মাসুদ রানা সিরিজ ও দুটো হলিউডি ছবি

৭০, ৮০ কিংবা ৯০ দশকের বাংলাদেশের বেশিরভাগ শিক্ষিত তরুণ-তরুণী ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের ভক্ত ও অনুরাগী ছিলেন। এক সময় আবালবৃদ্ধবনিতা সকল স্তরের পাঠক বুঁদ হয়ে থাকতেন সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত ‘মাসুদ রানা’ সিরিজে। কাজী আনোয়ার হোসেন তথা সবার প্রিয় কাজীদা রচিত সিরিজটা এখনো অনেকেই পড়েন বলেই আমার বিশ্বাস।

আমরা জানি, ৪-৫ টা বাদে রানা সিরিজের সকল বই কোনো না কোনো বিদেশি বইয়ের গল্পের ছায়া অবলম্বনে লেখা বা রুপান্তর। আর সেসব রাশান ও ইংলিশ থ্রিলার বইয়ের কাহিনি নিয়েও বাইরের দেশে তৈরী হয়েছে অনেক ছবি। বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন জরিপে রানা সিরিজের সবচেয়ে জনপ্রিয় দুইটি পর্ব হিসেবে পরিগনিত ‘অগ্নিপুরুষ’ ও আই লাভ ইউ ম্যান’ যে দুটো বিদেশি গল্প থেকে তৈরী হয়েছে সেগুলো থেকে নির্মিত দুটো হলিউডি মুভি সম্পর্কে কিছু বলবো। এমআর-নাইন মানে রানা ভক্তরা হয়তো এরফলে মুভি দুটো সম্পর্কে আলাদা ধারনা পেতেও পারেন।

  • অগ্নিপুরুষ: ম্যান অন ফায়ার (২০০৪)

এ. জে. কুইনেলের লেখা ‘ম্যান অন ফায়ার’ নামের ১৯৮০ সালে প্রকাশিত বেস্ট সেলার উপন্যাস অবলম্বনে কাজী দা আশির দশকের শেষভাগে রানা সিরিজের ‘অগ্নিপুরুষ’ বইটি লিখেন। দুই খণ্ডের বইটি রানা সিরিজের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্বে পরিনত হয়। অবশ্য তার আগে প্রয়াত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ একই গল্প অবলম্বনে সংক্ষিপ্ত আকারে ‘অমানুষ’ নামে একটি বই লিখেন।

যাই হোক, ‘ম্যান অন ফায়ার’ নামে ড্যানজেল ওয়াশিংটন অভিনীত হলিউডি ছবিটি মুক্তি পায় ২০০৪ সালে। এর আগে অবশ্য ১৯৮৭ সালে একই নামে আরেকটি ছবি তৈরি হয়েছিল। মূল উপন্যাসের থেকে অনেকটা এদিক-ওদিক করা সত্ত্বেও ডেনজেল অভিনীত ‘ম্যান অন ফায়ার’ মোটামোটি ব্যবসা সফল ছিলো।

মুভির নির্মান ব্যায় ৭০ মিলিয়ন ইউএস ডলারের বিপরীতে এর আয় ছিলো ১৩০.৩ মিলিয়ন  ডলার। ক্রাইম, অ্যাকশন, ড্রামা জনরার ছবিটির ক্রিটিকস প্রতিক্রিয়া সন্তোষজনক ছিলো না। মুভিটির রোটেন টোম্যাটোজে রেটিং মাত্র ৩৯%। আইএমডিবি রেটিং – ৭.৭/১০।

একজন সাবেক সিআইএ অপারেটিভ (ডেনজেল) মেক্সিকো সিটিতে এক ধনাঢ্য পরিবারের ৯ বছরের কন্যা সন্তানের নিরাপত্তার দ্বায়িত্ব পান। কিন্তু মেয়েটি একটি পেশাদার অপহরনকারী ঘোষ্ঠী দ্বারা অপহৃত হয়। প্রচণ্ড রকম আহত হয়েও সে মেয়েটির অপহরন ফেরাতে পারে না। ড্যানজেল কর্তৃক মেয়েটিকে অপহরনকারীদের হাত থেকে উদ্ধার ও প্রতিশোধ প্রচেষ্টার উপর মুভির গল্প এগিয়ে যায়।

  • আই লাভ ইউ, ম্যান: আই অব দ্য টাইগার (১৯৮৬)

মাসুদ রানার ৩ খন্ডের ‘আই লাভ ইউ ম্যান’ পর্বটিকে সিরিজের দ্বিতীয় সমাদৃত পর্ব বলে মনে করা হয়। আশির দশকের গোড়ার দিকে বইটি প্রকাশিত হয়। আই লাভ ইউ ম্যানে যে গল্পটি অবলম্বনে লেখা হয়েছে তার সাথে ১৯৮৬ সালে নির্মিত হলিউডি ‘আই অব দ্য টাইগার’ ছবির গল্পের হুবুহু মিল না থাকলেও মটো আর থিমে সামঞ্জস্য আছে।

কারাগার থেকে বাড়ি ফিরে, একজন সাবেক ভিয়েতনাম যুদ্ধ ফেরত বৃদ্ধ দেখেন তার শহরটি একদল হিংসাত্মক মোটরসাইকেল গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে। এদের বিরুদ্ধে তার লড়াইয়ের পটভূমিতে অ্যাকশন-ড্রামা জনরার ছবিটি এগিয়ে যায়। অনেক আগের ছবি। তাই রেটিং কম। আইএমডিবি রেটিং মাত্র: ৫.৭/১০। তবে ছবির শুরু ও শেষে ‘সারভাইভার’ ব্যান্ডের বিখ্যাত ‘আই অব দ্য টাইগার’ গানটির সংযোজন একে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।

https://www.mega888cuci.com