ভয়াবহ এক ট্রল প্রজন্মের সাথে বসবাস

২০১৫ সালে একবার দু’টা দিন মাশরাফিকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল। ক্রিকেট নিয়ে, জীবন নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে অনেক কথা তাঁর মুখ থেকেই সরাসরি শুনেছিলাম।

নিজের চিন্তাধারার সাথে তাঁর যে কথাটা হুবহু মিলে গিয়েছিল সেটি হচ্ছে একজনের সাথে আরেকজনের তুলনা না করা।

তিনি বলেছিলেন, যেই ক্রিকেটারটা কোনদিন জাতীয় দলের ধারে-কাছেও আসেনি সেই ক্রিকেটারের জীবনেও অনেক সংগ্রাম থাকে। অনেক বাঁধা-বিপত্তি পার হয়েই তাকে একটা পর্যায় পর্যন্ত আসতে হয়েছে। হতে পারে সেটা সেকেন্ড ডিভিশন, হতে পারে সেটা প্রিমিয়ার লিগ কিংবা বিপিএল।

তাই একজন সাকিব আল হাসানের সাথে তুলনা করে একজন ফরহাদ রেজাকে উপহাস করার কোন যৌক্তিকতা নেই।

একজন মোহাম্মদ মিঠুন যে বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট খেলছেন, সেটা তিনি নিজেই অর্জন করে নিয়েছেন। কোন বিশেষ সুবিধার মাধ্যমে তিনি জোর করে ইন্টারন্যাশনাল লেভেলে খেলছেন না। অথচ দিনের পর দিন তাঁকে নিয়ে নোংরা ট্রল করা হচ্ছে।

যেই তামিম ইকবাল বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান, টি-টোয়েন্টিতে ব্যর্থতার জন্য সেই তামিম ইকবালকে বিসিএলে ট্রিপল সেঞ্চুরি করেও নোংরা কথা শুনতে হচ্ছে।

একজন খালেদ মাহমুদ সুজন এডমিনিস্ট্রেটর হিসেবে খারাপ হতে পারেন। হতে পারে তিনি ক্যাসিনোতে যান বলে আপনার তাকে অপছন্দ(যদিও হয়তো আপনি নিজেই নিয়মিত সুদ খান, মাঝে মাঝে মদ খান)। কিন্তু, ক্রিকেটার হিসেবে সীমিত সামর্থ্য নিয়েই তিনি তার সময়ে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ছিলেন। তিনি কখনো নিজেকে ব্রেট লি, শোয়েব আকতারের মত ফাস্ট বোলার দাবি করেননি। সেই তাঁকেই আপনারা গতিদানব আখ্যা দিয়ে ছোট করেন।

পাশের বাসার যেই আন্টিকে আপনি অপছন্দ করেন, কারণ তিনি অন্য সফল ছেলে-মেয়েদের উদাহরণ দিয়ে আপনাকে আপনার বাবা-মায়ের সামনে বিপাকে ফেলে আপনি নিজেই তো সেই পাশের বাসার আন্টির চেয়েও জঘন্য!

ইন্টারন্যাশনাল পেজগুলোতে গিয়ে পর্যন্ত খালেদ সুজনকে নিয়ে আজে-বাজে কমেন্ট করে নিজের দেশকেই ছোট করে আসছেন। সেই আপনিই খুব দেশপ্রেমের বুলি আউড়িয়ে ক্রিকেট নিয়ে ফেসবুক গরম করে ফেলেন!

এই আপনাদের আসলে ব্যক্তিগত জীবনে কোন অর্জন নেই, বলার মত কোন সাফল্য নেই। এগুলো নেই, সেটাও আসলে বড় কোন সমস্যা না যদি আপনি নিজের অবস্থান নিয়ে নিজে সন্তুষ্ট থাকতেন। সমস্যা হচ্ছে, আপনি আপনার ব্যক্তিগত হতাশা থেকে অন্যকে ছোট করে অসুস্থ পুলক লাভ করেন।

হয়তো কেউ মাসের পর মাস আপনার হাজার হাজার পাওনা টাকা আটকে রেখেছে। আদৌ সেই টাকা কখনো পাবেন কি না তারই নিশ্চয়তা নেই। অথচ তাকে কিছু বলতে না পেরে আপনি সামান্য ৫/১০ টাকার জন্য রিক্সাওয়ালাকে কিংবা বাসের কন্ডাকটরকে চড় মারছেন!

এভাবে আসলে আপনি দিনের পর দিন নিজের সাথেই নিজে প্রতারণা করছেন। আপনি আসলে মানসিকভাবে অসুস্থ। আপনার চিকিৎসা দরকার!

https://www.mega888cuci.com