবীর সব বাবা – মায়ের কোলে। যত্ত কষ্টই হোক মা – বাবার চেয়ে সন্মানীয় এই পৃথিবীতে তিনি আর কাউকেই করেন নি। মাতৃত্বের মৃত্যু ও অনেক শান্তির।

https://www.mega888cuci.com