বইয়ের ওপর বসা মারজুক রাসেল: একটি পবিত্র দৃশ্য!

অনেস্টলি স্পিকিং―এবারের বইমেলার সবচেয়ে স্পেশাল ব্যাপার হল, মারজুক ভাইয়ের বই : দেহবণ্টনবিষয়ক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর। তিনি যে আলসেমি কমিয়ে বই করেছেন, বইমেলায় যাচ্ছেন, অটোগ্রাফ দিচ্ছেন―এটাই স্পেশাল ব্যাপার। তার বইয়ের জন্য পোলাপাইনের লাইন দেখে অনেকে কথা বলছেন।

সেসব কথার কিছু এরকম ― এরা তো কবিতার পাঠক না। ফেসবুকে দেয়া আদি রসাত্মক স্ট্যাটাসের ফ্যান। নাটক-সিনেমার দর্শক ইত্যাদি। বিশ্বাস করুন, তাতে মারজুক ভাইয়ের কবিতার কিছু যায় আসে না। তিনি আগাগোড়া কবিই। তিনি ‘জরুরি কবিতার কাজে নিয়োজিত’।

আর বইমেলায় যে ‘লাইন’ দেখে আপনারা গসিপ করছেন, এটা একদিনে হয়নি। এটা তাকে তৈরি করতে হয়েছে। অথচ আজফার হোসেন স্ট্যাটাস দিয়েছেন, মারজুক রাসেল কে? … আপনারা উত্তর দিতে লাগলেন।

হায়রে! এই তো বছর কয়েক আগে ৯৮/৯৯ সালের কোনো একটা ছবি আপলোড করলেন ব্রাত্য রাইসু। ক্যাপশনে লিখলেন, মারজুককে তখন আমরা পাত্তা দিতাম না।… এইগুলা হজম করেই তিনি দাঁড়িয়ে আছেন।

মারজুক ভাই কারো নিন্দা করেন না। তিনি নিজের খেয়ালে থাকেন। আপনারা যখন রবীন্দ্রনাথকে নিচে নামান, নজরুলকে উপরে … তিনি তখনো বিরক্ত হন। তিনি আপনাদের দলের লোক না। তার নিজের লেখাতেই আছে : ‘যে কোনো নদীর ধারে, একাকি রাতের আঁধারে, দাঁড়িয়ে শুনেছে যে জলকান্না―সে তোমার দলে যাবে না’।

হ্যাঁ, গান লিখে তিনি প্রচুর মানুষের কাছে পৌঁছেছেন। ফেসবুক কিংবা অভিনয়ের মাধ্যমেও। কিন্তু তার কবিতার সঙ্গে পরিচয় না থাকলে এটার দায় আপনাদেরই নিতে হবে। আমি তো তাকে চিনি। সেই কবে প্রথম আলোতে তার ‘বউ’ নামে একটা কবিতা পড়েছিলাম। তারও আগে কলেজ লাইফে―’ডাঙর ঢেমনি এইখানে আয় / তর্জনীতে কাদা মেখে, তোর কপালে পরিয়ে দিই, বিঘা বিঘা সুন্দরের টিপ’। এগুলা তো কবিতাই।

মারজুক ভাই আমাদের ফাইনেস্ট স্টোরিটেলারদের একজন। শুধু ‘সুর্য ডাকে আমার রোদে চুল শুকাতে আসো না’ পড়লেই সেটা বোঝা যায়। আমার প্রকাশিতব্য বই রাউলাতে আমি তাকে একটা কবিতা ট্রিবিউট দিয়েছি। কারণ আমি মানুষ হিসাবে তার ফ্যান।

আপনি যদি কখনো তার সাথে দেখা করতে যান, ফেরার পর ঠিক সময়ে না হলেও মধ্যরাতে তার ফোন পাবেন। তিনি সেই ট্রেডমার্ক স্টাইলে বলবেন, কী রে, পৌঁছাইছছ? এই ম্যানার ঢাকা শহরের বেশিরভাগ নাগরিকের নেই।

মারজুক ভাইকে আপনাদের অনেকরকম লাগতে পারে। লাগুক। তিনি বইয়ের উপর বসেছেন, এই ছবি আপনাদের খারাপ লাগতে পারে! আমার লাগেনি। উল্টো পবিত্র দৃশ্য মনে হয়েছে। আমি জুতার স্ট্যান্ড, কমোডের ফ্ল্যাশ ― নানা জায়গায় বই রেখে দেখেছি। এই দেখা থেকেই জানি, পৃথিবীতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মানুষের জীবন। বই না।

https://www.mega888cuci.com