ওরা কারা যারা মাশরাফির নেগেটিভিটি খোঁজে!

দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে খেলেছেন মাশরাফি বিন মুর্তুজা – এই বিষয়টা কারো অজানা নয়। পায়ের হাঁটুতে ব্যথা পেয়ে খেলার মাঠে কাতরেছেন, তারপর ও খেলা চালিয়ে গেছেন!

বলেছেন, দেশের মানুষ তাকিয়ে আছে তার দিকে, খেলার দিকে, বিজয় দেখতে চায় তারা।

প্রায়ই নানা রকম সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশের সত্যিকারের হিরো তিনি নন, সত্যিকারের হিরো হচ্ছেন কৃষকরা, সত্যিকারের হিরো হচ্ছেন বিদেশে থাকা শ্রমিকরা যারা পরিবারের মায়া ভুলে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে নিজে খেয়ে না খেয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য সময়মত টাকা পাঠান, সত্যিকারের হিরো তারা যারা শ্রম দিয়ে ইটের প্রাসাদ বানান, রাস্তা তৈরি করেন!

তার কাছে ক্রিকেট হচ্ছে প্রেম, ভালোবাসা।

তিনি বলেছেন, ‘যদি ক্রিকেট একটি খেলা হিসেবে দেখেন, আমার জীবনে, পরিবারের পর ক্রিকেটই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর যদি দেশকে যোগ করে দেন, দেশের ক্রিকেট বোঝালে, সেটি আমার কাছে পরিবারের চেয়েও আগে।’

মাশরাফিকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, নতুন করে জীবন শুরু করতে বললে তিনি কি করতে চান বা কি হতে চান?

উত্তরে তিনি বলেন, ‘ডাক্তার হতে চাইতাম। আমার মতে, সবচেয়ে মহৎ ও সবচেয়ে জরুরি পেশা। মানুষের জীবন বাঁচানোর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কী হতে পারে! অবশ্যই জান-প্রাণের মালিক আল্লাহ, কিন্তু ডাক্তাররা হলেন উসিলা। ক্রিকেট বা ক্রিকেটারকে আমি এখানে তুলনায়ই আনতে চাই না।’

ডাক্তারের কাজ বা হাসপাতালের রোগীদের চিকিৎসা সেবার কথা বারবারই তিনি বলেছেন বিভিন্ন জায়গায়। তাই তো তিনি গত বৃহস্পতিবার তাঁর নির্বাচনী এলাকায় দুপুর সাড়ে তিনটা থেকে সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত টানা দুই ঘণ্টা নড়াইল আধুনিক সদর হাসপাতালে ঝটিকা সফর করেন মাশরাফি।

তখন হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তারদের অবস্থান জানতে হাজিরা খাতা চেক করেন তিনি। হাজিরা খাতায় সার্জারি চিকিৎসক সিনিয়র কনসালটেন্ট ডাক্তারের তিন দিনের অনুপস্থিতি দেখে ছুটির আবেদন দেখতে চান তিনি। পরে জানতে পারেন ছুটি ছাড়াই সেই চিকিৎসক তিন দিন অনুপস্থিত রয়েছেন!

এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে মাশরাফি প্রথমে রোগী সেজে ওই চিকিৎসককে ফোন করেন, তখন চিকিৎসক তাকে রোববার হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিতে বলেন।

এ সময় নিজের পরিচয় দিয়ে মাশরাফি ডাক্তারকে বলেন, ‘এখন যদি হাসপাতালের সার্জারি প্রয়োজন হয় তাহলে সেই রোগী কী করবে?’

এছাড়া হাসপাতালের নারী ও শিশু ওয়ার্ডে রোগীদের সাথে কথা বলে তাদের কাছ থেকে নানা ধরনের সমস্যা শোনেন মাশরাফি। ওই সময় পুরো হাসপাতালে মাত্র একজন ডাক্তারের উপস্থিতি দেখতে পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’!

সদর হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে মাত্র ২ জন নার্স দেখে তাদের ডিউটির ব্যাপারেও খোঁজ নেন এ ক্রিকেটার। জানতে পারেন হাসপাতালে পর্যাপ্ত নার্স থাকলেও ২-১ জন নার্স দিয়েই বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিচালিত হয়!

হাসপাতালের চিকিৎসক সংকট থাকলেও নার্সের কোনও সংকট নেই। ৭৩ জন নার্স রয়েছে ওই হাসপাতালটিতে।

অনেকেই হয়তো এর মধ্যে ও নেগেটিভিটি খুঁজে বের করে বলবেন, লোক দেখানোর জন্য এসব করছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের এ অধিনায়ক। চাইলেই কিন্তু মাশরাফি সংসদ সদস্য হয়ে যাওয়ার পর স্বাভাবিক রীতি মেনে আয়েশের জীবন বেছে নিতে পারতেন, নিজের দায়িত্বের কথা ভুলে থাকতে পারতেন। কিন্তু, তিনি সেটা করেননি। বিশ্বকাপের আগে কড়া অনুশীলনের মাঝে দু’দিনের ছুটি পেয়েই তিনি ছুটে গেছেন নিজের নির্বাচনী এলাকায়।

মাশরাফির এমন ভূমিকার প্রশংসা হয়তো অনেকেই করবেন না। যারা করবেন না তারাও না হয লোক দেখানোর জন্য হলেও আপনার কাজটি আপনি ভালভাবে করুন, নিজেকে পাল্টে ফেলুন। দেখবেন দেশ পাল্টে যাবে, পাল্টে যাবো আমরা!

https://www.mega888cuci.com