মহর্ষী: সাকসেস ইজ আ জার্নি

ছোটবেলার স্কুল বইয়ে শুনতাম বাংলাদেশের শতকরা ৮০% লোক কৃষি কাজের সাথে জরিত। এখনো আছেন অনেকে তবে সংখ্যাটা কমে গেছে।এহ, তাতে কি ভাই? আপনি আমি তো শহরের নামীদামী প্রতিষ্ঠানে বেশ ভালো বেতনের চাকরি করি।

গ্রাম কি ভুলেই গেছি কৃষি আর কৃষক তো বইয়ের গল্প মাত্র। দেশের চাল, ডাল সহ খাদ্য দ্রব্যের দাম বেড়ে গেছে। জিনিসের চাহিদা বেড়েছে কিন্তু উৎপাদন কমে গেছে। কমবেই না কেন বলুন আমনা তো এখন কৃষি কাজ করি না। এগুলোতে টাকা ইনকাম হয় না। এগুলো করবে গ্রামে পড়ে থাকা অশিক্ষিত লোকেরা।

তাদের চিন্তা আমরা কেন করবো? আমাদের হাতেই তো ডিজিটাল বাংলাদেশ। কৃষকশ্রেণীর কথা আমরা চিন্তা করি না। কৃষি নিয়েও করি না। মোটা অংকের টাকা থাকলেই তো চাল ডাল কিনতে পারি। তাহলে ওসব নিয়ে চিন্তা করবোই বা কেন? চিন্তা করিনা বলেই আজ খাদ্যদ্রব্যের মূল্যের উর্দ্ধগতি। কেউ কৃষকের সঠিক মূল্যায়ন করেই না। কৃষকের মূল্য না দিলে কৃষকরা হালচাষ করা ছেড়ে দিবে তখন আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে।

ক’জন চিন্তা করে বলুন? আমার বাড়ির আশা পাশের ফসলা জমি গুলো আস্তে আস্তে বাড়ি ঘরে পরিণত হচ্ছে। উন্নত হচ্ছে চারিদিক কিন্তু কৃষকের সঠিক মূল্যায়ন নেই আমাদের কাছে। এভাবে যদি আমরা কৃষকের চিন্তা না করি তাহলে এক সময় কৃষি আর কৃষক আমাদের কাছে ইতিহাস হয়ে যাবে। বইয়ের পাতা ছাড়া তাদের পরিচয়, কার্যকম আর টিকে থাকবে না। বেঁচে থাকাটা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।

কৃষিকে উপজীব্য করে তেলেগু ভাষায় নির্মিত ছবিটির নাম ‘মহর্ষী’। মানে মহান যে ঋষি। ঋষি চরিত্রে মহেশ বাবু একধারে, ট্যালেন্টটেড স্টুডেন্ট, বন্ধু দের মধ্যমণি, মেয়েদের সাথে দুষ্টুমি, বাইরের রাষ্ট্রে বড় কোম্পানির সিইও, মধ্যবিত্ত পরিবারে উচ্চ স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকা এক যুবক ও সমাজের স্বার্থে লড়াই করা এক সংগ্রামী চরিত্রে অভিনয় করেছেন। গল্পটা আমার খুব ভালো লেগেছে। খুব সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে গল্পটা কে। বিজিএম, মেকিং সব কিছু মিলিয়ে আমার কাছে ভালো লেগেছে মুভিটা।

  • প্লট

মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে ঋষি তাঁর কঠোর পরিশ্রমের ফলে আমেরিকার অরিজিন কোম্পানির সিইও পদ লাভ করে। বন্ধু কান্না ঋষিকে সারপ্রাইজ দেয়। ঋষির ব্যাচের সবাই উপস্থিত একটা পার্টি দেয়। সেখানে সবাই ছিলো শুধু দু’জন ছাড়া – পূজা আর রবি। প্রফেসরের কাছে রবির কথা শুনে ঋষি তাঁর সাথে দেখা করতে যায়। এখান থেকে শুরু হয় ভামসি পাইদেপাল্লী নির্মিত ‘মহর্ষী’র মূল গল্প।

  • অভিনয়

মহেশ বাবু তেলেগু মুভির সুপারস্টার। ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন ঋষি চরিত্রে। তাঁকে নিয়েই মুলত পুরো ছবি সাজানো হয়েছে। তিনিই ছবির প্রাণ। ‘সাকসেস ইজ আ জার্নি’ – স্রেফ এই সংলাপটা শোনার জন্য হলেও বারবার ছবিটা দেখা যায়।

নায়িকা হিসেবে পূজা হেগড়ে দিন দিন ‍উন্নতি করছেন। আর প্রকাশ রাজ লোকটাকে যত দেখি ততই প্রাণ ভরে যায়। তাঁর অভিনয়ের প্রশংসা করাটাই যেন শেষ কথা নয়।১০-এ ১০ দিতে বাধ্য আমি তাঁর অভিনয়ের জন্য। মুভিতে তিনি ঋষির বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন। আমাকে কাঁদিয়েছেন তিনি। ব্যস এতটুকুই বললাম।

জানি, আমার কথা বা এই ছবিতে দেশ পরিবর্তন হবে না। তবে আমরা একজন দু’জন করে পরিবর্তন হলেই দেশ পাল্টাবে। কৃষি ব্যবস্থা আর কৃষকদের দুরাবস্থাই মুভির অন্যতম প্রধান দিক। নিজের মাটির জন্য লড়াই করে টিকে থাকা প্রতিটি কৃষক আমাদের সম্পদ।

https://www.mega888cuci.com