ঢাকায় থেকেই কক্সবাজারের আমেজ!

মৈনট ঘাট ঢাকার দোহারে অবস্থিত, যেখানে গেলে আপনি মুগ্ধ হবেন, বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকবেন পদ্মা নদীর অপরূপ জলরাশির দিকে। এই বিশাল জলরাশি, পদ্মায় হেলেদুলে ভেসে বেড়ানো জেলেদের নৌকা দেখা আর পদ্মার তীরে হেটে বেড়ানো, সব মিলিয়ে কিছুক্ষণের জন্য আপনার মনে হবে আপনি এখন ঢাকার দোহারে নয়, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে আছেন। মূলত এই কারণেই অনেকে মৈনট ঘাটকে বলে থাকেন মিনি কক্সবাজার।

তবে দুঃখজনক ভাবে এখানে বেড়াতে আসা মানুষজন প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, জুসের প্যাকেট ইত্যাদি ফেলে জায়গাটা নোংরা করে ফেলছে দিনকে দিন। আমরা খুঁজে ও কোন ডাস্টবিন পাইনি। এদিকে আমাদের নিজেদেরই আরো বেশি সতর্ক হওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।

মৈনট ঘাট পরিদর্শনের উপযুক্ত সময় হচ্ছে বর্ষাকাল। তখন রাস্তার দুই পাশের নিম্নভূমি, যেখানে অবর্ষায় বিস্তীর্ণ ভূমি জুড়ে বাদামের চাষ করা হয়, সবই পদ্মার পানিতে তলিয়ে যায়। সে এক দেখার মতো দৃশ্য। শুষ্ক দিনেও এর সৌন্দর্যের কমতি নেই। তখন দেখা যাবে পদ্মা নদীর শান্ত রূপ।

একটা সন্ধ্যায় পদ্মা নদীতে সূর্যাস্ত দেখলে পরবর্তী একশোটা সন্ধ্যার কথা মনে থাকবে। ঢাকার আশে পাশে হওয়ার কারণে প্রচুর মানুষ এখানে আসছে, ঘুরছে। স্পীডবোট, ট্রলার অথবা খেয়ানৌকা নিয়ে পদ্মার বুকে ভেসে বেড়াচ্ছে অনেকেই।

  • কিভাবে যাওয়া যায়?

গুলিস্তান থেকে বাসে যাওয়া যায়। আমরা গিয়েছিলাম রায়ের বাজার থেকে মোটরবাইক নিয়ে যাত্রা শুরু করেছি, মোহাম্মদপুর, বসিলা ব্রিজ হয়ে কেরানিগঞ্জ হয়ে গেছি, গুগল ম্যাপের ন্যাভিগেশন অন করে। আমরা নিজে ও চিনি না। অন্ধের মত ম্যাপ ফলো করেছি। রাস্তা ভালো খারাপ মেলানো, ট্রাফিক এই রুটে কিছুটা কম।

  • কতটা নিরাপদ?

দিনের আলোয় ফিরে আসাটা ভালো। কারণ অনেকটা রাস্তা অতিরিক্ত রকমের নির্জন, এমন কি কাছাকাছি ঘরবাড়ি ও নাই, কোন রোড লাইট ও নাই। এক জায়গায় একটা চেকপোস্ট মত আছে, আসার পথে কিছু লোকাল লোক প্রায় সবাইকে থামায়, বখশিশ দাবি করে সাধারণত। ২০ টাকা রেডি রাখবেন। আবার নাও করতে পারে। মানুষ বুঝে আচরণ করে তারা। যেতে আড়াই ঘন্টা, ওইখানে ২-৩ ঘন্টা, আসতে দেড় ঘন্টা, এভাবে হিসাব করে বের হতে পারেন।

  • কি খাবেন?

ওখানে কিছু হোটেল আছে, যারা ইলিশ মাছ, ভাত, ভর্তা ইত্যাদি বিক্রি করে। স্বাদ খারাপ না।

https://www.mega888cuci.com