মিয়া খলিফার ‘ফেরা’ ও পর্নোগ্রাফির ভিতর-বাহির

নীল দুনিয়ার মানুষ তিনি। নীল দুনিয়া মানেই ভদ্র সমাজে নিষিদ্ধ। যদিও তাঁকে সবাই চেনে এক নামে। অসংখ্য মিম কিংবা ট্রলে ব্যবহৃত হয় তাঁর ছবি। তিনি হলেন মিয়া খলিফা – পর্নোগ্রাফির দুনিয়ায় হার্টথ্রব একটি নাম।

নিষিদ্ধ ক্যারিয়ারের স্বল্প সময়েই নিষিদ্ধ সাইট পর্ণহাবের তালিকায় শীর্ষ পর্ণ স্টার বনে যান। সেখানে ক্যারিয়ারের ব্যাপ্তি ছিল সামান্য ক’টা দিন। ব্যাপারটা এমন- এলেন, দেখলেন, জয় করলেন! লেবানিজ-আমেরিকান এই নীলছবির তারকা বিখ্যাত ছিলেন হিজাব পড়ে অভিনয়ের ফলে! বিখ্যাত না বলে কুখ্যাতও বলা যেতে পারে। এর জন্যে ধিক্কারও জুটেছে কপালে।

সেই জগৎ ছেড়ে দিয়েছেন মিয়া খলিফা, তা মোটামুটি কারো অজানা নয়। ক্রীড়া ধারাভাষ্যকার হিসেবে নতুন জীবন শুরু করা ২৬ বছর বয়সী মিয়া এতদিন গোপনীয়তায় ঢেকে রেখেছিলেন অন্ধকার অতীতের গল্প। মুখ খুললেন সম্প্রতি।

লেবাননের বৈরুতে মুসলিম পরিবারে জন্ম হলেও একসময় খ্রিস্টান হয়ে যায় মিয়া খলিফা। টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ে বি.এ পড়ার সময়ে পড়াশুনার পাশাপাশি কাজ করতেন ফাস্টফুডের রেস্তোরাঁয়। ব্রেস্ট সাইজ তুলনামূলক বড়, সুন্দর ফিগার হওয়ায় নজরে পড়েন পর্ণ দুনিয়ার হেভিওয়েটদের।

প্রস্তাব পান পর্ণ ইন্ডাস্ট্রিতে অভিনয়ের। রাজি হলে শুরু হয় অন্ধকার যাত্রা। ২০১৫ এর অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর, মাত্র তিনমাসেই হয়ে উঠেন পর্ণোজগতের জনপ্রিয় একজন। হ্যাঁ! মাত্র তিনমাসই চলেছে মিয়ার নীলরঙ্গ! এরপর বেরিয়ে আসেন অন্ধকার থেকে। কিন্তু হঠাৎ করে কেনই বা ছাড়লেন এসব?

যেখানে অর্থের ঝনঝনানিতে ফুলেফেঁপে উঠার কথা ব্যাংক ব্যালেন্স! শরীর দেখালে অর্থের বৃষ্টি তো হওয়ারই কথা। তার উপর পর্নোগ্রাফির আছে আলাদা নিজস্ব এক দুনিয়া। আছে পুরস্কার, সেরার স্বীকৃতি, স্বকীয়তা। ঠিক এই বিষয়েই মুখ খুললেন ২০১৫ সালের সর্বোচ্চ সার্চকৃত পর্ণস্টার মিয়া খলিফা।

পর্ণ ইন্ডাস্ট্রির উপরস্থ কর্মকর্তাদের সম্পর্কে রীতিমতো বোমা ফাটিয়ে তিনি বলেন, ‘কর্পোরেশনের লোকেরা অসহায় ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত তরুণীদের সঙ্গে আইনি চুক্তি করে। ফাঁদে ফেলা হয়। সেসব কন্ট্রাক্টে তাদের ফায়দাটাই বেশি হয়।’

সম্প্রতি বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরো বলেন, ‘লোকে ভাবে আমি প্রচুর পয়সা কামিয়েছি। তাদের ধারণা ভুল। শরীর দেখিয়ে আমার আয় মাত্র ১২,০০০ ডলার। এই টাকাটা আহামরি কিছু নয়। উল্টো এটি ছাড়ার পর অন্য কাজ পেতে আমার সমস্যা তৈরি হয়েছে।’

কেন ছেড়েছেন এই প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন এত বছর পর, ‘প্রথম যেবার ক্যামেরার সামনে যাই, একই সঙ্গে অনুশোচনা এবং ভাললাগা দুটোই কাজ করেছিল। এখন বুঝতে পারছি আমি তখন ২১ বছরের একটা গাধা ছিলাম। আমি ভাবতাম আমার কাজ ওসবের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বাইরে কেউ দেখবে না। কিন্তু আমি ভুল ছিলাম। আমার পরিবার আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। জঙ্গি সংগঠন আইএসআইএস থেকে আমাকে হুমকি দেওয়া হয়। তারা আমাকে গুগল ম্যাপে থাকা আমার বাড়ির ছবি মেইল করে পাঠায়। তারা একটি প্রতীকী ভিডিও বানায় যাতে দেখা যায় আমার শিরচ্ছেদের জন্য সবকিছু প্রস্তুত করা হচ্ছে’। এমনিতেও সরে আসতে চাচ্ছিলাম ওই দুনিয়া থেকে, কেননা বুঝতে পেরেছিলাম আমাকে ব্যবহার করা হচ্ছে। আমার প্রাপ্য পাচ্ছি না আমি। আর এসব হুমকিতে তো ভয়ই পেয়ে বসি।’

মিয়া খলিফা ছেড়ে আসলেও তাকে ছাড়েনি পর্ণ দুনিয়া। তার নামে এখনো চলছে ওয়েবসাইট, যার মালিকানা দূরে থাক সেখান থেকে নূন্যতম লভ্যাংশও পায় না সাবেক এই তারকা। গতবছর চেয়েছিল সাইটের নাম বদলাতে, কাজের কাজ কিছু হয়নি।

নিজের অতীত এখনো তাড়িয়ে বেড়ালেও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন তিনি। জীবনের ভয়ংকর বিষণ্ণ সময়ে ভেঙ্গে পড়েছিলেন। কাঁধে হাত রেখে আশ্বস্ত করেন প্রেমিক রবার্ট স্যান্ডবার্গ। মিয়ার মতে, ‘জীবনের ঘোর দুঃসময়ে যখন সব আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম, তখন এই মানুষটা সবচেয়ে বেশি সাহস, অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। ওর মতো ভালোমানুষ আমি দ্বিতীয়টি দেখিনি।’

২০১৯ সালের শুরুতে বিপদের বন্ধু স্যান্ডবার্গের সঙ্গে বাগদান সেরে নেয় স্পোর্টসে ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এগুলো মিয়া খলিফা।

অন্ধকার দেখেছেন চোখের সামনে। হারিয়ে যেতে দেখোছেন সবকিছু। জীবনের বইয়ে নোংরা এক অধ্যায় কতটা এলোমলো করে দিতে পারে সৌন্দর্য্যকে তা তিনি ভালোই জানেন। তাই চান, তরুণীরা পা না রাখুক এই কৃষ্ণগহ্বরে। সেখান থেকে ফেরাটা যে বড্ড কঠিন!

https://www.mega888cuci.com